রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১০

হিজাবজনিত বিড়ম্বনা

আমি আমার এক বান্ধবিকে এই সাইটের ঠিকানা দিলাম, বেহায়ার মতো বললাম আমিও লিখি এখানে, যাই হোক একটা গোপন ইচ্ছা ছিলো আমাদের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তুলে ধরবো, একটু ভয়ে ভয়ে আছি, পরে না গোপন খবর ফাঁস করার দায়ে বন্ধু বন্ধুতে ঝামেলা তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ঘটনা দিয়ে শুরু করি, সবাই স্মৃতিকথা লিখে ফেলছে আমি পিছিয়ে পড়তে চাইছি না,
আমার বসবাস ছিলো দিনাজপুরে, সেখানে আমি জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছি, মাঝে কিছুটা সময় ঢাকায় ছিলাম, সেখান থেকে এস এস সি শেষ করে আবার প্রত্যাবর্তন করেছি দিনাজপুর।
এটা আমার আবাল অবস্থার গল্প। সম্ভবত 6ষ্ঠ কিংবা 7ম শ্রেনীর গল্প এটা।
তখন ঈদ মানে ছিলো মাহাহুলুস্থুল একটা বিষয় জীবনে, তেমন এক ঈদে দোকানে গেছি জুতা কিনতে, আমি একেবারে রোবট শ্রেনির মানুষ, একই মাপের এবং একই ধাঁচের পোশাক পড়ে অভ্যস্থ, তখন বাটার চপ্পল পড়তান, চামড়ার চটিও সেই 195.50 টাকার বাটা। এবং যেহেতু একটা ধাঁচের জিনিষ কিনতাম তাই বাছাবাছি জনিত জটিলতা নেই, সোজা দোকানে ঢুকো জিনিষ উঠাও, দাম দাও বের হয়ে আসো।
দোকান থেকে বের হয়েই দেখি মাথায় ঢাকনি দেওয়া এক মেয়ে দাড়িয়ে। দিনাজপুরে হিজাবের প্রচলন হয় নি তখনও, আমি প্রচুর বোরখাবৃত মহিলা দেখছি, মেয়েরা বোরখা পড়তো না, এই রকম মহাব্যাধি ছিলো না। আমরা যারা সদ্য অন্য আলোকপ্রাপ্ত হচ্ছি ক্লাশের দামড়া ছেলেদের কাছে তাদের অনেক কিছুই দেখে বুঝে নেওয়ার সুযোগ ছিলো। দেখলাম সেই মহিলার চুলের পর্দা সরে গেলো, মহিলার মাথার তালু বরাবর টাক,
মেয়েদের টাক হয় এই অদ্ভুত সত্য আমার জানা ছিলো না, আমি উত্তেজনায় মা কে বললাম মা সামনের মহিলার মাথায় টাক, প্রতিদান হিসেবে একটা থাপ্পর জুটলো কপালে আর মৃদু হুমকি বাসায় চলো দেখাচ্ছি, বেয়াদপ কোথাকার, মান সম্মান নিয়ে টানাটানি পরে যাবে তোকে নিয়ে বাইরে বের হলে।
আমার বৈজ্ঞানিক মন তখন থেকেই হিজাব এবং টাকের সমীকরণ মিলিয়ে ফেলে।
আমি পরবর্তিতে হিজাবের মুখোমুখি হই বিশ্ববিদ্যালয়ে, এক সুন্দর মতো মেয়ে ছিলো, মাথায় হিজাব পড়ে ঘুরতো, বেশ কিউট ছিলো( দুঃখ হলো পড়ে বদখত এক বড়ভাইকে প্রেম সমেত বিয়ে করে ফেললো ) আমি ল্যাব রুমে তাকে গিয়ে বললাম আচ্ছা তোমার মাথার চুলে তো মনে হয় কোনো সমস্যা নেই, তাহলে হিজাব পড়ো কেনো?
আমার কেনো জানি মনে হয় তোমার মাথায় টাক আছে,
আগার উপর মেয়ে সেই বিলা হইলো এর পর অনেক দিন কথা বলে নি আমার সাথ।

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০


  • ১৭ টি মন্তব্য
  • ৫৮৯ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print

রেটিং দিতে লগ ইন করুন

পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

২. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৫:০৩
অতিথি বলেছেন: তুমি তো দেখা যায় আশৈশব বদ । মাইনসেরে রাস্তা ঘাটে টাউকা কইছ....
৩. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৫:০৩
অতিথি বলেছেন: রাসেল,
অনেকদিন আগের একটা চুটকী মনে করিয়ে দিলেন। আমি হিমুর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তার মতো হবে না। 2য় বিশ্বযুদ্ধের পর, রাশিয়ান এক সৈনিক অতি ক্লান্ত হয়ে বাড়ী ফিরছে। সৈনিকটি তার শহরের কাছাকাছি আসার পর রাত হলো। তাই বিশ্রামের জন্য বাসায় বাসায় গিয়ে বলছে, একটু রাত কাটাতে পারে কি না? যে বাসায় জিগ্যেস করে,তারাই বলে আমার বাসায় বড়ো মেয়ে আছে। তোমাকে রাখা যাবে না। অনেক বাসার থেকে বিফল হয়ে বুদ্ধি ঠিক করল, যে বাসায় মেয়ে নেই তারাই তাকে রাতের আশ্রয় দিবে। তাই এর পরের বাসায় গিয়ে জিগ্যেস করে, "আপনার বাসায় কি কোন মেয়ে আছে? বাড়ীর মালিক বলে, কেন? সৈনিক বলে, "ঘুমাব, তাই"। বাকী অবস্থা কি হলো ভেবে নিন...
৪. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৫:০৩
অতিথি বলেছেন: ফলো আপ- অনেক দিন পর ছবি দেখলাম - বিবাহের পর তার মাথার হিজাব হাওয়া হয়েছে, এবং তার মাথার চুল সুন্দর, কোনো টাক নেই।

আড্ডা একটা কৌতুক মনে পড়লো,

রাশিয়ান এক বাসায় এক লোক রাত্রিবাসের অনুমতি চাইলো, গৃহকর্তা বললেন ঘরে মেয়ে আছে, লোকটা বললো ভয় নেই আমি কমিউনিস্ট।
পরদিন সকালের কথা, সেই অতিথি গৃহকর্তার খোয়ারে দেখে এক মুরগি 2টা মোরগ, সে গৃহকর্তাকে বললো কি ব্যাপার তোমার খোয়ারে 2টা মোরগ একটা মুরগি, কোনো সমস্যা হয় না।
গৃহকর্তা বললেন, নাহ সমস্যা হয় না, একটা মোরগ কমিউনিস্ট/
৬. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:০৩
অতিথি বলেছেন: হা হা, কিন্তু আপনি কমিউনিস্ট ছিলেন না বুঝেই বেচারী আপনার উপর বিলা হলো, হা হা
৭. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৭:০৩
৮. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৮:০৩
অতিথি বলেছেন: মায়ের হাতে বেমক্কা একটা থাপপর খাওয়ার পর ছোট্ট রাসেলের চেহারাটা কেমন হয়েছিলো তা ভেবে খুব হাসি পাচ্ছে। কৌতুকটাও হইছে চুখাছ। :)
৯. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:০৩
অতিথি বলেছেন: হা হা হা হা হা হা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পড়া মেয়ের সংখ্যা আমি দেখছি খুব বেশি হইলে 10 জন, কয়েকটা ডিপার্টমেন্টে একটাও নাই, আইচ্ছা হিজাব পইড়া কি মানুষ ঘুমাইতে যায়?
১০. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:০৩
অতিথি বলেছেন: হা হা হা হা হা হা সাধক পুরুষ, সব সময় ইহকাল পরকালের নিরাপত্তা নিয়া চিন্তিত।
হা হা হা হা হা
কি রকম হেলমেট পড়তে হবে?
কোন ডিজাইনারের হেলমেট বেশি কমফি??
১১. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:০৩
অতিথি বলেছেন: পূণাঙ্গ নারী!
আপনে হিজাব পইরা শান্তি পাইলে পড়েন । আরও ভালো হয় হেলমেট পড়লে..টাক দিতে পারবেন......
১২. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:০৩
অতিথি বলেছেন: আপনার মতো বেকুব অহরহ দেখি ভাই। আমারে জিগায়... আচ্ছা তুমি কি এটা পরে ঘুমাতে যাও? আচ্ছা তুমি কি এটা পরে গোসল করো? কমনসেনসের অভাব! আজিব!
১৩. ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:০৩
অতিথি বলেছেন: আমেরিকান ফুটবল বা বেসবলের কিপার গো সু্যট পড়লে আর চিন্তা নাই
১৪. ১৭ ই জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
মদন বলেছেন: ভাইরে
আপনারা হিজাব নিয়া লাগছেন কেন?
মুসলিম যে কোন নারীর পর্দা রক্ষা করা ফরজ সেটা হিজাব হোক আর যাই হোক।
আর যারা মুসলমান না তারা আপত্তি করতেই পারেন কিন্তু এ নিয়ে তামাশা করা মানে যারা এর বিশ্বাসী তাদের বিশ্বাসে আঘাত করা।
১৫. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:০৬
অতিথি বলেছেন: মদন ভাই, আসলে যারা হিজাব নিয়া তামাসা করে তাদের এথিক্সের বড় অভাব। এদের দোষ দিয়া তো লাভ নাই, এদের ফ্যামিলি কন্ডিশনটাই এরকম। পারলে এদের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডটা জাইনা নেন। দেখবেন- সবকুচ গরবর হে।
১৬. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৯
আজকাল বলেছেন: মুহাতারাম সুপ্ত সবুজ,
আপনার নিজেরটা বলেন, শুনি//
১৭. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১:৪৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন