সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১০

ব্লাসফেমী

মানুষের যুক্তির অসারতায় আমি এখনও বিস্মিত হই। হয়তো মানুষের বিবেচনাবোধ সামান্য উন্নত হবে নিয়ত চর্চায় এই আশা এখনও গোপনে মাথায় রাখি বলেই হয়তো এমন বিস্মিত হওয়া। তবে আবু মুস্তাফিজের মন্তব্যটা এখন ঝুলিয়ে রাখি পটভূমিতে। ভুদাই বড় হইলেও ভুদাই হওন ছাড়ে না।
ছোটো বেলায় কিছু হইলেই শুনতাম" ভালো মানুষের বাপ আঁটকুরা।"
আঁটুকুরা শব্দের অর্থ জানলাম পরে, যার সন্তান জন্ম দেওয়ার সামর্থ্য নাই সেই আঁটকুরা হয়। দ্্বিমুখী ছুড়ি এটা। অর্থ হয় এমন- ভালো মানুষ জন্মায় না, কারন এমন কোনো মানুষ নেই যারা ভালো মানুষের জন্ম দিতে পারে। অন্য অর্থটা হলো ভালো মানুষেরা সব বেজন্মা হয়।
তবে ভালো মানুষের বাপ আঁটকুরা শব্দটার সাথে সবচেয়ে বেশী মিল পাই আমি যীশুর। বেচারা ভালো মানুষ ছিলো এটা সবাই স্ব ীকার করে নেয়। মানুষের মাঝে প্রেম বিলাইতে নিতাই আসছিলো নদীয়ায় সেটাও 1500 সালের দিকের ঘটনা। এর আগে মানে 1500 বছর আগে যীশু এসেছিলো বিশ্বে প্রেম বিলাইতে। বিলাইবো প্রেম জনে জনে- এমন একটা ধারনাও তৈরি করেছিলো সে। কতটা সত্য এ ধারনা জানি না। তবে আমার যে কয়জন ধর্মানুরাগী বন্ধু আছে তাদের কাছে শুনে এমনটাই ধারনা হয়েছে আমার।
অন্য একটা প্রবাদ মনে পড়ছে এখন- প্রবাদ না ঠিক বাস্তবতা- কাকের বাসায় কোকিলের ছা- যারা কখনই আপন হয় না। কোকিল বেচারা চাল্লু জিনিষ বলতে হবে, কাউয়ার বাসায় গিয়া ডিম পাইড়া আসে, কাউয়া নিজের সন্তানের মতো পাইলা পুইষ্যা বড় করে এর পর একদিন কোকিল বেচারা কুহু কুহু করতে করতে উড়াল দেয়- স্বজাতির স্বভাব ছাড়ে না তবে স্বজন বিরোধীও কওয়া যায় তাদের।
আবু আলিবের কথা মনে পড়ে এসময়ে। বেচারা অনেক কষ্ট কইরা মুহাম্মদরে পালছিলো। অনেক পরিশ্রম করছে, শেষ পর্যন্ত বংশের দোহাই দিয়া মুহাম্মদরে রক্ষা করছে- কিন্তু মোহাম্মদ ঠিকই তাই পোলারে বিপথগামী করলো। স্বজাতির বিরুদ্ধে লড়তে বাধ্য করলো ধর্মের দোহাই দিয়া।
বেচারার কপালে বেহশত নসীবও হইলো না। মুহাম্মদ বেহেশতের ঠিকাদারি নিছিলো এইটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। যারে তারে বেহেশতের টিকেট দিয়া দিতো, হাতে ক্ষমতা থাকলে আমিও দিতাম, যে চাইতো তারেই দিতাম, এত ঝামেলায় রাখতাম না , সবাইরেই বেহেশতে পাঠাইতাম। জীবনটা কষ্টে সৃষ্টে কাটাইতাছে। তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন করতে পারি নাই কিন্তু তাদের মৃতু্যপরবর্তি সময়ে একটা ভালো জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দিতে পারতাম।
এই কোকিল ছানা মুহাম্মদকে আবু তালিবকে গছিয়ে দিলো কে? তার মাতা? তার দাদা? তার জন্মের পূর্বে মরে যাওয়া বাবার প্রতি মুত্তালিবের স্নেহ? ভাতৃসন্তানের প্রতি প্রেম না কি সেই সময়ে হিব্রু ভাষীদের ভেতরে প্রচলিত ট্যাবু? ভাইয়ের মৃতু্যর পর সন্তানের দেখভাল করা- এই সেমেটিক ধারনা- যে ভাইয়ের মৃতু্যর পর তার বৌকে দেখে রাখা দায়িত্ব ভাইদের। বাইবেলে নিশ্চিত ভাবেই এদের বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষিত- যারা তাদের ভাইয়ের বিধবাকে বিয়ে করে সন্তান উৎপাদন না করে তাদের প্রতি ফেরেশতাদের লানত বর্ষিত হয়। সেই রকম কোনো সূত্রে হয়তো আবু তালিবের মুহাম্মদের প্রতি স্নেহ ভাব জাগরুক হইছিলো।
আমরা সামাজিক প্রথার দাসত্ব করি। এমন সেমেটিক প্রথার উত্তরাধিকারি কুরাইশ বংশ। তারা বনিঈ ইসরাঈল। ইব্রাহিমএর উত্তর পুরুষ। সেই বনিঈ ইসরাঈল গোত্রের মধ্যে এইসব বিবাহবিষয়ক সামাজিক প্রথা বিদ্যমান ছিলো। এইসব প্রথা না পালন করার জন্য সামাজিক ভাবে হেয় করার উদাহরনও প্রচলিত ছিলো।
তবে যাই হোক ভাইয়ের ছেলে কিংবা সামাজিক প্রথা অনুযায়ি তার হবু স্ত্র ীর সন্তানের প্রতি স্নেহটা আজীবন বহাল ছিলো এমনটাই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।
তবে পর কখনও আপন হয় না। যম জামাই ভাগনা তিন নয় আপনা প্রবাদের বাইরেও আরও একটা প্রবাদের জন্ম হয়ে উঠতে পারে
ভালো মানুষের বাপ আঁটকুরা, যীশু ভালো জানে লোকে
কাকের বাসায় কোকিলের ছানা- কুহু কুহু সুরে ডাকে
স্বজন বিরোধি, সমস্যা কি?
আমরা এমন কোকিলের অনুসরন করি অন্ধ ভাবেই।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০


  • ২২ টি মন্তব্য
  • ৩৬৪ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print

রেটিং দিতে লগ ইন করুন

পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

১. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
অতিথি বলেছেন: এইটা ব্লাসফেমী হয় নাই । তবে রসান্ধ কেউ পড়লে কি কইবো জানিনা ।
২. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:০৭
৩. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:০৮
৬. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১৪
অতিথি বলেছেন: সেইটাই কইতে চাইছিলাম, ভুদাই বড় হইলেও ভুদাই হওন ছাড়ে না।
৭. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১৭
অতিথি বলেছেন: সুমন রুবেলের ই মেইল আড্রেসটা দিছিলাম আগের পোষ্টে লইছো, যোগাযোগ করছো নি? হইলে মুইছ্যা ফেলতাম আর কি।
৮. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:২৪
অতিথি বলেছেন: রাসেলকে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ...... নং ধারা মোতাবেক মৃতু্যদন্ড প্রদান করা হলো। যে তার মস্তক বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে আসবে তার জন্য রয়েছে ........ টাকার নগদ পুরস্কার। শীঘ্রই এমন ঘোষণার জন্য তৈরী হন। যাজাকুল্লাহ খায়ের।
৯. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:২৬
অতিথি বলেছেন: রাসেল,
এটা ব্লাসফেমী হলো কি না জানি না কিন্তু বরাবরের মত আবারও বুঝলাম আপনি ইসলামের ক্ষেত্রে এসেই কেন জানি ইতিহাসকে ভীষণ রকমের সরলীকরণ করেন। একটা বই পড়ে নিলে হয় তো উপকার হবে, আপনার লেখক সত্ত্বাকে এই ভাবে অপমান করবেন না সময়ে সময়ে:
Critical lives: Muhammad by Yahya Emerick

আপনি তো আমেরিকা থেকে, এখানে গিয়ে বইটার একটা ফ্রি কপি অর্ডার দিতে পারবেন। আশা করি উপকৃত হবেন।

Click This Link
১০. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৩০
অতিথি বলেছেন: ইতিহাসকে আমি সরল করলাম কই? আমি ইতিহাসের পাতা খুলি নাই- আমি একটা বিকল্পপ্রস্তাবনার মতো সামনে আনছি- এইটা একটা সম্ভবনা হইতেও পারে- যদি এই সেমেটিক প্রথা নিয়া প্রশ্ন থাকে তাহলে তুমি এই বিষয়ে পড়তে পারো। তবে ইতিহাস নামক জিনিষটাকে আমার এই লেখার সাথে জড়াইও না। মহাম্মদ যাকে তাকে বেহেশত দিয়া ফেলতো এইটা ইতিহাস না হাদিসের কথা।
এর বাইরে এমন কোনো ঐতিহাসিক তথ্য এইখানে উপস্থাপিত হয় নাই। যাউকগা আপাতত যেই খানে আছি সেই খানে এই বই নামায়া বাসায় নিয়া যাওয়ার উপায় নাই। তবে পড়বো, পড়ে বলবো নে।
১১. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৩৪
অতিথি বলেছেন: মুহাম্মদ মানুষকে বেহেস্ত দিতো, এইটা কিন্তু হাদীসের কথা না।
১২. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৩৫
১৩. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৩৭
১৪. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৪০
অতিথি বলেছেন: আস্তমেয়ে তোমার আরও মনোযোগ দিয়ে হাদিস পড়া উচিত। কাকে কখন কি প্রসঙ্গে মুহাম্মদ বেহেশত দিয়েছে এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখার সময় এবং আগ্রহ আপাতত নেই আমার। তুমি বুখারি সাহিহ মুসলিম, তিরমিজি দেখতে পারো। সেখানে অনেকেরই নাম পাইবা- এমন তথ্যও পাইবা যে বেহেশত আসলে ছোটো একটা জায়গা 70 হাজার জনের বেশি আটবে না সেই খানে। মুহাম্মদ যাকে তাকে বেহশত দিয়া যেই কয়টা বাকি আছে সিট সেইগুলার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হইবো। আমি এমন ঝামেলার ভয়ে অনেক জায়গায় ভর্তি পরীক্ষাই দেই নাই পরকালের বেহেশতের জন্য লাইন লাগানোও সঙ্গত কারনেই সম্ভব না। তবে তুমি পড়ো, আমল করে দেখো, সামান্য যেই কয়টা সিট বাকি আছে তার একটা দখল করতে পারলে পরকাল ভালোভাবে কাটাইতে পারবা।
১৫. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৪২
১৬. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:০৪
অতিথি বলেছেন: মুহাম্মদ দেয় নাই, আল্লাহ দিছে। হাদীস কোট করবেন যখন সততা নিয়েই করেন, এটাই আমার আর্তি। বেহেস্ত নিয়ে হাদীস আমার খুব ভালো করে পড়া আছে, সীমাবদ্ধ সিটের ধারণা আমি পাই নি।আগে আসলে আগে পাবে এমন শর্তও কোথাও পাই নাই। তবে বেহেস্ত নিয়ে চিন্তায় পড়ার চাইতে আমার ইমিডিয়েট কনসার্ন হলো, আপনার লেখা ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ। মারাত্মক সরলীকরণ।
১৭. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৮
রাগ ইমন বলেছেন: হা হা হ াহ হা হা হা !

রাসেল, একটাই প্রশ্ন, কয়জন বুঝবে?


লেখাটা দারুন!
১৮. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:২৮
অতিথি বলেছেন: আমি ইতিহাস সরল করলাম কোথায় এইটা যদিও বুঝি নাই এখনও। আস্তমেয়ে বেশী বুঝদার মনে হইতেছে, ঠিক কোথায় ইতিহাসটা সরল হইয়া গেলো যা জটিল হওয়ার কথা ছিলো কইলে বুঝতাম। এত কম আই কিউ নিয়া আসা উচিত হয় নাই পৃথিবীতে।
২০. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:২৭
২১. ০১ লা মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:৩৩
টস বলেছেন: Feel sorry for your utter ignorance, For these kind of people Allah has said that their hearts have been sealed. You live your life in any way you want, drink, party , do fun and die without being useful to the universe. রাসেল , আপনার লেখা পড়ে মনে হয় র্ধম সমপর্কে আপনার অতিক্ষুধ্র ধারণা ।
২২. ০১ লা মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:৩৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন