বিপ্লবী নারী সংহতি প্রকাশিত ষান্মাসিক পত্রিকা মুক্তস্বরের প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা হাতে এসেছে। সম্পাদকীয়তে এই পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে সম্পাদনা পরিষদের বক্তব্য " সাম্রাজ্যবাদী- পুঁজিবাদী- পুরুষতান্ত্রিক ব্যক্তিমালিকানা যা নারীকে পরাধীন করে রেখেছে, বৈষম্যের শিকারে পরিণত করেছে সেই কাঠামোকে আঘাত না করে , অটুট রেখে নারী মুক্তির লড়াই কি আদৌ সম্ভব? অতি আবশ্যিক ভাবেই অসম্ভব-"
তাই বিশ্বে উপস্থিত এবং বহুকাল ধরে চর্চিত পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই সেটাকে প্রশ্ন করবার তাগিদ, সংগঠন সৃষ্টি এবং চিন্তা প্রকাশের জন্য এই পত্রিকা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিপ্লবী নারী সংহতির গড়ে ওঠা, বেড়ে ওঠা সহ নারীবাদি আন্দোলনের সহায়ক সকল আলোচনা ভাবনা লিখিত হবে।
পত্রিকার উদ্দেশ্য মহৎ- নারী পরাধীন, অন্যের অধীনস্ততায় তার জীবন কাটে, নারীর অবমাননাও ভীষণ রকম সত্য, ধর্মীয় নৈতিকতার আড়ালে , নানাবিধ ধর্মে চিহ্নে নারীকে আবদ্ধ রাখা হয়েছে- তাদের চিন্তা চেতনার স্বাধীনতায় অবৈধ হস্তক্ষেপের নিরসন হওয়া প্রয়োজন।
যদিও নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা কথাগুলো প্রহেলিকার মতো, আসলে স্বাধীনতার ব্যাখ্যাটা কি? এই স্বাধীনতার লক্ষ্য কি? ভবিষ্যত কি? এবং এই নারীবাদী নীতিমালার রুপরেখা কেমন হবে? অনেক রকম প্রশ্ন আছে। এবং যেহেতু অনেক দিন ধরেই পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোতে জীবনযাপন করি তাই একটা অভ্যস্ত জীবন এবং নৈতিকতা থেকে নারী মুক্তি এবং নারী স্বাধীনতা আমাদের নতুন কোন নৈতিকতায় পৌঁছায় এটা নিয়েও খানিক সংশয় আছে-
এবং অদ্যাবধি একটা নির্দিষ্ট ফর্মার নারীস্বাধীনতার বক্তব্য নেই- সবাই একটা নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে সেই কাঠামোর ভেতর থেকেই স্বাধীনতার বৈশিষ্ঠ্যগুলোকে চিহ্নিত করে- সার্বজনীন কোনো একটা রুপরেখার অনুপস্থিতি একটা সমস্যা, তবে নারীর ক্ষমতায়নের বুলি আউড়ানো পূঁজিবাদী সভ্যতা নারীকে একটা স্বাধীনতার আস্বাদ দিচ্ছে এটাও একটা প্রহেলিকা তৈরি করে। আদতে স্বাধীনতার বক্তব্যটা কি?
ইসলামি মতাদর্শিকতার চর্চাকারী মানুষদের মতে নারীর আত্মসম্মান ও নারী চেতনার বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সংস্কার এনেছে ইসলাম- ধর্ম একটা অবস্থান গ্রহন করেছে- নারী স্বাধীনতা বক্তব্যটা ধর্মের মতো এতটা প্রাচীন নয়, তবে পুরাণে অনেক নারীবাদী চরিত্রকে পাওয়া যায়- এটা ব্যক্তি মানসের কল্পনা কিংবা এটাই বাস্তবতা সব সময়ই প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে চাওয়া কোনো কোনো নারী পুরুষ বিদ্যমান এই সভ্যতায়-
ইসলামী মতাদর্শিকতার চর্চাকারীদের মতে তৎকালীন আরবের উচ্ছৃংখল সমাজ ব্যবস্থায় নারীর অসম্মানের প্রকোপ ছিলো বেশী, নারীকে যৌনতার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হতো, নারীরা নিজেও বেলেল্লাপনা করতো- হজ্জের সময় যে মেলা অনুষ্ঠিত হতো মক্কায় সেখানে মদ আর নারীর নগ্ন নাচ একটা আকর্ষণ ছিলো- ( আহা কবে এমন সময় হবে, তবে আমি চাইবো ইরানী কিংবা ইসরাইলী বালিকা) এবং তারা নানাবিধ আয়াত, হাদীস আর তাফসির তুলে ধরে বলতে চায় আসলে নারী মুক্তির পথই ইসলাম- ইসলাম ছাড়া ইসলামী মূল্যবোধ ছাড়া যারা নারী মুক্তি ও নারি স্বাধীনতার চর্চা করবে তারা আবশ্যিক ভাবেই বেলেল্লাপনার চর্চা করবে- এই বাই ডিফল্ট অবস্থান নিয়ে এটা ঝড়ো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিলো-
তবে সেই পরাধীন অবস্থার ভেতরেও যখন প্রাক ইসলামী সময়ে কণে পণ দিয়ে বিয়ে করতো আরবের পুরুষেরা তখন জন্মানো মাত্রই মেয়েদের মেরে ফেলার মতো আইয়্যামে জাহেলিয়ার অস্তিত্বটা প্রশ্ন সাপেক্ষ- অর্থনীতির বক্তব্য বলছে একটা কন্যা সন্তান মানেই ভবিষ্যতে অর্থ লাভের সুযোগ- অন্তত কন্যার বিয়ের সময় কন্যার জামইয়ের কাছে কনে পণ পাওয়া যাবে- এখন যেমন পুরুষ মাত্রই যৌতুক চায় এবং পেয়েও থাকে সে রকম ভাবেই আরবে মেয়েদের পরিবারকে যৌতুক দিয়ে কন্যা উঠিয়ে আনতে হতো-
ইসলামের ভাবাদর্শ মতে তারা পিতার সম্পদের উত্তরাধিকারী ছিলো না, স্বামীর সম্পদের ভাগ পেতো না- এই ধরণের বক্তব্যের পরও দেখা যায় খাদিজা বেশ বড় একটা ব্যবসা চালাতো এবং মুহাম্মদ নিজেও সেই ব্যবসার কর্মচারী ছিলো- এবং এই ব্যবসার সুবাদেই তার সিরিয়া গমন এবং সেখানের ইহুদি ধর্মযাজকদের সাথে আলাপ আলোচনার সুযোগ- সেখানেই তার নৈকা বা জাহাজ দেখার সুবর্ণ সুযোগ।
সেই অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রাক ইসলামী যুগে এবমন কি ইসলামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে দেখি পৌত্তলিক নারীদের- মুসলিমদের প্রথম দুটি যুদ্ধে সম্ভবত কোনো নারী অংশ গ্রহন করে নি, তবে এর পরে বেশ কিছু নারী যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবার জন্য উপস্থিত ছিলো- তারা সক্রিয় যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছে এমনটা শুনি নি-
তবে আব্রু বজায় রেখে পরপুরুষের ভেতরে যৌন কামনা জাগ্রত করে ফেলার সামগ্রীক ইসলামি ভীতিসম্বলিত সেবাদান প্রকল্প চমৎকার মনোহর কোনো দৃশ্য হতে পারে-
এমন কি মুহাম্মদ সিক্কা ছুড়ে এক বিবিকে নিয়ে যুদ্ধে রওনা হলো পরিস্থিতিতে আয়েশা এবং হাফসার ভেতরের শীতল লড়াই এবং অবশেষে দুজনকে নিয়েই যুদ্ধক্ষেত্রে গমনের ঘটনাও ঘটেছে- তবে সেখানে উম্মুল মুমেনিনাদের উপস্থিতি অনুপ্রাণিত করেছিলো কি না সেবাদানকারীদের কে জানে?
আলীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৈন পরিচালনা করেছিলেন আয়েশা এমনটা শোনা যায়- তবে মুসলমানদের ভেতরে বিবাদ নিষিদ্ধ ,যারা এই ঘটনায় জড়িত ,যারা সক্রিয় মদদ দিয়েছে, এবং যারা অংশ গ্রহন করেছে, হাদিসের মতে তাদের সবারই কাফের হয়ে যাওয়ার কথা- এই যৌক্তিক প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়েও সেই একই লড়াই যেখানে আলী জিতেছিলো- এবং এর পর থেকে আলীর অনুসারী এবং আয়েশার অনুসারীদের ভেতরের আগুন আজও রক্তপাত ঘটাচ্ছে মুসলিম বিশ্বের মানচিত্রে।
ইসলাম আরবের প্রেক্ষিতে কতটুকু নারী স্বাধীনতা আনতে পেরেছিলো এটা গুরুত্বপূর্ণ এখটা প্রশ্ন তবে পূঁজিবাদের সম্প্রসারণের কালে ধর্ম রাজনীতির উপাদান হয়ে উঠার পরে রাজনৈতিক দলগুলোর নারী সংস্থার ভেতরেও একটা পুরুষতান্ত্রিকতার তাবেদার গোষ্ঠির সৃষ্টি হয়েছে, তারাই পুরুষতন্ত্রকে সমর্থন জুগিয়ে নারীদের পালনীয় নীতিমালা রচনা করেছে।
তবে সার্বজনীন সত্য হলো নারী পরাধীন এই উপলব্ধিটা আধুনিক সময়ে প্রবল, নারীর ক্ষমতায়নের নামে নারীদের অধিকার স্বীকৃতি পাওয়ার সাথে সাথে স্বাধীনচেতা নারীদের ভেতরে বঞ্চিত বোধ বাড়ছে, তারা একটা সমকক্ষতার দাবী জানাচ্ছে- এবং এই পরাধীনতার শৃংখল ভাঙার নানাবিধ তড়িকাও বাজারে আনছে তারা- পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে থেকেও পুরুষতান্ত্রিক কাহটামোর নৈতিকতা বোধ থেকে উদ্ভুত ভাবনার বাইরে গিয়ে নারীবাদী সার্বজনীন ঐক্যবদ্ধ কোনো নীতিমালা এখনও স্পষ্ট হয়ে উঠে নি।
মুক্তস্বরের সদস্যরা বাম আন্দোলনের সাথে যুক্ত- টারা সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শকেই নারীমুক্তির হাতিয়ার ভাবছেন- তারা নারীর ক্ষমতায়নের ইউটোপিয়া থেকে বের হয়ে নারী পুরুষ সমতা এবং মানবিক অধিকার প্রশ্নে নারী পুরুষ সমকক্ষতার দাবী তুলে ধরছেন।
সমাজতন্ত্র মানুষের মুক্তির কথা বলে, সমাজতন্ত্র স্পষ্ট করে বলতে চায় মানুষে মানুষে অসমতা কাঠামোভিত্তিক দুর্বলতা- সামাজিক কাঠামো বদলাতে পারলে মানুষের চেতনায় পরিবর্তন আসলে এমন এক রাষ্ট্রব্যাবস্থা নির্মাণ করা সম্ভব যেখানে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে এবং তাদের যোগ্যতার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।
বিপ্লবী নারী সংহতি এখানে প্রকাশিত নিবন্ধগুলোতে এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করেছে- তবে নারীর হীনতার নানা রকম দৃষ্টান্ত এবং পাঠ তুলে ধরতে চেয়েছে =অনেক সময় এটা ক্লিশে এবং দিকনির্দেশনা বিহীন অনেক নিবন্ধের বক্তব্যের সাথে আমি নিজেও একমত পোষণ করি না- তবে সামপ্রীক ভাবে বলতে চাইলে নারীবাদি বই পড়তে অনাগ্রহী এবং একই মলাটে অনেক রকম বিতর্কের উপাদান খুঁজে পেতে চান যারা তাদের জন্য এটা আদর্শ একটা বই- এটা সে হিসাবে এমন একটা সংকলন যে চাবাতে হয়- তবে হজম করার মতো জিনিষ এখানে উপস্থিত নেই।
এই পত্রিকার প্রাণ হলো শ্রমজীবি নারীদের চোখে নারী স্বাধীনতা তুলে ধরার প্রয়াস, মধ্য ও উচ্চবিত্ত নিরাপত্ত বেষ্ঠনীর ভেতরে থেকে উপলব্ধ অসমতার বোধ এবং শ্রমজীবি নারীদের অসমতার বোধ এবং উপলব্ধি খানিকটা পৃথক- এই অবস্থানগত পার্থক্য এবং উচ্চারনগত পার্থক্যটা স্পষ্ট ধরা পড়ে এখানে।
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষিতে হিজাব নামক বিলাসিতা কতটা অশোভন এবং অপ্রাসঙ্গিক এটার উপলব্ধি শ্রমজীবি নারীরাই করতে পারে- যে নারী ভোর ৫টায় উঠে স্বামীর সহযোগি হিসেবে তার সারাদিনের বিকিকিনির পসরা সাজিয়ে, জোগাড় দেখে সামাজিক প্রচারণায় উন্নত জীবনের সোপানে সন্তানকে তুলতে চেয়ে তাকে স্কুলের জন্য সাজিয়ে ঘরের কাজ করে কায়িক শ্রমে জোগ দেয় এবং কায়িক শ্রমটা এমন যে সেখানে প্রতিটা পেশী শ্রান্ত হয়- সর্বাঙ্গ ঘামে ভেজে, সেখানে গ্রিষ্মের প্রখর দুপুর আর শীতের অলস মধ্যাহ্নের কোনো ভেদ নেই- সেখানে পিন্ধনের কাপড়ের উপরে বাড়তি পুরুষের কামনারোধি ঢাল সম্ভব না পড়া।
যারা যন্ত্রের ব্যবহার করে তার যান্ত্রিক সমস্যার কারণেই হালকা কাপড় পড়ে- ম্যাশিং বুঝে না কোনটায় টান দিলে করাতে নারী কাটবে আর কোনটায় টান দিলে ইপ্সিত ফলাফল আসবে- যে মহিলা আর মেয়েরা ইটভাঙে- তারা যে পরিশ্রম দেয় শরীর নিংড়ে প্রতিদিন তাদের আভরণের বিলাসিতা সম্ভব না-
তারা হেজাবের নিরাপত্তা চায় না, তারা সম্মান চায়, পারিশ্রমিকের সমতুল্যতা চায়- কেনো ১টা পুরুষ ১০০ ইট ভেঙে পাবে ১০০ টাকা আর নারী পাবে ৬০ টাকা- এটাই তার কাছে বড় অসমতা- খাটুনি কম না তবু কেনো এ বৈষম্য- কেনো পুরুষ দর্জি পাবে নারীর দ্বিগুন= একই মাপের কাপড় সেলাই করে দুজনেই-
এই কায়িক শ্রমজীবি নারীর শরীর দেখে যদি কোনো পুরুষ কামার্ত হয়ে উঠে এটার জন্য বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই তার। পুরুষের কামনার লকলকের জিহ্বা যেনো তাকে বাক্য দিয়ে স্পর্শ না করে এটুকুই চাওয়া তাদের-
বক্তব্য স্পষ্ট- পুরুষ রাস্তায় নামলে কেউ শীষ দেয় না, অশালীন কটু মন্তব্য করে না- তবে নারী কেনো এভাবে যৌন হয়রানিতে ভুগবে- পোশাক সংস্কৃতির পরিবর্তন নয় পুরুষের চেতনার পরিবর্তন চায় তারা।
পুরুষ ভাবতে শিখুক শ্রমের বিচারে তারা একই পর্যায়ের। শোষণ আর বঞ্চনায় তারা একই ভাবে ভুক্তভোগী হয়- এই সমতার বোধ জাগলেই রাস্তায় আপাদমস্তক যোনী হিসেবে পরিচিত না হয়ে তারা শ্রমিক হিসেবে পরিচিত হবে=
তারা নারী নয় মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি চায়- প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট বৈপিরিত্বকে বহুগুন বিবর্ধিত করে দেখে তাদের উপরে যে খড়গ নেমে এসেছে- সেই উদ্যত খড়গ থেকে মাথা সরিয়ে তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়-
তবে সবচেয়ে সরল সত্যটা প্রকাশিত হয় এভাবেই-
মিছিলের সব পা, সব কণ্ঠ এক নয়- সবাই যুথব্ধতার নিজস্ব প্রয়োজনে সংগঠনে যুক্ত হয়= তাদের চাহিদা আর প্রত্যাশা আলাদা আলাদা-
তাদের সামাজিক ভাবে আক্রান্ত হওয়ার বহুমাত্রিক বোধ থেকে কেউ ধারণা করে এই যুথবদ্ধতা তাদের এমন শক্তি দিবে যা তাদের নিজস্ব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের ুপায় হবে-
তাদের নারী স্বাধীনতার বোধও বহুমাত্রিক- তবে তারা আত্মসম্মান চায়- চায় নিজের উপার্জন খরচ করার স্বাধীনতা- চায় স্বাধীন পদচারনার সুযোগ- এবং সবাই রাস্তায় বাক্য ও দেহভঙ্গিতে ফুটে উঠা যৌনহয়রানি থেকে রেহাই চায়- তারা রাস্তায় আক্রান্ত বোধ করে কামনার আঁচে- তবে পোশাকের সাংস্কৃতিক বিবর্তন দিয়ে এ আঁচ রোধ করা সম্ভব এমনটা ভাবে না= পুরুষের কামনার আঁচ পোষাক সংস্কৃতি মানে না-
শোষণ আর দমনপীড়নের নানারকম প্রকার ভেদ আছে
কোনোটা সিমিকে প্ররোচিত করে আত্মহননে কোনোটা এনজিওর ঋণের তাগাদা দেওয়া স্যারেদের ফাইলে ভর করে আসে- কোনোটা মজুরির অসমতা থেকে উদ্ভুত- কোনোটা বাড়ীওয়ালার পানি আর বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া থেকে উদ্ভুত-
এসবের সাথে প্রাকৃতিক দুর্বিপাক থাকে- থাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস যা পুলিশের উর্দি পড়ে আসে -এবং এসবের প্রভাব পড়ে জীবিকাতে- জীবিকাতে টান পরে- টান পড়ে ভাতের হাঁড়িতে- ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হাসিমুখে আসে ঋণ দিদিমনি- এবং সপ্তাহান্তে তাগাদা আসে-
সামাজিক সম্পর্কগুলো বিপর্যস্ত হয়- চরাঞ্চলে বৌ ফেলে পালায় স্বামী- শহরে বস্তিতে বৌ বাচ্চা ফেলে পালায় মানুষ কিংবা সামান্য ছুতায় তালাক দিয়ে দেয়- খিটমিট বাধে অভাব থেকে- চালটা নুনটা , তেলটা- চাওয়া বাড়ে- তাগাদা দেয় নারী- নারীর হেঁশেল সামলাতে হয়- সে জানে চাল বাড়ন্ত, তেল বাড়ন্ত- টাকা চাই- পুরুষের পকেটে গড়ের মাঠের হাওয়া- মেজাজ খাপ্পা- দুই চার ঘা-
তবে এসব বিবেচনাবোধ শ্রমজীবি নারীদের আছে- তারা এটাকে মেনেই সংসার করে- মধ্য আর উচ্চবিত্তের মতো পারিবারিক নির্যাতনরোধী মহিলা সংগঠন গড়ে তুলে না- তারা জানে পকেটে পাত্তি নাই তাই মেজাজ গরম, তবে রাতে পেট ঠান্ডা হলে আদর সোহাগে দিনের শাসনের ক্ষত মুছে দেবে স্বামী-
তাই বিশ্বে উপস্থিত এবং বহুকাল ধরে চর্চিত পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই সেটাকে প্রশ্ন করবার তাগিদ, সংগঠন সৃষ্টি এবং চিন্তা প্রকাশের জন্য এই পত্রিকা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিপ্লবী নারী সংহতির গড়ে ওঠা, বেড়ে ওঠা সহ নারীবাদি আন্দোলনের সহায়ক সকল আলোচনা ভাবনা লিখিত হবে।
পত্রিকার উদ্দেশ্য মহৎ- নারী পরাধীন, অন্যের অধীনস্ততায় তার জীবন কাটে, নারীর অবমাননাও ভীষণ রকম সত্য, ধর্মীয় নৈতিকতার আড়ালে , নানাবিধ ধর্মে চিহ্নে নারীকে আবদ্ধ রাখা হয়েছে- তাদের চিন্তা চেতনার স্বাধীনতায় অবৈধ হস্তক্ষেপের নিরসন হওয়া প্রয়োজন।
যদিও নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা কথাগুলো প্রহেলিকার মতো, আসলে স্বাধীনতার ব্যাখ্যাটা কি? এই স্বাধীনতার লক্ষ্য কি? ভবিষ্যত কি? এবং এই নারীবাদী নীতিমালার রুপরেখা কেমন হবে? অনেক রকম প্রশ্ন আছে। এবং যেহেতু অনেক দিন ধরেই পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোতে জীবনযাপন করি তাই একটা অভ্যস্ত জীবন এবং নৈতিকতা থেকে নারী মুক্তি এবং নারী স্বাধীনতা আমাদের নতুন কোন নৈতিকতায় পৌঁছায় এটা নিয়েও খানিক সংশয় আছে-
এবং অদ্যাবধি একটা নির্দিষ্ট ফর্মার নারীস্বাধীনতার বক্তব্য নেই- সবাই একটা নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে সেই কাঠামোর ভেতর থেকেই স্বাধীনতার বৈশিষ্ঠ্যগুলোকে চিহ্নিত করে- সার্বজনীন কোনো একটা রুপরেখার অনুপস্থিতি একটা সমস্যা, তবে নারীর ক্ষমতায়নের বুলি আউড়ানো পূঁজিবাদী সভ্যতা নারীকে একটা স্বাধীনতার আস্বাদ দিচ্ছে এটাও একটা প্রহেলিকা তৈরি করে। আদতে স্বাধীনতার বক্তব্যটা কি?
ইসলামি মতাদর্শিকতার চর্চাকারী মানুষদের মতে নারীর আত্মসম্মান ও নারী চেতনার বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সংস্কার এনেছে ইসলাম- ধর্ম একটা অবস্থান গ্রহন করেছে- নারী স্বাধীনতা বক্তব্যটা ধর্মের মতো এতটা প্রাচীন নয়, তবে পুরাণে অনেক নারীবাদী চরিত্রকে পাওয়া যায়- এটা ব্যক্তি মানসের কল্পনা কিংবা এটাই বাস্তবতা সব সময়ই প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে চাওয়া কোনো কোনো নারী পুরুষ বিদ্যমান এই সভ্যতায়-
ইসলামী মতাদর্শিকতার চর্চাকারীদের মতে তৎকালীন আরবের উচ্ছৃংখল সমাজ ব্যবস্থায় নারীর অসম্মানের প্রকোপ ছিলো বেশী, নারীকে যৌনতার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হতো, নারীরা নিজেও বেলেল্লাপনা করতো- হজ্জের সময় যে মেলা অনুষ্ঠিত হতো মক্কায় সেখানে মদ আর নারীর নগ্ন নাচ একটা আকর্ষণ ছিলো- ( আহা কবে এমন সময় হবে, তবে আমি চাইবো ইরানী কিংবা ইসরাইলী বালিকা) এবং তারা নানাবিধ আয়াত, হাদীস আর তাফসির তুলে ধরে বলতে চায় আসলে নারী মুক্তির পথই ইসলাম- ইসলাম ছাড়া ইসলামী মূল্যবোধ ছাড়া যারা নারী মুক্তি ও নারি স্বাধীনতার চর্চা করবে তারা আবশ্যিক ভাবেই বেলেল্লাপনার চর্চা করবে- এই বাই ডিফল্ট অবস্থান নিয়ে এটা ঝড়ো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিলো-
তবে সেই পরাধীন অবস্থার ভেতরেও যখন প্রাক ইসলামী সময়ে কণে পণ দিয়ে বিয়ে করতো আরবের পুরুষেরা তখন জন্মানো মাত্রই মেয়েদের মেরে ফেলার মতো আইয়্যামে জাহেলিয়ার অস্তিত্বটা প্রশ্ন সাপেক্ষ- অর্থনীতির বক্তব্য বলছে একটা কন্যা সন্তান মানেই ভবিষ্যতে অর্থ লাভের সুযোগ- অন্তত কন্যার বিয়ের সময় কন্যার জামইয়ের কাছে কনে পণ পাওয়া যাবে- এখন যেমন পুরুষ মাত্রই যৌতুক চায় এবং পেয়েও থাকে সে রকম ভাবেই আরবে মেয়েদের পরিবারকে যৌতুক দিয়ে কন্যা উঠিয়ে আনতে হতো-
ইসলামের ভাবাদর্শ মতে তারা পিতার সম্পদের উত্তরাধিকারী ছিলো না, স্বামীর সম্পদের ভাগ পেতো না- এই ধরণের বক্তব্যের পরও দেখা যায় খাদিজা বেশ বড় একটা ব্যবসা চালাতো এবং মুহাম্মদ নিজেও সেই ব্যবসার কর্মচারী ছিলো- এবং এই ব্যবসার সুবাদেই তার সিরিয়া গমন এবং সেখানের ইহুদি ধর্মযাজকদের সাথে আলাপ আলোচনার সুযোগ- সেখানেই তার নৈকা বা জাহাজ দেখার সুবর্ণ সুযোগ।
সেই অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রাক ইসলামী যুগে এবমন কি ইসলামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে দেখি পৌত্তলিক নারীদের- মুসলিমদের প্রথম দুটি যুদ্ধে সম্ভবত কোনো নারী অংশ গ্রহন করে নি, তবে এর পরে বেশ কিছু নারী যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবার জন্য উপস্থিত ছিলো- তারা সক্রিয় যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছে এমনটা শুনি নি-
তবে আব্রু বজায় রেখে পরপুরুষের ভেতরে যৌন কামনা জাগ্রত করে ফেলার সামগ্রীক ইসলামি ভীতিসম্বলিত সেবাদান প্রকল্প চমৎকার মনোহর কোনো দৃশ্য হতে পারে-
এমন কি মুহাম্মদ সিক্কা ছুড়ে এক বিবিকে নিয়ে যুদ্ধে রওনা হলো পরিস্থিতিতে আয়েশা এবং হাফসার ভেতরের শীতল লড়াই এবং অবশেষে দুজনকে নিয়েই যুদ্ধক্ষেত্রে গমনের ঘটনাও ঘটেছে- তবে সেখানে উম্মুল মুমেনিনাদের উপস্থিতি অনুপ্রাণিত করেছিলো কি না সেবাদানকারীদের কে জানে?
আলীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৈন পরিচালনা করেছিলেন আয়েশা এমনটা শোনা যায়- তবে মুসলমানদের ভেতরে বিবাদ নিষিদ্ধ ,যারা এই ঘটনায় জড়িত ,যারা সক্রিয় মদদ দিয়েছে, এবং যারা অংশ গ্রহন করেছে, হাদিসের মতে তাদের সবারই কাফের হয়ে যাওয়ার কথা- এই যৌক্তিক প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়েও সেই একই লড়াই যেখানে আলী জিতেছিলো- এবং এর পর থেকে আলীর অনুসারী এবং আয়েশার অনুসারীদের ভেতরের আগুন আজও রক্তপাত ঘটাচ্ছে মুসলিম বিশ্বের মানচিত্রে।
ইসলাম আরবের প্রেক্ষিতে কতটুকু নারী স্বাধীনতা আনতে পেরেছিলো এটা গুরুত্বপূর্ণ এখটা প্রশ্ন তবে পূঁজিবাদের সম্প্রসারণের কালে ধর্ম রাজনীতির উপাদান হয়ে উঠার পরে রাজনৈতিক দলগুলোর নারী সংস্থার ভেতরেও একটা পুরুষতান্ত্রিকতার তাবেদার গোষ্ঠির সৃষ্টি হয়েছে, তারাই পুরুষতন্ত্রকে সমর্থন জুগিয়ে নারীদের পালনীয় নীতিমালা রচনা করেছে।
তবে সার্বজনীন সত্য হলো নারী পরাধীন এই উপলব্ধিটা আধুনিক সময়ে প্রবল, নারীর ক্ষমতায়নের নামে নারীদের অধিকার স্বীকৃতি পাওয়ার সাথে সাথে স্বাধীনচেতা নারীদের ভেতরে বঞ্চিত বোধ বাড়ছে, তারা একটা সমকক্ষতার দাবী জানাচ্ছে- এবং এই পরাধীনতার শৃংখল ভাঙার নানাবিধ তড়িকাও বাজারে আনছে তারা- পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে থেকেও পুরুষতান্ত্রিক কাহটামোর নৈতিকতা বোধ থেকে উদ্ভুত ভাবনার বাইরে গিয়ে নারীবাদী সার্বজনীন ঐক্যবদ্ধ কোনো নীতিমালা এখনও স্পষ্ট হয়ে উঠে নি।
মুক্তস্বরের সদস্যরা বাম আন্দোলনের সাথে যুক্ত- টারা সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শকেই নারীমুক্তির হাতিয়ার ভাবছেন- তারা নারীর ক্ষমতায়নের ইউটোপিয়া থেকে বের হয়ে নারী পুরুষ সমতা এবং মানবিক অধিকার প্রশ্নে নারী পুরুষ সমকক্ষতার দাবী তুলে ধরছেন।
সমাজতন্ত্র মানুষের মুক্তির কথা বলে, সমাজতন্ত্র স্পষ্ট করে বলতে চায় মানুষে মানুষে অসমতা কাঠামোভিত্তিক দুর্বলতা- সামাজিক কাঠামো বদলাতে পারলে মানুষের চেতনায় পরিবর্তন আসলে এমন এক রাষ্ট্রব্যাবস্থা নির্মাণ করা সম্ভব যেখানে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে এবং তাদের যোগ্যতার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।
বিপ্লবী নারী সংহতি এখানে প্রকাশিত নিবন্ধগুলোতে এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করেছে- তবে নারীর হীনতার নানা রকম দৃষ্টান্ত এবং পাঠ তুলে ধরতে চেয়েছে =অনেক সময় এটা ক্লিশে এবং দিকনির্দেশনা বিহীন অনেক নিবন্ধের বক্তব্যের সাথে আমি নিজেও একমত পোষণ করি না- তবে সামপ্রীক ভাবে বলতে চাইলে নারীবাদি বই পড়তে অনাগ্রহী এবং একই মলাটে অনেক রকম বিতর্কের উপাদান খুঁজে পেতে চান যারা তাদের জন্য এটা আদর্শ একটা বই- এটা সে হিসাবে এমন একটা সংকলন যে চাবাতে হয়- তবে হজম করার মতো জিনিষ এখানে উপস্থিত নেই।
এই পত্রিকার প্রাণ হলো শ্রমজীবি নারীদের চোখে নারী স্বাধীনতা তুলে ধরার প্রয়াস, মধ্য ও উচ্চবিত্ত নিরাপত্ত বেষ্ঠনীর ভেতরে থেকে উপলব্ধ অসমতার বোধ এবং শ্রমজীবি নারীদের অসমতার বোধ এবং উপলব্ধি খানিকটা পৃথক- এই অবস্থানগত পার্থক্য এবং উচ্চারনগত পার্থক্যটা স্পষ্ট ধরা পড়ে এখানে।
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষিতে হিজাব নামক বিলাসিতা কতটা অশোভন এবং অপ্রাসঙ্গিক এটার উপলব্ধি শ্রমজীবি নারীরাই করতে পারে- যে নারী ভোর ৫টায় উঠে স্বামীর সহযোগি হিসেবে তার সারাদিনের বিকিকিনির পসরা সাজিয়ে, জোগাড় দেখে সামাজিক প্রচারণায় উন্নত জীবনের সোপানে সন্তানকে তুলতে চেয়ে তাকে স্কুলের জন্য সাজিয়ে ঘরের কাজ করে কায়িক শ্রমে জোগ দেয় এবং কায়িক শ্রমটা এমন যে সেখানে প্রতিটা পেশী শ্রান্ত হয়- সর্বাঙ্গ ঘামে ভেজে, সেখানে গ্রিষ্মের প্রখর দুপুর আর শীতের অলস মধ্যাহ্নের কোনো ভেদ নেই- সেখানে পিন্ধনের কাপড়ের উপরে বাড়তি পুরুষের কামনারোধি ঢাল সম্ভব না পড়া।
যারা যন্ত্রের ব্যবহার করে তার যান্ত্রিক সমস্যার কারণেই হালকা কাপড় পড়ে- ম্যাশিং বুঝে না কোনটায় টান দিলে করাতে নারী কাটবে আর কোনটায় টান দিলে ইপ্সিত ফলাফল আসবে- যে মহিলা আর মেয়েরা ইটভাঙে- তারা যে পরিশ্রম দেয় শরীর নিংড়ে প্রতিদিন তাদের আভরণের বিলাসিতা সম্ভব না-
তারা হেজাবের নিরাপত্তা চায় না, তারা সম্মান চায়, পারিশ্রমিকের সমতুল্যতা চায়- কেনো ১টা পুরুষ ১০০ ইট ভেঙে পাবে ১০০ টাকা আর নারী পাবে ৬০ টাকা- এটাই তার কাছে বড় অসমতা- খাটুনি কম না তবু কেনো এ বৈষম্য- কেনো পুরুষ দর্জি পাবে নারীর দ্বিগুন= একই মাপের কাপড় সেলাই করে দুজনেই-
এই কায়িক শ্রমজীবি নারীর শরীর দেখে যদি কোনো পুরুষ কামার্ত হয়ে উঠে এটার জন্য বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই তার। পুরুষের কামনার লকলকের জিহ্বা যেনো তাকে বাক্য দিয়ে স্পর্শ না করে এটুকুই চাওয়া তাদের-
বক্তব্য স্পষ্ট- পুরুষ রাস্তায় নামলে কেউ শীষ দেয় না, অশালীন কটু মন্তব্য করে না- তবে নারী কেনো এভাবে যৌন হয়রানিতে ভুগবে- পোশাক সংস্কৃতির পরিবর্তন নয় পুরুষের চেতনার পরিবর্তন চায় তারা।
পুরুষ ভাবতে শিখুক শ্রমের বিচারে তারা একই পর্যায়ের। শোষণ আর বঞ্চনায় তারা একই ভাবে ভুক্তভোগী হয়- এই সমতার বোধ জাগলেই রাস্তায় আপাদমস্তক যোনী হিসেবে পরিচিত না হয়ে তারা শ্রমিক হিসেবে পরিচিত হবে=
তারা নারী নয় মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি চায়- প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট বৈপিরিত্বকে বহুগুন বিবর্ধিত করে দেখে তাদের উপরে যে খড়গ নেমে এসেছে- সেই উদ্যত খড়গ থেকে মাথা সরিয়ে তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়-
তবে সবচেয়ে সরল সত্যটা প্রকাশিত হয় এভাবেই-
মিছিলের সব পা, সব কণ্ঠ এক নয়- সবাই যুথব্ধতার নিজস্ব প্রয়োজনে সংগঠনে যুক্ত হয়= তাদের চাহিদা আর প্রত্যাশা আলাদা আলাদা-
তাদের সামাজিক ভাবে আক্রান্ত হওয়ার বহুমাত্রিক বোধ থেকে কেউ ধারণা করে এই যুথবদ্ধতা তাদের এমন শক্তি দিবে যা তাদের নিজস্ব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের ুপায় হবে-
তাদের নারী স্বাধীনতার বোধও বহুমাত্রিক- তবে তারা আত্মসম্মান চায়- চায় নিজের উপার্জন খরচ করার স্বাধীনতা- চায় স্বাধীন পদচারনার সুযোগ- এবং সবাই রাস্তায় বাক্য ও দেহভঙ্গিতে ফুটে উঠা যৌনহয়রানি থেকে রেহাই চায়- তারা রাস্তায় আক্রান্ত বোধ করে কামনার আঁচে- তবে পোশাকের সাংস্কৃতিক বিবর্তন দিয়ে এ আঁচ রোধ করা সম্ভব এমনটা ভাবে না= পুরুষের কামনার আঁচ পোষাক সংস্কৃতি মানে না-
শোষণ আর দমনপীড়নের নানারকম প্রকার ভেদ আছে
কোনোটা সিমিকে প্ররোচিত করে আত্মহননে কোনোটা এনজিওর ঋণের তাগাদা দেওয়া স্যারেদের ফাইলে ভর করে আসে- কোনোটা মজুরির অসমতা থেকে উদ্ভুত- কোনোটা বাড়ীওয়ালার পানি আর বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া থেকে উদ্ভুত-
এসবের সাথে প্রাকৃতিক দুর্বিপাক থাকে- থাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস যা পুলিশের উর্দি পড়ে আসে -এবং এসবের প্রভাব পড়ে জীবিকাতে- জীবিকাতে টান পরে- টান পড়ে ভাতের হাঁড়িতে- ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হাসিমুখে আসে ঋণ দিদিমনি- এবং সপ্তাহান্তে তাগাদা আসে-
সামাজিক সম্পর্কগুলো বিপর্যস্ত হয়- চরাঞ্চলে বৌ ফেলে পালায় স্বামী- শহরে বস্তিতে বৌ বাচ্চা ফেলে পালায় মানুষ কিংবা সামান্য ছুতায় তালাক দিয়ে দেয়- খিটমিট বাধে অভাব থেকে- চালটা নুনটা , তেলটা- চাওয়া বাড়ে- তাগাদা দেয় নারী- নারীর হেঁশেল সামলাতে হয়- সে জানে চাল বাড়ন্ত, তেল বাড়ন্ত- টাকা চাই- পুরুষের পকেটে গড়ের মাঠের হাওয়া- মেজাজ খাপ্পা- দুই চার ঘা-
তবে এসব বিবেচনাবোধ শ্রমজীবি নারীদের আছে- তারা এটাকে মেনেই সংসার করে- মধ্য আর উচ্চবিত্তের মতো পারিবারিক নির্যাতনরোধী মহিলা সংগঠন গড়ে তুলে না- তারা জানে পকেটে পাত্তি নাই তাই মেজাজ গরম, তবে রাতে পেট ঠান্ডা হলে আদর সোহাগে দিনের শাসনের ক্ষত মুছে দেবে স্বামী-
১. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৩
দিগন্ত বলেছেন: বাপরে!! অন্য ব্লগের লোকজন ধেয়ে আসবে এখন। নারী-পুরুষ সমান-অধিকার চলবে না চলবে না!!
দিগন্ত বলেছেন: বাপরে!! অন্য ব্লগের লোকজন ধেয়ে আসবে এখন। নারী-পুরুষ সমান-অধিকার চলবে না চলবে না!!২. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৯
মম বলেছেন: আপনের পুরা লেখাটা পড়তে পারলাম না। অফিসে ।
বাড়ি গিয়া পড়ুম। তয় হেড-লাইন দেইখা মনতব্য না কৈরা পারতেসিনা।
ঐ "নারী বাদী" মহিলা গন কে বলেন, মহলের বাইরে বাইর হৈয়া আইসা বাইরের জগত-খানা দেখতে। তারপর তারা মানুস হৈবেন।
এবোং তখনই কেবল বলতে পারেন আমরা
মানুস -বাদী, কিমবা সাম্য বাদী।
নারী বাদ, পুরুষ বাদ, কুততা বাদ, মুরদা বাদ এর মধ্যে কোন তফাত নাই।
আগে মানুস হন, তার পরে কথা কন।
এই বাদী গো ভনডামিতে আগামি-জগত শেষ হৈতে চলল।
মম বলেছেন: আপনের পুরা লেখাটা পড়তে পারলাম না। অফিসে ।বাড়ি গিয়া পড়ুম। তয় হেড-লাইন দেইখা মনতব্য না কৈরা পারতেসিনা।
ঐ "নারী বাদী" মহিলা গন কে বলেন, মহলের বাইরে বাইর হৈয়া আইসা বাইরের জগত-খানা দেখতে। তারপর তারা মানুস হৈবেন।
এবোং তখনই কেবল বলতে পারেন আমরা
মানুস -বাদী, কিমবা সাম্য বাদী।
নারী বাদ, পুরুষ বাদ, কুততা বাদ, মুরদা বাদ এর মধ্যে কোন তফাত নাই।
আগে মানুস হন, তার পরে কথা কন।
এই বাদী গো ভনডামিতে আগামি-জগত শেষ হৈতে চলল।
৩. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৮
ইমরান মাহমুদ বলেছেন: প্রচন্ড রকম একপেশে বক্তব্য............।
আপনার নিজের মতামত যদি না ও হয়, এ বক্তব্য কোট করার দায়িত্ব থেকে আপনি মুক্ত নন।
দু একটা বিচ্ছিন্ন উদাহরণ আর কিছু অসত্য বাক্য জুড়ে দিলেই হয় না .....গভীরতা থাকতে হয়।
নিজে পুরুষ বলে নয়, লেখা হিসেবেই তা বেমানান বলে মনে হয়.....আশা করি ভেবে দেখবেন
ইমরান মাহমুদ বলেছেন: প্রচন্ড রকম একপেশে বক্তব্য............।আপনার নিজের মতামত যদি না ও হয়, এ বক্তব্য কোট করার দায়িত্ব থেকে আপনি মুক্ত নন।
দু একটা বিচ্ছিন্ন উদাহরণ আর কিছু অসত্য বাক্য জুড়ে দিলেই হয় না .....গভীরতা থাকতে হয়।
নিজে পুরুষ বলে নয়, লেখা হিসেবেই তা বেমানান বলে মনে হয়.....আশা করি ভেবে দেখবেন
৪. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:০৬
রাসেল ( ........) বলেছেন: একপেশে বিষয়টা কি রকম ইমরান ভাইজান?
আর অসত্য বাক্য বিষয়টার নজীর থাকাও প্রয়োজন, আপনি যখন অসততার উদাহরন টানছেন তখন কোথায় কোনটা অসত্য এটা বলতে হবে- না বলতে আপনি বাসায় বইস্যা কি বোর্ডের উপরে হাতের আঙ্গুল না গুতাইয়া কি বোর্ডের নীচের জায়গায় গুতান।
রাসেল ( ........) বলেছেন: একপেশে বিষয়টা কি রকম ইমরান ভাইজান?আর অসত্য বাক্য বিষয়টার নজীর থাকাও প্রয়োজন, আপনি যখন অসততার উদাহরন টানছেন তখন কোথায় কোনটা অসত্য এটা বলতে হবে- না বলতে আপনি বাসায় বইস্যা কি বোর্ডের উপরে হাতের আঙ্গুল না গুতাইয়া কি বোর্ডের নীচের জায়গায় গুতান।
৫. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:০৭
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: আগের একটা আলোচনার কথা বলি, অপ বাক নিকে বলেছিলেন, আমি রিসার্চ করেছিলাম ওই নিয়ে, কিন্তু বলা হয় নি। 'পিউ রিসার্চ' (যঃঃঢ়://ঢ়বৎিবংবধৎপয.ড়ৎম/ঢ়ঁনং/483/সঁংষরস-ধসবৎরপধহং) এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় মুসলিমদের ২১% কনভার্টেড । ২১% স্ট্যাটিস্টিকসে কিন্তু অনেক সিগনিফিক্যান্ট একটা সংখ্যা। এই ২১% কে পুরা ইগনোর করে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির পুরা দায়ভার লেবার রুমে দিয়ে দেয়া... বড় ধরণের একাডেমিক ডিজঅনেকস্টি!
এবার পোস্ট প্রসংগে--
আরবের বিভিন্ন ট্রাইবে বিভিন্ন নিয়ম ছিল, মক্কা আর মদীনায় মেয়েদের মর্যাদাতেও পার্থক্য ছিল। মদীনার মেয়েরা স্বাধীনচেতা এবং বেশি মর্যাদার ছিল। আমিনা মদীনার মেয়ে ছিল। কুরাইশ বংশের মেয়েরা অপেক্ষাকৃত ভাবে স্বাধীনচেতা ছিল। হিন্দার উদাহরণও ইন্টারেস্টিং, যে মুসলিম হওয়ার আগেই যথেষ্ট স্ট্রং এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছিল। কিন্তু এটা পুরা আরবের চিত্র ছিল না, কুরাইশ বংশের অনেক কিছুই অন্যরকম ছিল।
খাদীজার টাকা ওনার বাবা থেকে আসে নি, খাদীজার আগে যেই বিয়ে হয়েছিল,স্বামী বড়লোক ছিল এবং খাদীজার হাতে ব্যবসার দায়িত্ব চলে আসে।
গরীবদের মধ্যে কন্যা সন্তানের ব্যাপারে অপমানিত বোধ করা করির ব্যাপার ছিল, কারণ কণ্যাকে বিয়ে দিতে হতো পণ দিয়ে। ভালো পণ দিতে না পারলেও কন্যাকে বিয়ে দিতেই হবে, শেষে দেখা যেত শত্রু পক্ষের কেউ এসে কণ্যাকে বিয়ে করছে, অল্পের বিনিময়েই--যেটা ওই সমাজে খুবই অপমানজনক ছিল। তার চেয়ে এপারেন্টলি কণ্যা সন্তানকে পুতে মারাই লাভ জনক ছিল।
যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন--
উদাহরণ আছে অনেক। পড়াশোনা করুন 'উম্মে সলামা' সম্পর্কে। তিনি রাসুল (সা) একদম পাশে দাঁড়িয়েই যুদ্ধ করেছেন, উহুদে (যেটা দ্বিতীয় যুদ্ধ), এত বেশি আহত হয়েছিলেন যে পুরা এক বছর বিছানায় শুয়ে কাটাতে হয়েছে।
ইসলাম সম্পর্কে আপনার অনেক কথাতেই রিসার্চের অভাব খুব স্পষ্ট রাসেল।
নারীকে পুরুষেরা দৈহিক সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করে, নারীরা পুরুষদের দৈহিক সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করে না, করে সামাজিক সাফল্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিয়ে বিচার। এভুল্যুশনিস্ট সাইকোলজিস্টদের বিশাল বিশাল থিওরীও আছে এর পিছনে কারণ নির্ণয় করে। এই যে, শারিরীক সৌন্দর্য দিয়ে একজন মানুষের গ্রহনযোগ্যতা বিচার করা, এটা পুরুষদের বৈশিষ্ট্য। এই মানসিকতার পরিবর্তন হাজারও ঘষা মাজাতে পাল্টাবে বলে মনে হয় না, দু'য়েক জনে পাল্টালেও পুরা সমাজে পাল্টাবে না। হিজাব নিশ্চয়তা দেয়, শারিরীক সৌন্দর্যের ভিত্তিতে কোন মেয়ে ডিসক্রিমিনেটেড হবে না, সমাজে যে কোন পুরুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য শারিরীক সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নিজেকে ক্রমাগত ঘষামাজা করার চাপ সহ্য করতে হয় না, যেটা এখনকার সমাজের একটা কঠিন বাস্তবতা।
এবার পোস্ট প্রসংগে--
আরবের বিভিন্ন ট্রাইবে বিভিন্ন নিয়ম ছিল, মক্কা আর মদীনায় মেয়েদের মর্যাদাতেও পার্থক্য ছিল। মদীনার মেয়েরা স্বাধীনচেতা এবং বেশি মর্যাদার ছিল। আমিনা মদীনার মেয়ে ছিল। কুরাইশ বংশের মেয়েরা অপেক্ষাকৃত ভাবে স্বাধীনচেতা ছিল। হিন্দার উদাহরণও ইন্টারেস্টিং, যে মুসলিম হওয়ার আগেই যথেষ্ট স্ট্রং এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছিল। কিন্তু এটা পুরা আরবের চিত্র ছিল না, কুরাইশ বংশের অনেক কিছুই অন্যরকম ছিল।
খাদীজার টাকা ওনার বাবা থেকে আসে নি, খাদীজার আগে যেই বিয়ে হয়েছিল,স্বামী বড়লোক ছিল এবং খাদীজার হাতে ব্যবসার দায়িত্ব চলে আসে।
গরীবদের মধ্যে কন্যা সন্তানের ব্যাপারে অপমানিত বোধ করা করির ব্যাপার ছিল, কারণ কণ্যাকে বিয়ে দিতে হতো পণ দিয়ে। ভালো পণ দিতে না পারলেও কন্যাকে বিয়ে দিতেই হবে, শেষে দেখা যেত শত্রু পক্ষের কেউ এসে কণ্যাকে বিয়ে করছে, অল্পের বিনিময়েই--যেটা ওই সমাজে খুবই অপমানজনক ছিল। তার চেয়ে এপারেন্টলি কণ্যা সন্তানকে পুতে মারাই লাভ জনক ছিল।
যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন--
উদাহরণ আছে অনেক। পড়াশোনা করুন 'উম্মে সলামা' সম্পর্কে। তিনি রাসুল (সা) একদম পাশে দাঁড়িয়েই যুদ্ধ করেছেন, উহুদে (যেটা দ্বিতীয় যুদ্ধ), এত বেশি আহত হয়েছিলেন যে পুরা এক বছর বিছানায় শুয়ে কাটাতে হয়েছে।
ইসলাম সম্পর্কে আপনার অনেক কথাতেই রিসার্চের অভাব খুব স্পষ্ট রাসেল।
নারীকে পুরুষেরা দৈহিক সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করে, নারীরা পুরুষদের দৈহিক সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করে না, করে সামাজিক সাফল্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিয়ে বিচার। এভুল্যুশনিস্ট সাইকোলজিস্টদের বিশাল বিশাল থিওরীও আছে এর পিছনে কারণ নির্ণয় করে। এই যে, শারিরীক সৌন্দর্য দিয়ে একজন মানুষের গ্রহনযোগ্যতা বিচার করা, এটা পুরুষদের বৈশিষ্ট্য। এই মানসিকতার পরিবর্তন হাজারও ঘষা মাজাতে পাল্টাবে বলে মনে হয় না, দু'য়েক জনে পাল্টালেও পুরা সমাজে পাল্টাবে না। হিজাব নিশ্চয়তা দেয়, শারিরীক সৌন্দর্যের ভিত্তিতে কোন মেয়ে ডিসক্রিমিনেটেড হবে না, সমাজে যে কোন পুরুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য শারিরীক সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নিজেকে ক্রমাগত ঘষামাজা করার চাপ সহ্য করতে হয় না, যেটা এখনকার সমাজের একটা কঠিন বাস্তবতা।
৬. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:০৮
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: পিউ রিসার্চ (কোন মুসলিম ওউনড না) এর ই-ঠিকানা--
Click This Link
Click This Link
৭. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:১৪
রাসেল ( ........) বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি হিসাবটা উলটা- ইসলামপূর্ব আরবে কনে পণ দিতে হতো মেয়ের বাবাকে- মুসার কথা মনে করো- বেচারাকে ৭ বছর কাজের লোকের কাজ করতে হয়েছে কনে পণ ম্যানেজ করার জন্য- এবং ভাগ্য এমনই খারাপ বেচারার , বেচারার কপালে জুটলো যেই মেয়ে সে ঐ মেয়েকে পছন্দ করতো না, পরে আরও ৭ বছর চাকরের কাজ-
গরীব ঘরের মেয়েদের আর বড়লোক ঘরের মেয়েদের বিষয় না এইটা, এইটা প্রথার বিষয়- প্রথা যখন কনে পণ নির্ভর, তখন কনে পণ দিতে হতো-
রাসেল ( ........) বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি হিসাবটা উলটা- ইসলামপূর্ব আরবে কনে পণ দিতে হতো মেয়ের বাবাকে- মুসার কথা মনে করো- বেচারাকে ৭ বছর কাজের লোকের কাজ করতে হয়েছে কনে পণ ম্যানেজ করার জন্য- এবং ভাগ্য এমনই খারাপ বেচারার , বেচারার কপালে জুটলো যেই মেয়ে সে ঐ মেয়েকে পছন্দ করতো না, পরে আরও ৭ বছর চাকরের কাজ-গরীব ঘরের মেয়েদের আর বড়লোক ঘরের মেয়েদের বিষয় না এইটা, এইটা প্রথার বিষয়- প্রথা যখন কনে পণ নির্ভর, তখন কনে পণ দিতে হতো-
৮. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২১
রাসেল ( ........) বলেছেন: পুরা আরব শব্দটা ঠিক কি অর্থ বহন করে- আরব দেশটা যাযাবরদের সমষ্টি- এবং এই যাযাবরদের সমষ্টিতে গোত্রগত সাংস্কৃতিক মিল ছিলো- অমিল ছিলো- যেইটুকু প্রকাশিত কিংবা সংরক্ষিত সেই সবের ভিত্তিতে বলা যায় পুরাণের ভাষ্য মতে নারীদের হীন অবস্থা ছিলো না আরবে-
আর নারীর দৌহিক সৌন্দর্য এবং ডিসক্রিমিনেটেড হওয়ার বক্তব্যটা একটু বেশী প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে গেলো- একজন পুরুষ একজন নারীকে যে ভাবে দেখে দেখে যৌনসঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করে এইটা এমন সরল রৈখিক বিষয় না, মুখ চোখ, বুক পাছা কোমর দেখেই পছন্দ হয়ে যাওয়ার বিষয় না- আরও অনেক কিছু আছে-
পুরুষকে তার সামাজিক প্রতিষ্ঠা দিয়ে বিচার করবার প্রক্রিয়াটা আসলে অনেক বেশী পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো নির্ভর বক্তব্য- স্কলার লিটারেচারে এত শেড আছে- প্রতিটা বিষয়েই বিরুদ্ধ বক্তব্য চলে আসে- আর আসে বলেই নারী বাদের কোনো স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি হয় না।
রাসেল ( ........) বলেছেন: পুরা আরব শব্দটা ঠিক কি অর্থ বহন করে- আরব দেশটা যাযাবরদের সমষ্টি- এবং এই যাযাবরদের সমষ্টিতে গোত্রগত সাংস্কৃতিক মিল ছিলো- অমিল ছিলো- যেইটুকু প্রকাশিত কিংবা সংরক্ষিত সেই সবের ভিত্তিতে বলা যায় পুরাণের ভাষ্য মতে নারীদের হীন অবস্থা ছিলো না আরবে-আর নারীর দৌহিক সৌন্দর্য এবং ডিসক্রিমিনেটেড হওয়ার বক্তব্যটা একটু বেশী প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে গেলো- একজন পুরুষ একজন নারীকে যে ভাবে দেখে দেখে যৌনসঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করে এইটা এমন সরল রৈখিক বিষয় না, মুখ চোখ, বুক পাছা কোমর দেখেই পছন্দ হয়ে যাওয়ার বিষয় না- আরও অনেক কিছু আছে-
পুরুষকে তার সামাজিক প্রতিষ্ঠা দিয়ে বিচার করবার প্রক্রিয়াটা আসলে অনেক বেশী পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো নির্ভর বক্তব্য- স্কলার লিটারেচারে এত শেড আছে- প্রতিটা বিষয়েই বিরুদ্ধ বক্তব্য চলে আসে- আর আসে বলেই নারী বাদের কোনো স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি হয় না।
৯. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২২
মম বলেছেন: হুদা মাইয়া, হুদা পোলা দেখতাসেন কেবল চোখ একটা খুইলা। দুই চোখ খুইলা দেখেন না..।
আপামনি ভাইজান গন !! বিসমিত আপনি ও হৈবেন
মম বলেছেন: হুদা মাইয়া, হুদা পোলা দেখতাসেন কেবল চোখ একটা খুইলা। দুই চোখ খুইলা দেখেন না..।আপামনি ভাইজান গন !! বিসমিত আপনি ও হৈবেন
১০. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২২
মম বলেছেন: হুদা মাইয়া, হুদা পোলা দেখতাসেন কেবল চোখ একটা খুইলা। দুই চোখ খুইলা দেখেন না..।
আপামনি ভাইজান গন !! বিসমিত আপনি ও হৈবেন
মম বলেছেন: হুদা মাইয়া, হুদা পোলা দেখতাসেন কেবল চোখ একটা খুইলা। দুই চোখ খুইলা দেখেন না..।আপামনি ভাইজান গন !! বিসমিত আপনি ও হৈবেন
১১. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২৪
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: মুসা (আ) তো মুহাম্মদ (সা) এর প্রায় ১০০০ বছর আগে এসেছে তাই না? তাছাড়া আরব বলতে অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা বুঝানো হয়, পুরা মিডল ইস্ট নয়, মুসা (আ) তো পেনিনসুলা রিজিনের ছিলেন না।
টাইমফ্রেইম, জিওগ্রাফিক্যাল ডিসট্যান্স... খেয়াল করে। আর অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলাতেও গোত্র থেকে গোত্রে নারীর ট্রিটমেন্টের তফাৎ ছিল। খুবই ব্রিফলি, উইকিতে পড়ে নিতে পারেন এক প
টাইমফ্রেইম, জিওগ্রাফিক্যাল ডিসট্যান্স... খেয়াল করে। আর অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলাতেও গোত্র থেকে গোত্রে নারীর ট্রিটমেন্টের তফাৎ ছিল। খুবই ব্রিফলি, উইকিতে পড়ে নিতে পারেন এক প
১২. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২৬
রাসেল ( ........) বলেছেন: আমার নিজের পড়াশোনার অভাব আছে তবে আমি এতটা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে ধর্মীয় চরিত্রের গাঁথা পড়বার চেয়ে অন্য পঠনে বেশী আনন্দ পাই- তাই উৎস খুঁজে পেলে ইসলামী বই পড়ি=এবং বেশীর ভাগ সময়ই পড়ার আগ্রহ পাই না।
রাসেল ( ........) বলেছেন: আমার নিজের পড়াশোনার অভাব আছে তবে আমি এতটা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে ধর্মীয় চরিত্রের গাঁথা পড়বার চেয়ে অন্য পঠনে বেশী আনন্দ পাই- তাই উৎস খুঁজে পেলে ইসলামী বই পড়ি=এবং বেশীর ভাগ সময়ই পড়ার আগ্রহ পাই না।১৩. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:৩৪
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: আপনি ইসলাম সম্পর্কে অলটারনেইট সাহিত্য খুব বেশি আগ্রহী, তাই খুব বেশি বায়াসড অন্য দিকে, সাধারন সময়ে যাকে গ্রহনযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে গ্রহন করবেন না, ইসলামের ক্ষেত্রে সেটা গ্রহন করেন, এই বায়াসনেসের জন্যই। আমি বিশ্বাসী, আমার পক্ষে নিবেদিত প্রান হয়ে ইসলামী বই পড়াটাই স্বাভাবিক, আপনি অবিশ্বাসী হয়ে নিবেদিত প্রাণের ইসলাম বিরোধী বইকে শাস্ত্রের মত পবিত্রতায় গ্রহন করেন, সেখানে ইসলামফোবিয়ার বায়াসনেস থাকতে পারে একবারও ভাবেন না, দেখে আপনারে বিশ্বাসীই মনে হয়, এক বৃত্ত থেকে বের হয়ে আরেক বৃত্তে ঢুকে গিয়েছেন--এমন মনে হয়।
১৪. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:৩৭
রাসেল ( ........) বলেছেন: মুসা সম্ভবত বনী ইসরাইল গোত্রের প্রতিনিধি- এবং এই গোত্রটাই মোটামুটি আরবের নগরভিত্তিক সভ্যতার মূল অংশ ছিলো- এর সাথে ইরাকের কিংবা মিশরের কিংবা প্যালেস্টাইন অঞ্চলের লোকেদের মেলামেশা ছিলো- তবে এই মিলমিশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জায়গাগুলোতে কিছু সাধারন বৈশিষ্ঠ্য থাকে- যেমন ধরো বাংলাদেশ পশ্চিম বাংলা থেকে উত্তর ভারত- একটা সাংস্কৃতিক ঐক্য আছে- ভৌগলিক অবস্থান বিস্তৃত হলেও সাংস্কৃতিক ঐক্যতানের বিষয়টা স্পষ্ট- আরবের গোত্রে গোত্রে বিভেদ থাকলেও বনী ইসরাইলের সবগুলো গোত্রের ভেতরে নানাবিধি বিভেদ থাকলেও একটা সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকাটা বাস্তব একটা সম্ভবনা-
আর আমেরিকার মুসলিমদের মোট সংখ্যার ২১% ধর্মান্তরিত হলেও এটা কিন্তু মোটেও প্রমাণ করে না কথাটাকে যে আমেরিকায় প্রতিবছর মুসলিম জনগোষ্ঠির সংখ্যা বাড়ছে যেটুকু তাতে প্রতি বছরই ২১% অবদান আছে ধর্মান্তরিত মুসলিমদের- এখনও ডাইভারসিটি ভিসার কল্যানে এবং রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের ব্যপক শিক্ষার্থী আসবার কারণে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়তেই পারে- এটা স্বাভাবিক প্রবনতা।
রাসেল ( ........) বলেছেন: মুসা সম্ভবত বনী ইসরাইল গোত্রের প্রতিনিধি- এবং এই গোত্রটাই মোটামুটি আরবের নগরভিত্তিক সভ্যতার মূল অংশ ছিলো- এর সাথে ইরাকের কিংবা মিশরের কিংবা প্যালেস্টাইন অঞ্চলের লোকেদের মেলামেশা ছিলো- তবে এই মিলমিশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জায়গাগুলোতে কিছু সাধারন বৈশিষ্ঠ্য থাকে- যেমন ধরো বাংলাদেশ পশ্চিম বাংলা থেকে উত্তর ভারত- একটা সাংস্কৃতিক ঐক্য আছে- ভৌগলিক অবস্থান বিস্তৃত হলেও সাংস্কৃতিক ঐক্যতানের বিষয়টা স্পষ্ট- আরবের গোত্রে গোত্রে বিভেদ থাকলেও বনী ইসরাইলের সবগুলো গোত্রের ভেতরে নানাবিধি বিভেদ থাকলেও একটা সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকাটা বাস্তব একটা সম্ভবনা-আর আমেরিকার মুসলিমদের মোট সংখ্যার ২১% ধর্মান্তরিত হলেও এটা কিন্তু মোটেও প্রমাণ করে না কথাটাকে যে আমেরিকায় প্রতিবছর মুসলিম জনগোষ্ঠির সংখ্যা বাড়ছে যেটুকু তাতে প্রতি বছরই ২১% অবদান আছে ধর্মান্তরিত মুসলিমদের- এখনও ডাইভারসিটি ভিসার কল্যানে এবং রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের ব্যপক শিক্ষার্থী আসবার কারণে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়তেই পারে- এটা স্বাভাবিক প্রবনতা।
১৫. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:৪০
রাসেল ( ........) বলেছেন: তুমি আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করো- তবে এখন আমাকে দৌড় দিতে হবে-
রাসেল ( ........) বলেছেন: তুমি আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করো- তবে এখন আমাকে দৌড় দিতে হবে-
