আমাদের পূর্বপুরুষ যে বাঁদর ছিলো এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ আমাদের অনুকরণপ্রিয়তা। আমরা অনুকরণ করতে পছন্দ করি। ঐতিহ্যের কিংবা শেকড়ের খোঁজে অন্ধ অনুকরণ- আচারনিষ্ঠতা এবং নিয়মানুবর্তীতার সাথে সম্ভ্রমবোধের মিশ্রণের আমরা বিখ্যাতজনদের পূজনীয় বানিয়ে রীতিতে মগ্ন, আকণ্ঠ বুঁদ হয়ে রীতিভিন্নতায় রক্তপাতে ব্রতী।
কখনও অহিংস কঠোর বাক্যে কখনও সহিংস অস্ত্রাঘাতে ঘর্মাক্ত কুকুরের মতো লড়ে যাই
আমাদের সুন্নতি হুজুরদের কথা ভিন্ন- তারা আচারনিষ্ঠতায় সহস্রাব্দী- কবে কোন ফিকহবিদ কিভাবে শুয়েছিলো, কিভাবে সঙ্গম করেছিলো- কিভাবে নামাজে দাঁড়াতো, কিভাবে কাপড় পড়তো, কিভাবে চুল আর দাড়ি ছাঁটতো সবই আমরা জানি- নিয়মিত উদাহরণ হিসেবে সুন্নতী হুজুররা চোখের সামনে ঘুরে-
এতসব মাহাজাবে বিভক্ত আমাদের সুন্নতি হুজুররা- হানাফি- শাফেঈ মালিকি মোহাম্মদি ভিন্ন ভিন্ন মিশ্রণে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়- নিজস্ব অনুভবের বাইরে গিয়ে নিজস্ব উপলব্ধির বাইরে গিয়ে ধর্ম যখন পারা উঠে যাওয়া আয়নায় প্রতিবিম্বের মুখ ভেঙচানি হয়ে দাঁড়ায় তখন ধর্ম নামক দানবের সামনে দাঁড়ায় এমন সাহসী কয়জনা-
প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল- তবে যেহেতু যেহেতু সহস্রাব্দ প্রাচীন গোলক ধাঁধায় পথ হাতরাচ্ছে কতিপয় উদভ্রান্ত মানুষ তাই প্রযুক্তিকে মেনে না নিয়ে তারা প্রযুক্তিকেই প্রতিহত করতে চায়
নতুনের প্রতি হিংসা নয় এটা ফোবিয়া- যদি কোনো ভাবে ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়ে যায় তার সব আচারনিষ্ঠতা তবে বেঁচে থাকবার উপলক্ষ্য থাকবে না কোনো এ জনিত ভীতি থেকে তারা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়- আত্মহত্যা প্রবন হয়ে উঠবার ঝুঁকি এড়াতে কেউ কেউ গ্রীষ্মের ফতোয়া দিয়ে দেয় ঘোর মাঘ মাসে আর সারা রাত বারান্দায় শীতে কাঁপে-
আমাদের শালীন অশালীন সব অনুভব সব সময় যে একটা ভীষণ সভ্যতা মেনে সভ্য হয়ে উঠতে হবে এমন কোনো নিয়ম বাঁধা নেই- তবে সুন্নতি হুজুরদের সব কিছুই আসলে কোনো না কোনো ভাবে ঐশী প্রণোদনায় সম্পাদিত হতে হবে-
হাদিসমোতাবেক জীবনযাপনের মোহগ্রস্থ মানুষ কম নেই- বাংলাদেশের মুসলিমদের একটা বড় অংশই ধর্মান্তরিত অন্ত্যজ হিন্দু- তাদের পেশাভিত্তিক বংশপদবী গ্রহনের রীতিটাও এ কারণে তেমন অবাক করা নয়- তবে মধ্যপ্রচ্যে একটা ভালো রীতি ছিলো- লোকালয়ের পরিচয়ে মানুষের পরিচয়- আবু হানিফা অনেকেই হতে পারে তবে কেউ বসরার- কেউ কুফার- কেউ মাদিনার- তাই সবাই নামের শেষে তার জন্মভুমির নাম লিখে রাখে- আবু হানিফা বসরি- আবু হানিফা মাদানী- তাই বাংলাদেশের সুন্নতি হুজুররাও একই রীতি মেনে শুরু করলো- চাঁদপুরী- ফরিদপুরি- চিলমারি- হাকিমপুরি- বুজুর্গ আলেমরা নিজের নামের সাথে জন্মস্থানের নাম নিয়ে ঘুরতেন নাম সংকটে- এখানে নাম সংকটের চেয়ে বড় হলো ঐতিহ্যের অনুকরণ- একই নামের কতিপয় বান্দা একই সভায় উপস্থিত থেকে বড়ই যন্ত্রনার কারণ হলে কেউ বলতো আমি মাখনপুরের মদন- আমি সমরখন্দের আকন্দ আমি মিল্লত গঞ্জের ইল্লত-
সুন্নতি হুজুরদের মেধার সাথে তাল মিলিয়ে নীচে নামতে পারবো না তাই তাদের ভাবনার জগত থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখি-
কয়েকদিন আগে রাস্তায় দেখলাম রবীন্দ্রনাথের প্রিয় রান্না- অবাক হই নি- রবীন্দ্রনাথ নিজের মতো খাদ্যাভ্যাস তৈরি করেছিলেন- তার করল্লার তিতা ভালো নাও লাগতে পারে তার কাছে সন্দেশ বিষবত হতে পারে- সে হয়তো ডালের চচ্চরি খেতো কাসুন্দ খেতো ভাতে মিশিয়ে- একটা মানুষ যা ভালো লাগে তাই খাবে- সেভাবেই রান্না করে খাবে- সেই মৃত মানুষ কি পছন্দ করতো সেটা বাজারে সাইনবোর্ড দিয়ে প্রচারের ব্যবসায়িক মাহত্ব্য কোথায়?
এখানেই অর্থনীতি আর শিল্প নিজেদের পোঁদে নিজেরা আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকে- রবীন্দ্রভক্ত একটা শ্রেনী তৈরি হয়ে আছে- যারা রবীন্দ্র ঐতিহ্যের অনুসারী- রবীন্দ্রনাথ তোলা পানিতে গোসল করতেন- বহমান পানি বা গঙ্গা স্লানে তার রুচি ছিলো না- বরং কুঁজো ভর্তি যে জল আসতো সে জল ঘড়ায় তুলে ছপাছপ চান করে ফেলতেণ- তোলাজল প্রীতি ছিলো বলেই সম্ভবত শেষের কবিতায় অমিত বলতে পেরেছিলো- তোমার প্রেম সেতো দীঘির জল আর ওর প্রেম সেতো ঘড়ায় তোলা জল- অবগাহন আর কাজ চালানোর ভেতরের ফারাক-
প্রেম নদীতে স্লানের মতো কিংবা বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে অবগাহনের মতো প্রেমের উপমা রবি বাবু দিবেন না- তার জলের স্মৃতি আর স্মৃতির জলে অবগাহন তা অবহমান
রবীন্দ্রপূজারিরা এমন তোলা জলের প্রেমে মগ্ন হয়ে থাকলে ক্ষতি নেই কোনো- আচার নিষ্ঠতা তাদের রবীন্দ্রবাঁদরের পর্যায়ভুক্ত করলেও তার শখের বাঁদর-
বিশেষ বৈশিষ্ঠ্যমন্ডিত বলেই কানা আলেম, ধলা পিটার, মুরগি মিলন এরাও গনমাধ্যমে আসে- চিনি জাফর ফাইভ মার্ডার বিশু আর এইট মার্ডার ইলিয়াস শোভা পায় প্রথম পাতায়- একই ভাবে নতুন এসেছে বনের রাজা ওসমান- তাকে নিয়ে গনমাধ্যমের ইতরামিও চোখে পড়লো- সবাই অনুকরণমত্ততায় ভুলেই গেলো তাদের পেশাগত মানবিকতার কথা- বর্তমান দিনের দৈনিকে ক্যাচ ফ্রেজ ধরবার প্রবনতা- চাল্লু শব্দ খোঁজার লোভে কখনও কখনও সেটা শোভনতার সীমা অতিক্রম করে চলে যায় অন্য কোনো অশোভনতায়- তবে ঐ যে আমাদের বাঁদর স্বভাব- তাই এটাতে স্বাগত জানাই-
একটা সময় নজরুলের বাবরি আর রবীন্দ্রনাথের দাড়ি বাঁদরামির কবলে পড়ে অনেকের ঘাড়ে আর গলায় ঝুলেছে- এখনও ঝুলে তবে পাত্র বদলেছে- এখন ন্যাকা ন্যাকা মানুষেরা বর্তমানের ফ্যাশানগুরুরা যা করছে সেটাই অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশে ছেলেদের শার্ট আর প্যান্ট দেখলে মনে হয় শার্টের কাপড়ের পরিমাণ কমে সেটা কলারে যুক্ত হয়েছে- গাধার কানের মতো বড় বড় ঝুল ওয়ালা শার্ট যা দেখে মনে হয় সেই সুদুর অতীতে যখন শার্ট বানানো হয়েছিলো এর পর মানুষটা মাপে বেড়েছে তবে নতুন শার্ট বানানোর পয়সা জোগাড় করতে পারে নি- আমির খান একবার ঠোঁটের নীচে দাড়ি রাখলো- চুই দাড়ি- সেই চুই দাড়ি সবার ঠোঁটের নীচে ঝুলে থাকলো- সালমান আধা ন্যাংটো হয়ে ঘুরছে- সেই পোস্টার ঝুলছে সবার ঘরে-
আমাদের সময়টা অন্ধ সময়- আমরা সবাই নিজেদের নায়ক খুঁজছি- নায়কের খোঁজে প্রাণান্ত আমরা যখন যার ঠাঁট দেখে মুগ্ধ হচ্ছি তাকেই নায়ক পদে অভিষিক্ত করছি- একই কারণে অভিষেক আর ঐশ্বরিয়ার বিয়ে নিয়ে দেশ জুড়ে মাতামাতি- দুইটা মানুষ বিয়ে করছে এটাতে এত লাফালাফির কি আছে- এমনতো না যে বেশী লাগালে একদিন অভিষেক ভাগ দিবে- এমনও না যে ঐশ্বরিয়ার সাথে একরাত ঘনিষ্ট কাটানোর সুযোগ দিবে যদি সব পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিতে পারে কেউ-
ভারতের লোকজনের হুজুগ বাংলাদেশেও পড়লো- এটিএন বাংলার সাংবাদিক গিয়ে বিয়ের খবর পাঠালো -শালার আজব চিরিয়া এই মিডিয়া- সবাই কাপড় খুলে ঘুরতে চাইলে এরাও কাপড় খুলে ঘুরবে- কেনো ঘুরছে এই প্রশ্ন না করেই অনুকরণ শুরু করে দিবে-
গণতন্ত্রায়নের সুশীল বাঁদরামীর কবলে পড়ে বরং খানিকটা আশ্বস্ত হই- উকুন বাছার মতো দুবৃত্বের কবল থেকে বাংলাদেশ রক্ষার বাঁদরামি করছে দুদক- তবে ঠক বাছতে গা উজার অবস্থা- সততা নামক বস্তুটা এমনই দুস্প্রাপ্য হয়ে গেছে যে খোদ দুদকে এক দুর্নীতিবাজকে নিয়োগ দেওয়া হলো-
আর সবাই নিজস্বার্থের লোভে চলছে- একই কারণে সামরিক সরকার সবাইকে প্ল্যান্টেড এভিডেন্ডের মাধ্যমে গ্রেফতার করছে- সরকার তোষণের নীতিমালা মেনে সামরিক শিশ্নচোষণের বাঁদরামি করছে বিচার বিভাগ- পুলিশ একই ভাবে রাষ্ট্রীয় হত্যার সহযোগি- গত ৬ মাসের প্রতি মাসে গড়ে ২১ জনকে রাষ্ট্র হত্যা করেছে- আহত করেছে কতজনকে সে হিসাব নেই- কত পরিবারকে নিঃস্ব করেছে এই হিসাব নেই-
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বাঁদরামি সেনাবাহিনীর বন্দুকে - তারা বন্দুক দিয়ে বাজার দর নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে- বাজারের সামনে সেনা টহল চলছে- পশ্চিমা বাঁদরামিতে মগ্ন কতিপয় উল্লুক মার্কিনী গণতন্ত্রকে মডেল ধরে সামনে আসছে- শামুক আর হরিণের সঙ্গমে উৎপন্ন সিদ্ধান্তগুলো কখনও অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে কখনও ধাবন্ত এবং কখনও শ্লথ- ভীষন রকম শ্লথ- আর এই শ্লথতা একটা শ্রেনী বিভাজন আছে-
মনে হয় এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলছে সরকার-
আমার ভীষন রকম সন্দেহ এই সরকার আসলে সবাইকে ব্ল্যাক মেইল করছে- যেহেতু স্বজনপ্রীতিতে সবাই সমান মাপের অংশীদার তাই নতুন একটা মেরু তৈরি করতে গিয়ে যারা সামরিক বাহিনীর কথা মেনে চলছে তাদের জন্য একটা আলাদা নীতিমালা- যারা বিরোধিতা করছে তাদের জন্য আলাদা নীতিমালা- একই কারণে মান্নান ভুইয়ার মামলা খারিজ হয়ে যায় আর সারোয়ার জামালকে আটক করে যৌথ বাহিনী= মতিউর রহমান নিজামি বিদেশ যায় জামিন নিয়ে আর শেখ হাসিনা দেশে আটকে পড়ে থাকে হাইকোর্টের নির্দেশে-
এভাবে নিজেরা বাছাই করে যেই বাঁদরামি শাসনের নমুনা আমাদের সামনে রেখেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং তারা যেভাবে নিজেদের অনবগত প্রমাণের চেষ্টা করেন এবং ধরা পড়লে অক্লেশে মিথ্যা বলে যান দেখে লজ্জা লাগে-
এইসব নীতিবাগিশ অশ্লীল বাঁদরদের কবল থেকে আমাদের কবে মুক্তি আসবে সেই দিন গোনা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই এখন।
কখনও অহিংস কঠোর বাক্যে কখনও সহিংস অস্ত্রাঘাতে ঘর্মাক্ত কুকুরের মতো লড়ে যাই
আমাদের সুন্নতি হুজুরদের কথা ভিন্ন- তারা আচারনিষ্ঠতায় সহস্রাব্দী- কবে কোন ফিকহবিদ কিভাবে শুয়েছিলো, কিভাবে সঙ্গম করেছিলো- কিভাবে নামাজে দাঁড়াতো, কিভাবে কাপড় পড়তো, কিভাবে চুল আর দাড়ি ছাঁটতো সবই আমরা জানি- নিয়মিত উদাহরণ হিসেবে সুন্নতী হুজুররা চোখের সামনে ঘুরে-
এতসব মাহাজাবে বিভক্ত আমাদের সুন্নতি হুজুররা- হানাফি- শাফেঈ মালিকি মোহাম্মদি ভিন্ন ভিন্ন মিশ্রণে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়- নিজস্ব অনুভবের বাইরে গিয়ে নিজস্ব উপলব্ধির বাইরে গিয়ে ধর্ম যখন পারা উঠে যাওয়া আয়নায় প্রতিবিম্বের মুখ ভেঙচানি হয়ে দাঁড়ায় তখন ধর্ম নামক দানবের সামনে দাঁড়ায় এমন সাহসী কয়জনা-
প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল- তবে যেহেতু যেহেতু সহস্রাব্দ প্রাচীন গোলক ধাঁধায় পথ হাতরাচ্ছে কতিপয় উদভ্রান্ত মানুষ তাই প্রযুক্তিকে মেনে না নিয়ে তারা প্রযুক্তিকেই প্রতিহত করতে চায়
নতুনের প্রতি হিংসা নয় এটা ফোবিয়া- যদি কোনো ভাবে ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়ে যায় তার সব আচারনিষ্ঠতা তবে বেঁচে থাকবার উপলক্ষ্য থাকবে না কোনো এ জনিত ভীতি থেকে তারা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়- আত্মহত্যা প্রবন হয়ে উঠবার ঝুঁকি এড়াতে কেউ কেউ গ্রীষ্মের ফতোয়া দিয়ে দেয় ঘোর মাঘ মাসে আর সারা রাত বারান্দায় শীতে কাঁপে-
আমাদের শালীন অশালীন সব অনুভব সব সময় যে একটা ভীষণ সভ্যতা মেনে সভ্য হয়ে উঠতে হবে এমন কোনো নিয়ম বাঁধা নেই- তবে সুন্নতি হুজুরদের সব কিছুই আসলে কোনো না কোনো ভাবে ঐশী প্রণোদনায় সম্পাদিত হতে হবে-
হাদিসমোতাবেক জীবনযাপনের মোহগ্রস্থ মানুষ কম নেই- বাংলাদেশের মুসলিমদের একটা বড় অংশই ধর্মান্তরিত অন্ত্যজ হিন্দু- তাদের পেশাভিত্তিক বংশপদবী গ্রহনের রীতিটাও এ কারণে তেমন অবাক করা নয়- তবে মধ্যপ্রচ্যে একটা ভালো রীতি ছিলো- লোকালয়ের পরিচয়ে মানুষের পরিচয়- আবু হানিফা অনেকেই হতে পারে তবে কেউ বসরার- কেউ কুফার- কেউ মাদিনার- তাই সবাই নামের শেষে তার জন্মভুমির নাম লিখে রাখে- আবু হানিফা বসরি- আবু হানিফা মাদানী- তাই বাংলাদেশের সুন্নতি হুজুররাও একই রীতি মেনে শুরু করলো- চাঁদপুরী- ফরিদপুরি- চিলমারি- হাকিমপুরি- বুজুর্গ আলেমরা নিজের নামের সাথে জন্মস্থানের নাম নিয়ে ঘুরতেন নাম সংকটে- এখানে নাম সংকটের চেয়ে বড় হলো ঐতিহ্যের অনুকরণ- একই নামের কতিপয় বান্দা একই সভায় উপস্থিত থেকে বড়ই যন্ত্রনার কারণ হলে কেউ বলতো আমি মাখনপুরের মদন- আমি সমরখন্দের আকন্দ আমি মিল্লত গঞ্জের ইল্লত-
সুন্নতি হুজুরদের মেধার সাথে তাল মিলিয়ে নীচে নামতে পারবো না তাই তাদের ভাবনার জগত থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখি-
কয়েকদিন আগে রাস্তায় দেখলাম রবীন্দ্রনাথের প্রিয় রান্না- অবাক হই নি- রবীন্দ্রনাথ নিজের মতো খাদ্যাভ্যাস তৈরি করেছিলেন- তার করল্লার তিতা ভালো নাও লাগতে পারে তার কাছে সন্দেশ বিষবত হতে পারে- সে হয়তো ডালের চচ্চরি খেতো কাসুন্দ খেতো ভাতে মিশিয়ে- একটা মানুষ যা ভালো লাগে তাই খাবে- সেভাবেই রান্না করে খাবে- সেই মৃত মানুষ কি পছন্দ করতো সেটা বাজারে সাইনবোর্ড দিয়ে প্রচারের ব্যবসায়িক মাহত্ব্য কোথায়?
এখানেই অর্থনীতি আর শিল্প নিজেদের পোঁদে নিজেরা আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকে- রবীন্দ্রভক্ত একটা শ্রেনী তৈরি হয়ে আছে- যারা রবীন্দ্র ঐতিহ্যের অনুসারী- রবীন্দ্রনাথ তোলা পানিতে গোসল করতেন- বহমান পানি বা গঙ্গা স্লানে তার রুচি ছিলো না- বরং কুঁজো ভর্তি যে জল আসতো সে জল ঘড়ায় তুলে ছপাছপ চান করে ফেলতেণ- তোলাজল প্রীতি ছিলো বলেই সম্ভবত শেষের কবিতায় অমিত বলতে পেরেছিলো- তোমার প্রেম সেতো দীঘির জল আর ওর প্রেম সেতো ঘড়ায় তোলা জল- অবগাহন আর কাজ চালানোর ভেতরের ফারাক-
প্রেম নদীতে স্লানের মতো কিংবা বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে অবগাহনের মতো প্রেমের উপমা রবি বাবু দিবেন না- তার জলের স্মৃতি আর স্মৃতির জলে অবগাহন তা অবহমান
রবীন্দ্রপূজারিরা এমন তোলা জলের প্রেমে মগ্ন হয়ে থাকলে ক্ষতি নেই কোনো- আচার নিষ্ঠতা তাদের রবীন্দ্রবাঁদরের পর্যায়ভুক্ত করলেও তার শখের বাঁদর-
বিশেষ বৈশিষ্ঠ্যমন্ডিত বলেই কানা আলেম, ধলা পিটার, মুরগি মিলন এরাও গনমাধ্যমে আসে- চিনি জাফর ফাইভ মার্ডার বিশু আর এইট মার্ডার ইলিয়াস শোভা পায় প্রথম পাতায়- একই ভাবে নতুন এসেছে বনের রাজা ওসমান- তাকে নিয়ে গনমাধ্যমের ইতরামিও চোখে পড়লো- সবাই অনুকরণমত্ততায় ভুলেই গেলো তাদের পেশাগত মানবিকতার কথা- বর্তমান দিনের দৈনিকে ক্যাচ ফ্রেজ ধরবার প্রবনতা- চাল্লু শব্দ খোঁজার লোভে কখনও কখনও সেটা শোভনতার সীমা অতিক্রম করে চলে যায় অন্য কোনো অশোভনতায়- তবে ঐ যে আমাদের বাঁদর স্বভাব- তাই এটাতে স্বাগত জানাই-
একটা সময় নজরুলের বাবরি আর রবীন্দ্রনাথের দাড়ি বাঁদরামির কবলে পড়ে অনেকের ঘাড়ে আর গলায় ঝুলেছে- এখনও ঝুলে তবে পাত্র বদলেছে- এখন ন্যাকা ন্যাকা মানুষেরা বর্তমানের ফ্যাশানগুরুরা যা করছে সেটাই অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশে ছেলেদের শার্ট আর প্যান্ট দেখলে মনে হয় শার্টের কাপড়ের পরিমাণ কমে সেটা কলারে যুক্ত হয়েছে- গাধার কানের মতো বড় বড় ঝুল ওয়ালা শার্ট যা দেখে মনে হয় সেই সুদুর অতীতে যখন শার্ট বানানো হয়েছিলো এর পর মানুষটা মাপে বেড়েছে তবে নতুন শার্ট বানানোর পয়সা জোগাড় করতে পারে নি- আমির খান একবার ঠোঁটের নীচে দাড়ি রাখলো- চুই দাড়ি- সেই চুই দাড়ি সবার ঠোঁটের নীচে ঝুলে থাকলো- সালমান আধা ন্যাংটো হয়ে ঘুরছে- সেই পোস্টার ঝুলছে সবার ঘরে-
আমাদের সময়টা অন্ধ সময়- আমরা সবাই নিজেদের নায়ক খুঁজছি- নায়কের খোঁজে প্রাণান্ত আমরা যখন যার ঠাঁট দেখে মুগ্ধ হচ্ছি তাকেই নায়ক পদে অভিষিক্ত করছি- একই কারণে অভিষেক আর ঐশ্বরিয়ার বিয়ে নিয়ে দেশ জুড়ে মাতামাতি- দুইটা মানুষ বিয়ে করছে এটাতে এত লাফালাফির কি আছে- এমনতো না যে বেশী লাগালে একদিন অভিষেক ভাগ দিবে- এমনও না যে ঐশ্বরিয়ার সাথে একরাত ঘনিষ্ট কাটানোর সুযোগ দিবে যদি সব পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিতে পারে কেউ-
ভারতের লোকজনের হুজুগ বাংলাদেশেও পড়লো- এটিএন বাংলার সাংবাদিক গিয়ে বিয়ের খবর পাঠালো -শালার আজব চিরিয়া এই মিডিয়া- সবাই কাপড় খুলে ঘুরতে চাইলে এরাও কাপড় খুলে ঘুরবে- কেনো ঘুরছে এই প্রশ্ন না করেই অনুকরণ শুরু করে দিবে-
গণতন্ত্রায়নের সুশীল বাঁদরামীর কবলে পড়ে বরং খানিকটা আশ্বস্ত হই- উকুন বাছার মতো দুবৃত্বের কবল থেকে বাংলাদেশ রক্ষার বাঁদরামি করছে দুদক- তবে ঠক বাছতে গা উজার অবস্থা- সততা নামক বস্তুটা এমনই দুস্প্রাপ্য হয়ে গেছে যে খোদ দুদকে এক দুর্নীতিবাজকে নিয়োগ দেওয়া হলো-
আর সবাই নিজস্বার্থের লোভে চলছে- একই কারণে সামরিক সরকার সবাইকে প্ল্যান্টেড এভিডেন্ডের মাধ্যমে গ্রেফতার করছে- সরকার তোষণের নীতিমালা মেনে সামরিক শিশ্নচোষণের বাঁদরামি করছে বিচার বিভাগ- পুলিশ একই ভাবে রাষ্ট্রীয় হত্যার সহযোগি- গত ৬ মাসের প্রতি মাসে গড়ে ২১ জনকে রাষ্ট্র হত্যা করেছে- আহত করেছে কতজনকে সে হিসাব নেই- কত পরিবারকে নিঃস্ব করেছে এই হিসাব নেই-
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বাঁদরামি সেনাবাহিনীর বন্দুকে - তারা বন্দুক দিয়ে বাজার দর নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে- বাজারের সামনে সেনা টহল চলছে- পশ্চিমা বাঁদরামিতে মগ্ন কতিপয় উল্লুক মার্কিনী গণতন্ত্রকে মডেল ধরে সামনে আসছে- শামুক আর হরিণের সঙ্গমে উৎপন্ন সিদ্ধান্তগুলো কখনও অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে কখনও ধাবন্ত এবং কখনও শ্লথ- ভীষন রকম শ্লথ- আর এই শ্লথতা একটা শ্রেনী বিভাজন আছে-
মনে হয় এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলছে সরকার-
আমার ভীষন রকম সন্দেহ এই সরকার আসলে সবাইকে ব্ল্যাক মেইল করছে- যেহেতু স্বজনপ্রীতিতে সবাই সমান মাপের অংশীদার তাই নতুন একটা মেরু তৈরি করতে গিয়ে যারা সামরিক বাহিনীর কথা মেনে চলছে তাদের জন্য একটা আলাদা নীতিমালা- যারা বিরোধিতা করছে তাদের জন্য আলাদা নীতিমালা- একই কারণে মান্নান ভুইয়ার মামলা খারিজ হয়ে যায় আর সারোয়ার জামালকে আটক করে যৌথ বাহিনী= মতিউর রহমান নিজামি বিদেশ যায় জামিন নিয়ে আর শেখ হাসিনা দেশে আটকে পড়ে থাকে হাইকোর্টের নির্দেশে-
এভাবে নিজেরা বাছাই করে যেই বাঁদরামি শাসনের নমুনা আমাদের সামনে রেখেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং তারা যেভাবে নিজেদের অনবগত প্রমাণের চেষ্টা করেন এবং ধরা পড়লে অক্লেশে মিথ্যা বলে যান দেখে লজ্জা লাগে-
এইসব নীতিবাগিশ অশ্লীল বাঁদরদের কবল থেকে আমাদের কবে মুক্তি আসবে সেই দিন গোনা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই এখন।
১. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৩
তারেক রহিম বলেছেন: সামনে কাউরে রাখতে না পারলে আমরা চক্ষে আন্ধার দেখি
। বিপ্লব।
তারেক রহিম বলেছেন: সামনে কাউরে রাখতে না পারলে আমরা চক্ষে আন্ধার দেখি
। বিপ্লব।২. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৯
হেজাব বলেছেন: মুক্তি আসতে সময় লাগবে, তাই দিন গোনা ছাড়া আসলেই কোনো কাজ নাই।
ভাল লাগল পড়ে...
হেজাব বলেছেন: মুক্তি আসতে সময় লাগবে, তাই দিন গোনা ছাড়া আসলেই কোনো কাজ নাই।ভাল লাগল পড়ে...
৩. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:০৮
সাধারন বলেছেন: সব বাঁদরের হল মেলা ভবে এসে.....
সাধারন বলেছেন: সব বাঁদরের হল মেলা ভবে এসে.....৪. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:১৫
হাসিব বলেছেন: বিপ্লব
হাসিব বলেছেন: বিপ্লব৫. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২৫
বাতি বলেছেন: এরকম লেখা মাসে একটা পড়লেও শান্তি। প্রেমপত্রে বিপ্লব যা লেখে তাই দিলাম।
বাতি বলেছেন: এরকম লেখা মাসে একটা পড়লেও শান্তি। প্রেমপত্রে বিপ্লব যা লেখে তাই দিলাম।৬. ০৭ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২৬
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: হিরো.....দা শিট। পরে বিস্তারিত লেখব।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: হিরো.....দা শিট। পরে বিস্তারিত লেখব।৭. ০৮ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ১:১২
শাহেনশাহ বলেছেন: আসল অংশটা আগে আসলে ভাল্লাগতে পড়তে
শাহেনশাহ বলেছেন: আসল অংশটা আগে আসলে ভাল্লাগতে পড়তে
