মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১০

কুরূপকথা ১

সে অনেক কাল আগের কথা- তখনও গণতন্ত্রের জন্ম হয় নি- কেবলমাত্র সে ডিমের কুসুমে ভ্রুণ হয়ে লুকিয়ে ছিলো, পালক মেখে এন্ডারসনের রাঝাঁস হয়ে উঠবার অপেক্ষায় ছিলো সে ভ্রুণ।
গণতন্ত্রের ভ্রুণে তা দিচ্ছিলো এক বুড়ো শকুন আর তার চারপাশ ঘিরে বসে ছিলো একদল বেবুন। তখন শীত শেষ হয় হয়। শীতের আমেজ মুছে যায় নি পৃথিবী থেকে। সুর্য্যি মামা কমলা কম্বল খুলে আড়মোড়া ভাঙতো দেরী করে আর এ কারণের মুখ ব্যাজার করে বসে থাকতো ভোর।

মানুষেরা খড় কুটো জ্বেলে ওম পোহাতো আর শিশুরা শিশির কণা দিয়ে ঘুম ধুয়ে ফেলতো চোখ থেকে। স্বপ্ন হিজিবিজি বালিশের উস্কোখুস্কো তুলাতে কিছু স্বপ্নের স্বেদও জমতো-

রোজ মাঝ রাত্তিরে হানা দিতো শকুনের পাল- বুড়ো শকুন ছিলো তাদের রাজা- শকুনেরা রাতজুড়ে এ পাহাড় ও জঙ্গল সে শিমুল মাদার কড়ই গাছের মাথায় সন্ধানী চোখ মেলে চারদিগন্তে তাকিয়ে পাহাড়া দিলো।
বুড়ো শকুন যে শিমুল গাছের গোড়ায় বসেছিলো গণতন্ত্র তা দিতে সেখানে মস্ত বড় একটা সাইনবোর্ড ঝুলানো ছিলো-
এ এলাকার আশে পাশে পঞ্চাশ হাতের ভেতরে কারো অকারণ উঁকিঝুঁকি মারা নিষেধ।
এই শিমুল গাছটাকে কেন্দ্র করেই আশে পাশের আরও গাছের শাখায় প্রহরী শকুনেরা বসে থাকতো, বসে থাকতো না আসলে ওঁত পেতে থাকতো-
দোয়েলের ঘর গেরস্থি ছিলো শিমুল গাছের পাশের জামরুল গাছে- আর চড়ুই কোনো মতে মাথা গুঁজে পড়ে ছিলো পাতার কুটিরে।

বেবুনের দল ছইলো অত্যুৎসাহী, তারা দল বেধে হানা দিলো জামরুল গাছে- দোয়েল প্রাণভয়ে উড়ে পালালো কোনোমতে- গৃহহীন হওয়ার শোকে মুহ্যমান দোয়েল দিনভর লুকিয়ে কাটালো আশের পাশের পাতার আড়ালে- বেবুনের তান্ডব শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা নাবলো- সন্ত্রস্ত দোয়েল ফিরে আসলে তার বাসার খোঁজে- বাসা নেই- জামরুলের এ ডাল ও ডাল লাফিয়ে সে খুঁজছিলো তার হারানো বাসা- এমনই সময় প্রহরী শকুনদের চোখ পড়লো তার উপরে- শিমুলের গোড়ায় আশে পাশে সন্দেহজনক গতিবিধির প্রতিবেদন পাঠানোর পরপরই ডানা মেলে উড়ে আসলো শকুনের দল-

পরদিন সকালে দোয়েলের চিন্নভিন্ন লাশ পাওয়া গেলো- বুক খুবলে নিয়েছে কেউ-

রোজ ভোরে বেবুনের পাল বুড়ো শকুনের সামনে আসে- রোজ জিজ্ঞাসা করে- আর কত দেরী? কবে ফুটবে গণতন্ত্রের ছানা? এ দিকে শকুনের ডানার অন্ধকারে বনের আলো ঢেকে যায়।
বুড়ো শকুন বলে এত অধৈর্য্য হলে হবে- রোসো বাবা দেখো না কেমন বীজবীজ শব্দ হচ্ছে-

একদিন ডিম ঠুকরে দেখলো সে একগুচ্ছ মালার মতো সাদা বল পড়ে আছে। বেবুনের দল চিৎকার করে উঠলো উল্লাসে- ঐ তো গণতন্ত্র দেখা যায়- শুভ্র মোতির মালার মতো গণতন্ত্র-
বুড়ো শকুন বললো- অপেক্ষার পালা শেষ এবার তোরা গণতন্ত্র বেছে নে- বেবুনের দলের গন্ডগোল লাগলো ভীষণ- অবশেষে কিছু মুক্তো জমা দিয়ে বেবুনের দলকে বুড়ো শকুন বললো বাকিগুলোর জিম্মায় রইলাম আমি-
এই একটা মোতি আমি লাগাবো আমার মুকুটে- অন্যগুলো ডানার আশে পাশে থাকবে-

বেবুনের দল চিৎকার করে বললো- এইতো মহৎ রাজার মতো কথা- কেমন ন্যায় বিচার- গণতন্ত্রকে মাথার মুকুটে তুলে রেখেছেন রাজন্য-
আহা বেশ বেশ বেশ আহা বেশ বেশ বেশ-

কদিন পরে মুক্তোর মতো সাদা বলগুলো ফেটে বের হলো বিষধর সাপের ছানা- তারা তিরতির করে ছুটলো চারপাশে- আর মুকুটে লাগানো ডিম থেকে বেরুনো সাপটা কিছুদিন মুকুট জড়িয়ে ছিলো তবে একদিন সেটাও দংশন করলো বুড়ো শকুনকে আর সে আঘাতে বুড়ো শকুন মরে গেলো-

বেবুনের রাজ্যের হাহাকার পড়লো- আহা সৎ মহান ন্যায়বিচারক বুড়ো শকুন- আমাদের রাজা আর নেই- টার দুঃখে আমরা কাতর- জানো তার ঘর থেকে কিছু ছেঁড়া প্লাস্টিকের ব্যাগ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় নি---
তবে শকুন নিয়মাবদ্ধ- আরও এক শকুন এ অবসরে দলের কতৃত্ব নিলো নিজের হাতে তুলে- মুহ্যমান বেবুনের দলকে বললো পুরোনো রাজাধিরাজ আসলে তোমাদের ঠকিয়েছে- এই দেখো আসলে প্লাস্টিকের ছেড়া টুকরোগুলো বড় একটা প্লাস্টিকের ব্যাগের অংশ- সেখানে জমা ছিলো আরও অনেকগুলো ব্যাগ সেই ব্যাগগুলোর কোনো হদিশ তোমরা পাও নি- তোমাদের ক্ষতি করেছে আসলে সে- গণতন্ত্রের বদলে বিষধর সাপের ঝাঁপি খুলেছে সে- তবে আমার উপরে বিশ্বাস রাখো আমি তোমাদের প্রকৃত গণতন্ত্র দেবো-

সে শকুন আবারও বড় একটা গোলমতো সাদা জিনিষের উপরে বসে তা দিতে লাগলো- বেবুনের দল আবারও উৎসুক হয়ে ঘিরে ধরলো তাকে-
গত ৫ বছরে আসলে জঙ্গলে প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে অনেক- আমরা শুমারি করে দেখেছি- এতে সবার সব স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যে গণতন্ত্র জন্মানোর প্রয়োজন তা একটু বড় না হলে সবার জন্য সুষম বন্টন হবে কিভাবে?
দিন যায়, মাস যায়- বছর যায়- সাদা মতো গোল জিনিষটার উপরে বসে থাকে শকুন আর বলে রোসো রোসো সোরো হয়ে এলো বলে- গণতন্ত্র নড়ছে- তোমরা বুঝছো না-

বেবুনেরা অস্থির মতি -আশেপাশের প্রতিটা ডালে লাগানো সোডিয়াম বাতির আলোতে উৎসুক তাকিয়ে দেখে কবে জন্মাবে গণতন্ত্রের ছানা-

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা বড় তীব্র হয়ে বাজলো তাদের বুকে- একদিন বেবুনের দল ঠিক করলো আর নয়- এবার আমরা নিজেরাই সব ঠিক করে নিবো- সবার জন্য সমান মাপের স্বপ্নের বরাদ্দ দেবো আমরাই- শকুন মানে না- বেবুন আর শকুনে লড়াই চলে- সবশেষে একদিন বুড়ো শকুনকে রেখেই গা ঢাকা দিলো ব াকি শকুনেরা-
শকুনেরা কৌশলগত পশ্চাতসরণ করলো-

বেবুনেরা সবাই পিঠা ভাগ করতে বসলো-
কোনো ভাবেই সুষম বন্টন হয় না- এটুকু ওটুকু হিসেব মেলাতে মেলাতে দেখা গেলো পিঠা শেষ হয়ে গেছে- শকুনেরা আড়াল থেকে দেখছিলো পিঠা ভাগ পর্ব- তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই দেখে তারা বিদ্রোহ করার আগেই এক বুড়ো ছাগল হাঁক দিয়ে বললো
গত রাতে গণতন্ত্রের ডিম পাওয়া গেছে- ডিমে তা দেওয়ার জন্য শকুন প্রয়োজন-

শকুনের পাল এসে জড়ো হলো- অবশ্য সাপ শকুন আর বেবুনের ভেতরে দহরম মহরম বেড়েছে বিগত সময়ে-
বেবুনের উৎকট উৎসাহে আর শূন ডিমে তা দিতে আগ্রহী নয়- তারা ঠিক করলো ১১ গোদা উল্লুক ঘিরে তাকবে শকুনকে আর শকুন গণতন্ত্রের ডিমে তা দিবে-

( প্রথম পর্ব সমাপ্ত )

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০

  • ৯ টি মন্তব্য
  • ২৫৩ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৩
অর্জুন মান্না বলেছেন: রাসেল, অবশেষে এগারো উল্লুক কী করল তা আসছে বলে অপেক্ষায় থাকব। ৫
২. ২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৪০
আরিফ জেবতিক বলেছেন: রাসেলের লেখায় ৫ এর উপর দেয়ার সিস্টেম চাই@মডুবৃন্দ।
৩. ২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৩
ইরতেজা বলেছেন: রাসেলের লেখায় ৫ এর উপর দেয়ার সিস্টেম চাই@মডুবৃন্দ।
৪. ২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:০৭
রাহা বলেছেন: প্প্বঙ্প্প্ব েপ্প্বপ্প্ব্রেপ্প্ব্যপ্প্ব্ত্র............................
৫. ২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:০৮
রাহা বলেছেন: প্প্বঙ্প্প্ব েপ্প্বপ্প্ব্রেপ্প্ব্যপ্প্ব্ত্র....??
৬. ২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৪
তুষার ০০৭ বলেছেন: রাসেলের লেখায় ৫ এর উপর দেয়ার সিস্টেম চাই@মডুবৃন্দ

ঠিক,৫০ করা হউক,এর কমে মানি না@মডুবৃন্দ
৭. ২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৮

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন