মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১০

মনোরম বিজ্ঞাপণ

পণ্যবাদীতা যদি হয় অন্তিম ভবিতব্য তবে বিপণন কৌশলে ইপ্সিত ফলাফল প্রাপ্তির জন্য প্রতিটা পণ্যের একটা নিজস্ব ইউনিক সেলিং পয়েন্ট থাকে- ইহা যা বলছে তাই সরবরাহ করবে- আপনি যদি ইহা গ্রহন করেন তবে আপনি উঁচু দরের মানুষ- আভিজাত্য- গরিমা মানবিক অনুভবকে পণ্যের ভেতরে গুঁজে দেওয়া- লাক্স সাবানের ইউনিক সেলিং পয়েন্ট হলো- বিশ্ব জুড়ে তারকাদের সৈন্দর্য সাবান- এই এক কাতারে উঠে যাওয়া কিংবা একই পণ্য ব্যবহারের গরিমা হারাতে চায় কে? হয়তো কোনো এক দিন তাহসান কিংবা জন আব্রাহামের তারকামূল্য নির্ধারণের পর কোনো কমোড কিংবা ইউরিন্যাল কোম্পানি বিজ্ঞাপনে লিখবে- বিশ্বজুড়ে তারকাদের হাগুর জন্য নির্ভরযোগ্য কমোড *******।

বিজ্ঞাপন বিপনন কৌশলের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে সহায়ক শক্তি- বিভিন্ন রূপ ও রূপকে আমাদের বিপনন কৌশলীরা আমাদের প্রলুব্ধ করেন নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়ে- বিপনন কৌশলের বাহারী বুলি শেখানোর নিমিত্তে নয় বরং আমি আমার লেখার ইউনিক সেলিং পয়েন্ট তুলে ধরতে চাই-
ত্রিভূজ আমার লেখাকে অসাধারণ বলেছে- আমি কৃতার্থ- এটাই আমার লেখালেখি জীবনের চরম স্বার্থকতা-
আমি ত্রিভূজের জাতে উঠতে না পারলেও ত্রিভূজের পাতে উঠে এসেছি- মানুষ যা খায় মানুষ তাই কথাটা বোধ হয় এখানে প্রযোজ্য হবে না বরং আমি এখনই নিজের লেখাকে কাঁঠাল পাতা হিসেবে প্রসিদ্ধ ভাবতে পারি- কচি সতেজ কাঁঠাল পাতার আস্বাদন পাওয়া যাবে এখানে-

শ্লোগানটা নির্ধারিত হয়ে গেলে বিপণন সহজ হয়- বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একথা সত্য যে এখানে এখনও ভালো কথার বাজার দর বেশ ভালো- ভালো কথা বলে দিব্যি পয়সা কামাই করা যায় এর প্রমাণ আমাদের পীর বুজু্গ এবং আমাদের সুশীল সমাজ- এরা সবাই আমাদের নির্দিষ্ট সংস্কৃতির পাঠ শেখান- আমাদের জীবনযাপনের প্রক্রিয়ায় ঠিক কোন কোন পরিবর্তন আনলে সেটা উপযুক্ত মানুষের মতো হবে এটাও শেখান তারা আমাদের-
ডজন খানেক বাংলা চ্যানেলের গুঁতাগুঁতি- আমাদের তারা বাঙালী বানাবে- বাঙালী সংস্কৃতি এবং কৃষ্টি নিয়ে এদের মাথাব্যাথার শেষ নেই- আমাদের নবান্ন- আমাদের বর্ষবরণ- আমাদের পহেলা ফাল্গুন- আমাদের চৈত সংক্রান্তি- আমাদের পৌষ সংক্রান্তি- এবং সুশীল সমাজ নিয়মিত এসবে যৌগদান করেন- এসব প্রচারিত হয়- আমরা মাছি থকথকে ভীড়ে ঘামতে ঘামতে বাঙালী হয়ে উঠি- এদের জনপ্রিয় শ্লোগান- সাংস্কৃতির অবক্ষয়- মুল্যবোধের অধঃপতন- কৃষ্টির বিনাশ- এবং অতিরিক্ত সংবেদনশীল মানুষের জৈবিক বিপাকের মতোই এসব বর্জ্য নিস্ক্রান্ত হয় প্রতিদিন-

আমাদের পীরবুজুর্গদের বাজারও ভালো- এরাও ভালো ভালো সদুপদেশ দেয় আমাদের- এদের সদুপদেশ শোনার জন্য আমাদের হাদিয়া দিতে হয়- এদের তরিকামোতাবেক চলার জন্যও আমাদের বাইয়্যাত নিতে হয়- আমরা একটা সংস্কৃতিতে উন্নীত হই-
ভালো কথা বলেও উপার্জন সম্ভব- আমাদের কামাল হোসেনও ভালো ভালো কথা বলেন- তিনি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের কথা বলেন- স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ববোধের কথা বলেন- তবে সাধারণ বোকাচোদা মানুষ ভালো কথা শুনতে চায় না- তারা চায় ব্রীজ আর আয় উন্নতির প্রতিশ্রুতি- এটা দিতে পারেন না বলেই কামালের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়- তিনি বোধ হয় কখনই নির্বাচিত সাংসদ ছিলেন না-

নির্বাচন কমিশন বলেছে কোনো রকম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না- নানারকম তরিকা দিয়েছে তারা- এতসব নিয়ম মেনে নির্বাচনের উৎসব থমকে যেতে পারে এমন আশংকা থাকলেও আমাদের গনতন্ত্র শেখানোর তীব্র বাসনায় তত্ত্বাবধায়ক দল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
মূল্যবোধের অবক্ষয়ও নির্বাচনী শ্লোগান হয়ে উঠে- অনেক অনেক আগে দিনাজপুরে চেয়ারম্যান নির্বাচনে জামাতের প্রার্থী দাঁড়িয়েছিলেন ডাব মার্কায়- সৎ ও যোগ্য মানুষের নেতৃত্বের সাথে তার নির্বাচনের ইউনিক সেলিং পয়েন্ট ছিলো পতিতালয় উচ্ছেদ-
থানার কাছাকাছি অবস্থিত ছিলো দিনাজপুর শহরের একমাত্র পতিতালায়- এটা এমন এক সময়ের গল্প যখন বিভিন্ন কথা শুনে শিহরিত হলেও ধনে পানি আসে নি বিধায় সে অঞ্চলে গিয়ে সরোজমিন তদন্তের কোনো সুযোগ আসে নি আমার-

বিমান অফিসের উল্টা পাশের পানাভর্তি পুকুরের পাশের পতিতালয়ে গামছায় মুখ বেঁধে অনেকেই যেতো- এতে নাকি দিনাজপুরের তরুন ও যুবক সমাজের নৈতিকতা আর মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে- এ অবক্ষয় থেকে তরুন ও যুবক সমাজকে রক্ষার জন্য ডাব মার্কার প্রার্থী পতিতালয় উচ্ছেদ করবেন-
নির্বাচন হলো- সকল রকম অনুমাণকে মিথ্যা প্রমাণিত করে ডাব মার্কা নির্বাচনে জিতলো- নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণে কোনো রকম বিকল্প পূনরবাসনের ব্যবস্থা না করেই পতিতাপল্লী উচ্ছেদ করা হলো- মানুষের সুবিধাই হলো আদতে- আগে কষ্ট করে গামছায় মুখ বেঁধে নির্দিষ্ট এলাকায় যেতে হতো- এখন বাসার সামনের রাস্তায় ঘুরে তারা- হোম ডেলিভারী সিস্টেম-দরজা খুলো প্রবেশ করো পয়সা দাও-
এদের সবচেয়ে বড় আস্তানা ছিলো রেলওয়ে স্টেশন আর টি এন্ড টির সামনের অন্ধাকরাচ্ছন্ন রাস্তা- আর পানাভর্টি পুকুরটা ভরাট করে সেখানে গড়ে উঠলো দিনাজপুর প্রেস ক্লাব- মনে হয় না এতে সে অঞ্চলের নৈতিকতার কোনো পরিবর্তন ঘটেছে এ ঘটনায়-

দীর্ঘ দিন পর এরা আবাস গড়ে বড় মাঠের পাশের গোডাউন সংলগ্ন এলাকায়-সেখানেই এরা ছাপড়া বেধে যৌন সেবা প্রদান করতো- এদের জীবন আমার কাছে অসহ্য মনে হলেও এরা নিজস্ব নিয়মে জীবন চালায়-

এদের জীবনেও প্রেম আসে- এদের জীবনেও উৎসব আসে- এরাও দল বেঁধে রঙ্গ করে- এরাও কৌতুক করে- এরাও সেজেগুঁজে প্রেমিকের প্রতীক্ষা করে- প্রেমিককে আনন্দ দিতে চায়-

অনেক দিন এক বন্ধুর কোনো খবর নেই- একদিন সকালে তাকে দেখলাম দোকানে- তখন কলেজে যাওয়ার তাড়া তাই থামি নি- পরে সন্ধ্যায় আসলাম- সে নেই- সেখানে আরেক বন্ধু দাঁড়িয়ে ছিলো ওকে বললাম কি রে ফিরোজ কোথায়?
উত্তর আসলো ও তো ওর মালটার কাছে গেছে- বড় মাঠে-মেয়েটা ভালো- ওকে টাকা দেয় দরকার থাকলে- চা সিগারেট খাওয়ায়-

আর বলবি না মামা একদিন হইছে কি জানিস- দিনাজপুরে চরম শীত- হুঁ হুঁ করে কাঁপতেছি ঠান্ডায়- ফিরোজ আসছে- বলে চল-
বললাম কই যাবি-তো বললো আবে চলনা বে- তো সেদিন কুয়াশাও পড়ছে তেমন- এক হাত দুরের মানুষ দেখা যায় না-তো আমাকে নিয়ে বড় মাঠে গেলো- আমাকে জ্যাকেটটা দিয়ে বলে তুই সিগারেট টান আমি আসতেছি-
বিশ্বাস করবা না মামা- আমি জ্যাকেটটা পড়ে বোতাম লাগায় সিগারেটটা ধরাইছি খালি ও আসে বললো চল-
আমি বললাম কিবে চুদা শেষ-
ও বললো হ কাম শেষ চল এখন-
ঐ খান থেকেই তো খারাপ রোগ লিয়ে আসলো-৩ মাস মেডিক্যালে ছিলো- ঐখানে নাকি ধনের ফুটা দিয়ে পাইপ ঢুকাইছে ওর-গত কাল আসছে রংপুর থেকে- সন্ধ্যায় আর দোকান খুলে নি- ওর মালটার সাথে দেখা করতে গেছে-
আসলে তেমন হেলাফেলার বিষয় না এটা- যৌনতার বাজারদর সব সময়ই ভালো-

গতকাল রাতেএক গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ভাড়াটে গায়ক এসেছিলো- গায়িকাও এসেছিলো- এখন আবার জমাইন্যা গায়িকার বাজারদর ভালো- এরা নির্দিষ্ট ছাঁটের পোশাক পড়ে বুক এবং কোমর ভালো মতো ঝাঁকাতে পারে-এদের গানের গলা থাক কিংবা না থাক তবে বুকের মাপ আর পাছার মাপ ভালো- হঠাৎ অকারণে অপ্রয়োজনে বুক ঝাকানো এসব গায়িকারা মধ্যরাতে গান শোনায়- বাইজি নাচানোর প্রক্রিয়া থেমে গেলেও এখন শোভন মানুষের সাংস্কৃতিক হয়ে উঠার জন্য বাসায় জলসা বসায় বিয়ের অনুষ্ঠানে- সেখানে উপস্থিত মানুষেরাও বিনোদিত হতে চায়- ক্রেতা এবং বিক্রেতা পরিচিত- তাই জঘন্য গানের সাথে হাঁফ ধরানো বুখ ঝাঁকানো দেখে উত্তেজিত তরুন যুবাদের তিনটা পা আনন্দে থরথর কাঁপে- উল্লাসে বাঁধনহারা হয়-
তবে এসব বিষয় আমাদের মূল্যবোধের কোনো রকম ক্ষতিসাধন করে না- আমাদের প্রমোদ ভ্রমনে অসামাজিকতা চলে- যদিও অসামাজিকতা শব্দটাও অনির্ণীত- ঠিক কোন আচরণ অসামাজিক কোন আচরণ সামাজিক এটা কেউ বলে দেয় না- তবে আমরা বুঝে যাই আসলে প্রমোদ ভ্রমনে এরা একান্তে নিজেদের শরীর নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করছিলো- যারা এ সুযোগ পায় নি তারা বলছে এটা অসামাজিক- যারা কাজটা করছে তারা বলছে এটা প্রেমের প্রকাশ- সবাই সঠিক মনে হয়- স্ট্রিপটিজ নাচের প্রচলন হয় নি এদেশে তাই কাপড়ের উপর থেকে যতটুকু বোঝা যায় ততটুকুতেই উত্তেজিত মানুষ- কিংবা রেখে ঢেকে রাখলেই বেশী কামনীয় মনে হয় সব-

বিজ্ঞাপনেও যৌনতা প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ- পরিশুদ্ধ যৌনতা কিংবা পরিশীলীত যৌনাবেদনের সাথে কৌশলে অপরিশিলীত যৌনতাও উপস্থাপিত হয় বিজ্ঞাপনে- যৌনগন্ধী বিজ্ঞাপনের মূল ভাষ্য এমনটাই- আমাদের পন্য ব্যবহারে নারী প্রলুব্ধ হবে অতএব আমাদের পণ্য ব্যবহার করো হে পুরুষ সম্প্রদায়-

বাংলাদেশ নয় সম্ভবত উপমহাদেশের সব এলাকাতেই বিবাহ ও পারিবারিক জীবন বিজ্ঞাপনের মূল থীম- এটাকে পরিবার কেন্দ্রীকতার কুফলও বলা যায়- কিংবা আমাদের সামাজিক মনঃস্তত্বও বলা যায় এটাকে-অন্তত ১০ খানা রং ফর্সা ক্রীম প্রচলিত- সবগুলোর সেলিং পয়েন্ট একটাই- ব্যবহার করো নারী তোমার বিবাহ হবে সঠিক বরের সাথে- সবাই তোমাকে কামনীয় ভাববে- অতএব রং ফর্সা করো- তবে আদতে কোনো কাজ হয় না- কালো মানুষের রং কালো জৈবিক কারণেই-বাইরে স্নো মেখে এখনও জেনেটিং কোডিং বদলানো সম্ভব হয় নি- এটাও প্রমানিত সত্য যে ভিটামিন ই সত্যি সত্যিই ত্বকের জন্য উপকারী- তবে বিপাকীয় পদ্ধতিতে এটা কোষে প্রবেশ করতে হবে- চুলের গোড়ায় যেখানে চুল উৎপন্ন হয় যেখানে প্রবেশের জন্য ভিটামিন ই পেট দিয়ে ঢুকাতে হবে- শ্যাম্পুতে সাবান আর ভিটামিন ই'র পরিমাণ বাড়ালেই এটা চুলের জন্য উপকারী হবে না- উপকারী হবে হয়তো যদি মাথায় না দিয়ে এটা কেউ খেয়ে ফেলে- তবে সৈন্দর্য্য বৃদ্ধি বিবাহজনিত সেলিং পয়েন্ট পুরুষদের জন্য কার্যকরী কিছু নয়- এদেশে এখনও সোনাচ চামুচ বাঁকাও ভালো পুরুষ মানুষ কালোও ভালো প্রবাদ প্রচলিত-তাই পুরুষদের পণ্যের সেলিং পয়েন্ট নারীরা প্রলুব্ধ হবে- রাজী হয়েও যেতে পারে- তবে নিশ্চিত আকর্ষিত হবে-তাই শেভিং ক্রীম-= রেজর আফটার শেভ লোশন- কিংবা হেয়ার জেল সবখানেই কামনীয় নারীরা পুরুষের বগল ধরে বাঁদরের মতো ঝুলতে থাকে-অন্তর্বাসেরও যৌনাবেদন আছে- তাই নির্দিষ্ট কোম্পানীর অন্তর্বাস পড়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নায়ক আর নায়িকা তার বুকের উপর মুর্ছা যায়- এবং অতঃপর পরদিন সকালে সে অন্তর্বাস ধুতে ধুতে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসীতে ভুগে-সিক্ত হয়ে উঠে- বিজ্ঞাপন রসস্থ হয়।

তবে বিজ্ঞাপন করে তারকা হয়ে যাওয়া মানুষ বাদ দিলে আমাদের তারকাদের ভেতরে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষটা জাহিদ হাসান- বেচারা পয়সার অভাবে নেভী সিগারেট টানতো- এখন আরও বাজে অবস্থা পসার কমেছে তাই হারপিক হাতে মানুষের ঘরে ঘের গিয়ে টয়লেট কমোড সাফ করছে- এইসব বিজ্ঞাপনের অনন্য বৈশিষ্ঠ হলো কমোড আর জাহিদ হাসানের দাঁত সমান মাপের ঝকঝকে।

বাংলাদের সুন্দর বিজ্ঞাপন বাদ দিলে রীতিমতো অশালীন বিজ্ঞাপনগুলো সবই সিগারেটের আর রং ফর্সাকরা ক্রীমের-নতুন অসভ্য বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছে রেক্সোনা ডিউডেরেন্টের বিজ্ঞাপণগুলো- অবশ্য বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক পক্ষের সবাই সুশীল সমাজের -তাই এখানে যদি কোনো রকম অবক্ষয়ের নিদর্শন থাকে তা কখনই প্রমাণিত হবে না- নিজের দই সবাই ভালো বলে- দিন রাত আমাদের নৈতিকতা আর মূল্যবোধের সবক দেওয়া মানুষেরা যখন সীমিত কিংবা অপরিমিত ভাবে যৌনতার ব্যবহার করেন বিপণনে তখন সেটা অশোভন হয়ে উঠবে না-
বিবেচনাহীন আচরণের একটা গল্প শুনেছিলাম পাবনা মানসিক হাসপাতালের এক ঠিকাদারের কাছে- সেখানের এক পাগল এক দিন ১০ ইঞ্চি ইটের উপর ধন রেখে অন্য একটা ইঁটাল দিয়ে ধন ছেঁচে ফেলেছিলো- পরবর্তীতে তার আর্তনাদ এবং রক্তপাতের ঘটনা দেখে তাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনা হয়-
সেখানে পরিচর্যা শেষে ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কেনো এ কাজটা করতে গেলেন-
রোগীর উত্তর ছিলো- অনেক চিন্তা কইরা দেখলাম ডাক্টার সাব- এইখানে এই জিনিষটার কোনো ফাংশন নাই- অযথাই জ্বালাতন তাই বেটাকে শক্ত ছ্যাঁচা দিলাম।

বাংলাদেশ এখন অসংখ্য সুশীলদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে- অনেক রকম তরিকার শেষে তপন চৌধুরী বলেছেন বিদ্যুত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না- অপরিণামদর্শীতার উদাহরণে প্রথম থেকে ১০০ পর্যন্ত অবস্থানে থাকবে এই সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ- যা আশা করা হয়েছিলো ভালো হবে তবে হিটে বিপরীত হয়ে বুমেরাং হয়ে গেছে কাজগুলো-

নিয়মিত টিভি দেখছি- এর মাঝে দেখলাম একদিন মৌকে--- কোনো এক নাচের অনুষ্ঠানে ভয়ংকর অবস্থা তার-জাহিদ হাসান পরিবার আমিন মোহাম্মদের কোনো এক বিজ্ঞাপনে সপরিবারের জমি কিনতে যায়- এই বিজ্ঞাপনের পরিবর্তী অবস্থাটা কোথাও দেখানো হয় নি- আবারও ইউনিক সেলিং পয়েন্ট
ডেভলপাররা গ্রীন মডেল টাউনের প্লট বরাদ্দ দিলেও সেখানে যাওয়ার রাস্তাটা এখনই ঠিক করতে পারে নি- পীচের রাস্তা হবে তাই রোলিং চলছিলো- সেখানেই মৌ আনন্দে গড়াগড়ি দিলো-
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বাউন্সি পীচে দুর্বলতার কথাটা সর্বজন স্বীকৃত- তাই ক্রিকেট কন্ত্রোল বোর্ড ঠিক করেছে সেই রাস্তাটা তুলে এনে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রাকটিস পীচ বানাবে তারা।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ২৫৩ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
২. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩৪
দ্রোহী বলেছেন: ওরে খাইছে রে...........!!

একটা লেখায় এতজনকে হোগামারা, অষ্টডটুর পক্ষেই সম্ভব।
৪. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৫০
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: সব দেশে/সমাজে বিজ্ঞাপনে তো একই অবস্থাই দেখি।
৫. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:০১
৬. ১৯ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৮
হযবরল বলেছেন: দিদি'রে বলবেন মেইল চেক করতে। কি একটা ফোন নিছেন, লাইন পাওয়া যায় না। অনলাইন আইলে একটা মেসেজ মারবেন, অবশ্যই।
৭. ১৯ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৩১
মৈথুনানন্দ বলেছেন: দুর...নেটনামচার চেয়ে ভালো প্রতিশব্দ হল সাইবারনামা।
৮. ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:৫৪
ত্রিভুজ বলেছেন: রাসেল সাহেব,
কিছুদিন পর পর ডুব দেন... তারপর ফিরা আইস্যাই আমার বন্দনা করে একটু হইলেও... ব্যপারটা কি আমার প্রতি আপনার বিশেষ দুর্বলতা ধইরা নিমু? আপনে মনে হয় একবার কইছিলেন যে, আপনার ছায়া মাড়াইলেই নাকি লোকজন মহান হয়ে উঠে। তো আমি তো ছায়া না... আপনার মহান মুখ নি:সৃত বাণীতে চইলা আইতাছি বারংবার.... আমার কি এতদিনে আরো বড় কিছু হইয়া যাওনের কথা না?


যাউকগা... ৫ দিলাম... তবে এই পাঁচের সুবাদে আপনার পরবর্তী পোষ্টে স্থান করে নিতে চাই না... এইটা আল্লাহর ওয়াস্তে ধরিয়া নিবেন।


আপনে মানুষটা খারাপ না... অন্তত এই ব্লগে ইদানিং যে কোয়ালিটির মানুষজনের সমাগম ঘটতাছে, তাদের তুলনায় আপনি তো পুরা পীর সাহেব... ! (একদিন সময় কইরা আপনার ছায়া মাড়িয়ে মহান হইবার চেষ্টা করিবার খায়েশ আছে... মহাত্মের অনুগ্রহ হইলে trivuz@জিমেইলে একখান ডিজিটাল পত্র প্রেরন করিবেন)


ভালো থাইকেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন