ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে বলার অধিকার আমার আছে, আমার ভাষাবিষয়ক শুঁচিবাইকে প্রশ্ন করার অধিকারও আছে সবার। আলোচনা হতেই পারে, আমার অভিমত কিংবা বিশ্লেষন সর্বাংশে সঠিক এমন এঁড়ে দাবি আমি করছি না। এটা আমার নিজস্ব অভিমত। যদিও বানানসংক্রান্ত দূর্বলতা বিদ্যমান, আমি নিজেও সঠিক বাংলা ভাষার চর্চা করছি এমনও দৃঢ় ভাবে বলতে পারছি না।তবে আমি আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করি, সচেতন ভাবে চেষ্টা করি বাংলায় কথা বলতে।
বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে এখন বেশ একটা উন্নাসিক অবস্থা চলছে দেশে। আমি যখন দেশ ছাড়লাম 4 বছর আগে তখনও এতটা প্রকট ছিলো না এই বিষয়টা। তখনও দেশে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যাবস্থা প্রচলিত ছিলো। তখনও ধানমন্ডির আশে পাশে ইংরেজি উচ্চারণের বাংলা বলার প্রচলন ছিলো, এই জানিষ আমাড় গ্রেডটা খাড়াপ এসেষে, এই রকম বাংলা শুনলে আমার অন্ডকোষ থেকে শুরু করে সবকটা স্পর্শকাতর জায়গাই বিষম প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। সেইসব ছেলেদের সঙ্গমযোগ্যা মা, বোন সহ মহিলা সমপ্রদায়ের সাথে বিশেষ বিশেষ ভঙ্গিতে সঙ্গম বাসনাও জাগরুক হতো। এমন বকচ্ছপ জাতীয় একটা প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন ছিলো যেনো তারা বাংলাদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে গ্রহন করে, তারা শাররীক ভাবে বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে থেকে যখন মনে করে তারাহলিউডের কোনো চরিত্রে অভিনয় করছে কিংবা তাদের কোনো পরিজন যে মেরিকা, লন্ডন থাকে কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় থাকে তাদের জীবনযাপন পদ্ধতির অন্ধ অনুকরন করছে তখন তাদের জন্য যে প্রাথমিক করুণার জন্ম হতো তা নষ্ট হয়ে স্পষ্ট বিরাগে রূপান্তরিত হতো।
আমার প্রায় সব বন্ধুই বাংলা মাধ্যমের ছাত্র, যদি সামাজিক স্তরবিন্যাসের কথা বলা হয় তাহলে তারা সবাই মধ্যবিত্ত এবং নিম্মমধ্যবিত্ত শ্রেনীর। এই একটা সমপ্রদায়ই আসলে বাংলা বই কিনে পড়ে। তা যেমনই হোক, সেবা প্রকাশনীর কিশোর ক্লাসিকস, তিন গোয়েন্দা, ওয়েস্টার্ন, হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল এইসব সহজপাচ্য সাহিত্যের ক্রেতা এরাই। এদের একটা অংশ পড়ে পাঠাভ্যাস বদলায়। আমাদের জোগা পাকনা কিছু নব্য আজিজে বা যেকোনো সাহিত্যসভানুগামী মানুষেরা কাফকা, লোরকা, বাতচেল্লি জাতীয় কথাবার্তা বলে, আর আমার মতো একটু আর্থিক অনটনে থাকা মানুষেরা তখনও দেশীর সাহিত্যের অনুরাগী পাঠক। এটাই পকেটের পক্ষে সরবরাহ করা সম্ভব। আমার অর্থের তেমন জোর নেই, তাই 100 টাকার বেশী দাম দিয়ে বই কিনতে পারি না। নীলক্ষেতের ফটোকপি বই পড়ে আমার সাহিত্যতৃষা মেটাই।
হিন্দি ভাষা বুঝতে বা বলতে তেমন সমস্যা হয় না আমার। আমার বাসার অর্ধেক মানুষ উর্দুতে কথা বলতে আর লিখতে পারে। আমার প্রজন্মে এসে এই প্রথা অনেকটা লুপ্ত। আমরা যেহেতু অভিবাসী এখানে যদিও আমাদের 3 প্রজন্ম এখানে বাংলাদেশে কেটেছে তবে প্রথম প্রজন্মের মানুষেরা উর্দু আর ফার্সির চর্চা করার কারনে 2য় প্রজন্মকে এই 2 ভাষার শিক্ষা দিয়েছিলো। আমাদের প্রজন্মকেও এই পারিবারিক প্রথার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিলো কিছু দিন। আমি তেমন ভাবে আরবি হরফের উপর ভরসা করতে পারি নি বলেই উর্দু কিংবা ফার্সি শেখার বিষয়ে উদাসীন ছিলাম।
আমার কোনো ভাষা শিখতে ইচ্ছা করে না, কোনো আগ্রহ নাই। প্রথমত বাংলাদেশে আমি যে পরিবেশে থাকি তাতে এর কোনো উপযোগিতা নেই। আমি তেমন ভাবে প্রবল সাহিত্যানুরাগী নই। আমার নিজের স্প্যানিশ বা ফ্রেঞ্চ ভাষায় সাহিত্য পড়ারও আগ্রহ নেই। হিন্দি ভাষায় পড়তে পারি তবে এটার সাহিত্য নিয়ে মাতামাতি করতে চাই না। আমি বাংলায় পড়তে চাই। তাই আমি সচেতন ভাবে কখনই বাজার থেকে ইংরেজী বা হিন্দি বা ফ্রেঞ্চ বা জাপানী কোনো ভিন্ন ভাষার বই কিনে পড়বো না। সাহিত্যের সামপ্রতিক ধারা সম্পর্কেও আমার আগ্রহ কম।
তারা যেভাবে লিখছে, যা লিখছে সেটাকে অনুকরন করার আগ্রহও আমার নেই, জেমস জয়েস পড়ার চেষ্টা করেছিলাম। বেশী দিন আগ্রহ টিকে নাই পড়ি নি। এর জন্য আমি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত না।কাফকা কিংবা বালজাক পড়ার ইচ্ছা হয় নি, যদিও এগুলো সহজলভ্য। ইচ্ছা করলেই পড়া যেতো। তবে ইংরেজী বা ভিন্ন ভাষায় এই বইগুলো পড়তে হবে এই যন্ত্রনা করতে ইচ্ছা করে নি।
আমার অশিক্ষা কিংবা কুশিক্ষার প্রভাবেই হয়তো। যেহেতু আমি ভিন্ন ভাষা জানি না তাই আমার বাংলার প্রতি একটা টান আছে। আবার মনে হয় মাঝে মাঝে যেহেতু 2-4 লাইন সাহিত্য লিখি মাঝে মাঝে তাই নিজের প্রতি সৎ থাকাটা কর্তব্য। ভাষার চর্চা- বিনির্মান- ধারাবাহিকতা- পরিবর্তন সবই সাহিত্যিকরাই করে থাকে। তাদের হাতেই ভাষা প্রাণ পায়, তারাই ভাষার সংরক্ষক।
1993এর শেষের দিকে হঠাৎ করে আকাশ সংস্কৃতির জোয়ার চলে আসলো। এলাকা দখল করে লোকজন তার টেনে আকাশে উড়তে থাকা বিভিন্ন পরবাসী সংস্কৃতিকে টেনে আনলো বৈঠক খানায়। এরপর আমরা আধুনিক সমাজের অংশ হয়ে গেলাম, আমাদের ছেলেদের পাছায় উঠলো প্রায় খুলে পড়া জিন্স, মেয়েদের শরীরের কাপড়ের ছাঁটও বদলালো। এইসব বাহ্যিক পরিবর্তনের টানে, আরও একটু সাবলীলতার প্রয়োজনে তারা শুধু পোশাকই না সংস্কৃতিটাকেও আত্তিকৃত করলো। তাই হিন্দি নিম্ন মানের হাজার পর্বের নাটকও অবশ্যই দেখতে হবে এমন একটা চর্চাও শুরু হলো। আমার অবশ্য তেমন করে এই প্রবাহে গা ভাসাতে হয় নি। সারাদিনের আড্ডা শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত 12টা। তখনও তেমন করে টিভি দেখার আগ্রহও থাকতো না। এর পরে আরও ব্যাস্ততা বাড়লো। আরও অনেক সংযোগ হলো। মনস্তাতি্বক সংযোগ, প্রেম এসব বাহ্যিক বিষয়কে নিয়ে মগ্ন হয়ে থাকার কারনে পরিবর্তনের ধারাটা বুঝলাম না। তখনও সেই 2 কুঁচি দেওয়া প্যান্ট আর চাইনিজ কাট শার্টই পরিধেয় হয়ে থাকলো। সংস্কৃতির চর্চা করতে গিয়ে ভেক ধরে পাঞ্জাবি গায়ে উঠানোর বিষয়টাকে সচেতন ভাবে এড়িয়ে যাওয়ায় ভালোই হয়েছে আসলে।
এরপরের সময়টাতে আরও বেশী মগ্ন থেকেছি বাংলায়। অনেক সাহিত্যিককে নতুন ভাবে আবিস্কার করলাম। যদিও প্রণব ভট্ট জাতীয় সাহিত্যিকে সাহিত্যাঙ্গন পচে গেছে, সমরেশের আদর্শবাদ কিংবা শীর্ষেন্দুর আধ্যাতিকতার সাথে হুমায়ুন আহমেদের মধ্যবিত্তের উচ্ছাস আর স্বপ্ন আর সাধের ফারাক আর সেই ফারাক পুরনের চেষ্টার সাহিত্য নিয়েও ক্লান্ত। সাহিত্যাঙ্গনের এইসব চর্চা ক্লিশে হয়ে যাওয়ার সাথেই আবার পরিবর্তন আনার বাসনাটা জাগরুক হলো। এইসব প্রচলিত ধারার বাইরে যেতে হলে এই সাহিত্যজনিত বাসনাকেও বুঝতে হবে। তাই দেশীয় সাহিত্য পড়েই সময় কাটলো যতটা অবসর ছিলো। তবে এই সম্পুর্ন বিষয়টার ভেতরে একটাই সমস্যা ছিলো বাংলায় এখনও পদার্থবিজ্ঞান পড়ার যোগ্যব্যাবস্থা হয় নি। আমাকে দিনের অনেকটা সময় ইংরেজি ভাষায় লিখিত পদার্থবিজ্ঞানের বই পড়তে হতো। নিছক জীবিকার টানে হয়তো এই যন্ত্রনাকে মেনে নিতে হয়েছে। অনেক বিজ্ঞানভিত্তিক পরিভাষা তেমন ভাবে পোক্ত না বিধায় বাংলায় বিজ্ঞানের বই লেখা কষ্টকর। আর তেমন প্রচেষ্টাও ছিলো না। বাংলা একাডেমী কিছুদিন চেষ্টা করেছিলো, কয়েকখন্ড বাংলা বই বের করার পর সেসব বইয়ের কাটতি ছিলো না বাজারে তাই অর্থনৈতিক কারনেই এই প্রক্রিয়া একটা সময় থেমে গেছে।
তবে এর ভেতরে যা হলো আমার কথ্য ভাষায় ইংরেজির অনুপ্রবেশ ঘটলো। বাংলার ভেতরে ইংরেজী শব্দের মিশেল দিয়ে কথা বলতাম। সবাই বলছে বলেই এটা তেমন করে চোখে পড়ে নি। এর ভেতরেই লেখার সময় দেখতাম সমস্যা হচ্ছে, বাংলাশব্দের জন্য অভিধানের দারস্থ হতে হচ্ছে। নিয়ত চর্চা না থাকলে অনেক শব্দের ব্যাবহার কমে যায়। আমাদের আস্থা শব্দ কিংবা একাগ্রতা শব্দগুলোর বদলে ডিপেন্ডেন্সি ব্যাবহার করা, আমাদের অভিনিবেশের বদলে কনসেনট্রেট করা কিংবা এইসব শব্দ ব্যাবহারের জায়গাটা বদলে যাক। আমরা আস্থা- অনাস্থা। একাগ্রতা, মনোনিবেশ, এইসব শব্দকে কথ্য ভাষায় নিয়ে আসি। আমাদের ব্যাবহৃত অধিকাংশ ইংরেজি শব্দই আসলে বিশেষন, বাংলায় বিশেষনের অভাব নেই।বিশেষ্য থেকে বিশেষন করার রীতিটাও আমরা জানি, আমাদের যৌথ শব্দ তৈরির বিষয়টাতে বিভিন্ন রীতি আছে, শব্দ সংযোগ, বাক্য সংযোগ, অক্ষর সংযোগ রীতিও আছে। এবং এটা একটা নীতির উপর গঠিত। তবে বাংলা ব্যাকরণ পঠনে আমাদের অনাগ্রহ। আমাদের উন্নাসিকতার সুযোগে আমরা দেগা, করেগা, মারেগা খায়েগা ব্যাবহার করছি অনায়াসে। এই দীনতা আমাকে লজ্জা দেয়। আমরা ইংরেজী ব্যাবহার করছিলাম বিশেষনের সহজলভ্যতার জন্য, আমরা হিন্দি ব্যাবহার করছি আরও সাবলীল হয়ে উঠার জন্য। এটাই যদি সবার বোধগম্য ভাষা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে 21শে ফেব্রুয়ারী কেনো? কেনো প্রতি বছর একদিন অযথা খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি, ফুল দান জাতীয় নাটক করা। আমরা নিজেদের সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করবো না। আমরা ভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা করবো সচেতন ভাবে আবার এমন ভান করবো যে আমাদের তুলনায় কেউ বেশী সংস্কৃতির ধারক বাহক নেই। আমরা প্রতিদিন চ্যানেল আই, এন টিভিতে অর্ধেক বাংলা অর্ধেক ইংলিশে ডিজে ভিজেদের ভিজে ভিজে কথা বলতে শুনবো।এই হীনতা কিংবা দীনতার বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের মানসিক সুস্থতা প্রশ্নের সমুক্ষীন হবে, এই ধরনের অযথা প্রতিরোধ এখনও কেনো প্রচলিত থাকবে।
ইংরেজি আমাদের পেটের দায়। এইটা আরও বেশী নীচ করে দিচ্ছে আমাদের। আমাদের জাতীয়তাবাদী আলোচনার সংস্কৃতি নেই। আমাদের জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতিতে সস্তা ভাঁড়ামি আছে, অনেক সাহিত্যিক নামক ভাঁড়ও এখানে লিখছে, অনেকেই ভান করছে, ভান করার অসুখও চলছে, এসবের বাইরে কোনো কথা বললে সেটা অভব্য অসভ্য অশোভন। এমন একটা নীতিমালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। অন্ত্যজ জনের ভাষার আক্ষেপ, ইশ্বরপ্রেম সবই একটু আলাদা রকম ভাবে প্রকাশিত হয়।আমার ভাষা নিয়ে বেশ চিন্তিত সবাই। তারা ফাক ইউ- বাস্টার্ড এইসব শব্দ নিয়ে সচেতন না। মাদার ফাকার বললেও তাদের গায়ে লাগে না। তারা এইসব নিয়ে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে, করবেই না বা কেনো, হলিউডের ছবি অহরহ গালি দিচ্ছে, শরীর নির্ভর শব্দ ব্যাবহার করছে, হিন্দি ছবিতেও এখন বাস্তবতার নামে গালি ব্যাবহৃত হচ্ছে শুধু আমি কিছু বাংলায় শরীর নির্ভর কথা বললেই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন কি এইসব বলে যখন বলছি আমাদের বাংলাভাষার চর্চা করা প্রয়োজন তখন সবাই আরও বেশী সচকিত হচ্ছে।
আমার একটা পরিচয় দাঁড়িয়েছে। আমি খারাপ কথা বলি। মানুষকে গালি দেই-তবে সমস্যা হলো আমি গালি দিচ্ছি বাংলায়,সেই সব তারা বুঝছেও। তবে তাদের শোধন হচ্ছে না। এক বন্ধুর একটা কথা মনে ধরেছিলো
বেকুবের হোগা দিয়া তালগাছ ঢুইক্যা গেলেও হের হুঁশ হয় না।
আমাদের সেইসব শালীন বোকচোদদের অবস্থাও এমনই। তারা নিজের সামনের শালীনতা বজায় রাখতে এমন সচেতন যে অসভ্য ভাবে সংস্কৃতি চর্চা করলেও তারা সভ্য।
বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে এখন বেশ একটা উন্নাসিক অবস্থা চলছে দেশে। আমি যখন দেশ ছাড়লাম 4 বছর আগে তখনও এতটা প্রকট ছিলো না এই বিষয়টা। তখনও দেশে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যাবস্থা প্রচলিত ছিলো। তখনও ধানমন্ডির আশে পাশে ইংরেজি উচ্চারণের বাংলা বলার প্রচলন ছিলো, এই জানিষ আমাড় গ্রেডটা খাড়াপ এসেষে, এই রকম বাংলা শুনলে আমার অন্ডকোষ থেকে শুরু করে সবকটা স্পর্শকাতর জায়গাই বিষম প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। সেইসব ছেলেদের সঙ্গমযোগ্যা মা, বোন সহ মহিলা সমপ্রদায়ের সাথে বিশেষ বিশেষ ভঙ্গিতে সঙ্গম বাসনাও জাগরুক হতো। এমন বকচ্ছপ জাতীয় একটা প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন ছিলো যেনো তারা বাংলাদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে গ্রহন করে, তারা শাররীক ভাবে বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে থেকে যখন মনে করে তারাহলিউডের কোনো চরিত্রে অভিনয় করছে কিংবা তাদের কোনো পরিজন যে মেরিকা, লন্ডন থাকে কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় থাকে তাদের জীবনযাপন পদ্ধতির অন্ধ অনুকরন করছে তখন তাদের জন্য যে প্রাথমিক করুণার জন্ম হতো তা নষ্ট হয়ে স্পষ্ট বিরাগে রূপান্তরিত হতো।
আমার প্রায় সব বন্ধুই বাংলা মাধ্যমের ছাত্র, যদি সামাজিক স্তরবিন্যাসের কথা বলা হয় তাহলে তারা সবাই মধ্যবিত্ত এবং নিম্মমধ্যবিত্ত শ্রেনীর। এই একটা সমপ্রদায়ই আসলে বাংলা বই কিনে পড়ে। তা যেমনই হোক, সেবা প্রকাশনীর কিশোর ক্লাসিকস, তিন গোয়েন্দা, ওয়েস্টার্ন, হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল এইসব সহজপাচ্য সাহিত্যের ক্রেতা এরাই। এদের একটা অংশ পড়ে পাঠাভ্যাস বদলায়। আমাদের জোগা পাকনা কিছু নব্য আজিজে বা যেকোনো সাহিত্যসভানুগামী মানুষেরা কাফকা, লোরকা, বাতচেল্লি জাতীয় কথাবার্তা বলে, আর আমার মতো একটু আর্থিক অনটনে থাকা মানুষেরা তখনও দেশীর সাহিত্যের অনুরাগী পাঠক। এটাই পকেটের পক্ষে সরবরাহ করা সম্ভব। আমার অর্থের তেমন জোর নেই, তাই 100 টাকার বেশী দাম দিয়ে বই কিনতে পারি না। নীলক্ষেতের ফটোকপি বই পড়ে আমার সাহিত্যতৃষা মেটাই।
হিন্দি ভাষা বুঝতে বা বলতে তেমন সমস্যা হয় না আমার। আমার বাসার অর্ধেক মানুষ উর্দুতে কথা বলতে আর লিখতে পারে। আমার প্রজন্মে এসে এই প্রথা অনেকটা লুপ্ত। আমরা যেহেতু অভিবাসী এখানে যদিও আমাদের 3 প্রজন্ম এখানে বাংলাদেশে কেটেছে তবে প্রথম প্রজন্মের মানুষেরা উর্দু আর ফার্সির চর্চা করার কারনে 2য় প্রজন্মকে এই 2 ভাষার শিক্ষা দিয়েছিলো। আমাদের প্রজন্মকেও এই পারিবারিক প্রথার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিলো কিছু দিন। আমি তেমন ভাবে আরবি হরফের উপর ভরসা করতে পারি নি বলেই উর্দু কিংবা ফার্সি শেখার বিষয়ে উদাসীন ছিলাম।
আমার কোনো ভাষা শিখতে ইচ্ছা করে না, কোনো আগ্রহ নাই। প্রথমত বাংলাদেশে আমি যে পরিবেশে থাকি তাতে এর কোনো উপযোগিতা নেই। আমি তেমন ভাবে প্রবল সাহিত্যানুরাগী নই। আমার নিজের স্প্যানিশ বা ফ্রেঞ্চ ভাষায় সাহিত্য পড়ারও আগ্রহ নেই। হিন্দি ভাষায় পড়তে পারি তবে এটার সাহিত্য নিয়ে মাতামাতি করতে চাই না। আমি বাংলায় পড়তে চাই। তাই আমি সচেতন ভাবে কখনই বাজার থেকে ইংরেজী বা হিন্দি বা ফ্রেঞ্চ বা জাপানী কোনো ভিন্ন ভাষার বই কিনে পড়বো না। সাহিত্যের সামপ্রতিক ধারা সম্পর্কেও আমার আগ্রহ কম।
তারা যেভাবে লিখছে, যা লিখছে সেটাকে অনুকরন করার আগ্রহও আমার নেই, জেমস জয়েস পড়ার চেষ্টা করেছিলাম। বেশী দিন আগ্রহ টিকে নাই পড়ি নি। এর জন্য আমি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত না।কাফকা কিংবা বালজাক পড়ার ইচ্ছা হয় নি, যদিও এগুলো সহজলভ্য। ইচ্ছা করলেই পড়া যেতো। তবে ইংরেজী বা ভিন্ন ভাষায় এই বইগুলো পড়তে হবে এই যন্ত্রনা করতে ইচ্ছা করে নি।
আমার অশিক্ষা কিংবা কুশিক্ষার প্রভাবেই হয়তো। যেহেতু আমি ভিন্ন ভাষা জানি না তাই আমার বাংলার প্রতি একটা টান আছে। আবার মনে হয় মাঝে মাঝে যেহেতু 2-4 লাইন সাহিত্য লিখি মাঝে মাঝে তাই নিজের প্রতি সৎ থাকাটা কর্তব্য। ভাষার চর্চা- বিনির্মান- ধারাবাহিকতা- পরিবর্তন সবই সাহিত্যিকরাই করে থাকে। তাদের হাতেই ভাষা প্রাণ পায়, তারাই ভাষার সংরক্ষক।
1993এর শেষের দিকে হঠাৎ করে আকাশ সংস্কৃতির জোয়ার চলে আসলো। এলাকা দখল করে লোকজন তার টেনে আকাশে উড়তে থাকা বিভিন্ন পরবাসী সংস্কৃতিকে টেনে আনলো বৈঠক খানায়। এরপর আমরা আধুনিক সমাজের অংশ হয়ে গেলাম, আমাদের ছেলেদের পাছায় উঠলো প্রায় খুলে পড়া জিন্স, মেয়েদের শরীরের কাপড়ের ছাঁটও বদলালো। এইসব বাহ্যিক পরিবর্তনের টানে, আরও একটু সাবলীলতার প্রয়োজনে তারা শুধু পোশাকই না সংস্কৃতিটাকেও আত্তিকৃত করলো। তাই হিন্দি নিম্ন মানের হাজার পর্বের নাটকও অবশ্যই দেখতে হবে এমন একটা চর্চাও শুরু হলো। আমার অবশ্য তেমন করে এই প্রবাহে গা ভাসাতে হয় নি। সারাদিনের আড্ডা শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত 12টা। তখনও তেমন করে টিভি দেখার আগ্রহও থাকতো না। এর পরে আরও ব্যাস্ততা বাড়লো। আরও অনেক সংযোগ হলো। মনস্তাতি্বক সংযোগ, প্রেম এসব বাহ্যিক বিষয়কে নিয়ে মগ্ন হয়ে থাকার কারনে পরিবর্তনের ধারাটা বুঝলাম না। তখনও সেই 2 কুঁচি দেওয়া প্যান্ট আর চাইনিজ কাট শার্টই পরিধেয় হয়ে থাকলো। সংস্কৃতির চর্চা করতে গিয়ে ভেক ধরে পাঞ্জাবি গায়ে উঠানোর বিষয়টাকে সচেতন ভাবে এড়িয়ে যাওয়ায় ভালোই হয়েছে আসলে।
এরপরের সময়টাতে আরও বেশী মগ্ন থেকেছি বাংলায়। অনেক সাহিত্যিককে নতুন ভাবে আবিস্কার করলাম। যদিও প্রণব ভট্ট জাতীয় সাহিত্যিকে সাহিত্যাঙ্গন পচে গেছে, সমরেশের আদর্শবাদ কিংবা শীর্ষেন্দুর আধ্যাতিকতার সাথে হুমায়ুন আহমেদের মধ্যবিত্তের উচ্ছাস আর স্বপ্ন আর সাধের ফারাক আর সেই ফারাক পুরনের চেষ্টার সাহিত্য নিয়েও ক্লান্ত। সাহিত্যাঙ্গনের এইসব চর্চা ক্লিশে হয়ে যাওয়ার সাথেই আবার পরিবর্তন আনার বাসনাটা জাগরুক হলো। এইসব প্রচলিত ধারার বাইরে যেতে হলে এই সাহিত্যজনিত বাসনাকেও বুঝতে হবে। তাই দেশীয় সাহিত্য পড়েই সময় কাটলো যতটা অবসর ছিলো। তবে এই সম্পুর্ন বিষয়টার ভেতরে একটাই সমস্যা ছিলো বাংলায় এখনও পদার্থবিজ্ঞান পড়ার যোগ্যব্যাবস্থা হয় নি। আমাকে দিনের অনেকটা সময় ইংরেজি ভাষায় লিখিত পদার্থবিজ্ঞানের বই পড়তে হতো। নিছক জীবিকার টানে হয়তো এই যন্ত্রনাকে মেনে নিতে হয়েছে। অনেক বিজ্ঞানভিত্তিক পরিভাষা তেমন ভাবে পোক্ত না বিধায় বাংলায় বিজ্ঞানের বই লেখা কষ্টকর। আর তেমন প্রচেষ্টাও ছিলো না। বাংলা একাডেমী কিছুদিন চেষ্টা করেছিলো, কয়েকখন্ড বাংলা বই বের করার পর সেসব বইয়ের কাটতি ছিলো না বাজারে তাই অর্থনৈতিক কারনেই এই প্রক্রিয়া একটা সময় থেমে গেছে।
তবে এর ভেতরে যা হলো আমার কথ্য ভাষায় ইংরেজির অনুপ্রবেশ ঘটলো। বাংলার ভেতরে ইংরেজী শব্দের মিশেল দিয়ে কথা বলতাম। সবাই বলছে বলেই এটা তেমন করে চোখে পড়ে নি। এর ভেতরেই লেখার সময় দেখতাম সমস্যা হচ্ছে, বাংলাশব্দের জন্য অভিধানের দারস্থ হতে হচ্ছে। নিয়ত চর্চা না থাকলে অনেক শব্দের ব্যাবহার কমে যায়। আমাদের আস্থা শব্দ কিংবা একাগ্রতা শব্দগুলোর বদলে ডিপেন্ডেন্সি ব্যাবহার করা, আমাদের অভিনিবেশের বদলে কনসেনট্রেট করা কিংবা এইসব শব্দ ব্যাবহারের জায়গাটা বদলে যাক। আমরা আস্থা- অনাস্থা। একাগ্রতা, মনোনিবেশ, এইসব শব্দকে কথ্য ভাষায় নিয়ে আসি। আমাদের ব্যাবহৃত অধিকাংশ ইংরেজি শব্দই আসলে বিশেষন, বাংলায় বিশেষনের অভাব নেই।বিশেষ্য থেকে বিশেষন করার রীতিটাও আমরা জানি, আমাদের যৌথ শব্দ তৈরির বিষয়টাতে বিভিন্ন রীতি আছে, শব্দ সংযোগ, বাক্য সংযোগ, অক্ষর সংযোগ রীতিও আছে। এবং এটা একটা নীতির উপর গঠিত। তবে বাংলা ব্যাকরণ পঠনে আমাদের অনাগ্রহ। আমাদের উন্নাসিকতার সুযোগে আমরা দেগা, করেগা, মারেগা খায়েগা ব্যাবহার করছি অনায়াসে। এই দীনতা আমাকে লজ্জা দেয়। আমরা ইংরেজী ব্যাবহার করছিলাম বিশেষনের সহজলভ্যতার জন্য, আমরা হিন্দি ব্যাবহার করছি আরও সাবলীল হয়ে উঠার জন্য। এটাই যদি সবার বোধগম্য ভাষা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে 21শে ফেব্রুয়ারী কেনো? কেনো প্রতি বছর একদিন অযথা খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি, ফুল দান জাতীয় নাটক করা। আমরা নিজেদের সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করবো না। আমরা ভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা করবো সচেতন ভাবে আবার এমন ভান করবো যে আমাদের তুলনায় কেউ বেশী সংস্কৃতির ধারক বাহক নেই। আমরা প্রতিদিন চ্যানেল আই, এন টিভিতে অর্ধেক বাংলা অর্ধেক ইংলিশে ডিজে ভিজেদের ভিজে ভিজে কথা বলতে শুনবো।এই হীনতা কিংবা দীনতার বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের মানসিক সুস্থতা প্রশ্নের সমুক্ষীন হবে, এই ধরনের অযথা প্রতিরোধ এখনও কেনো প্রচলিত থাকবে।
ইংরেজি আমাদের পেটের দায়। এইটা আরও বেশী নীচ করে দিচ্ছে আমাদের। আমাদের জাতীয়তাবাদী আলোচনার সংস্কৃতি নেই। আমাদের জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতিতে সস্তা ভাঁড়ামি আছে, অনেক সাহিত্যিক নামক ভাঁড়ও এখানে লিখছে, অনেকেই ভান করছে, ভান করার অসুখও চলছে, এসবের বাইরে কোনো কথা বললে সেটা অভব্য অসভ্য অশোভন। এমন একটা নীতিমালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। অন্ত্যজ জনের ভাষার আক্ষেপ, ইশ্বরপ্রেম সবই একটু আলাদা রকম ভাবে প্রকাশিত হয়।আমার ভাষা নিয়ে বেশ চিন্তিত সবাই। তারা ফাক ইউ- বাস্টার্ড এইসব শব্দ নিয়ে সচেতন না। মাদার ফাকার বললেও তাদের গায়ে লাগে না। তারা এইসব নিয়ে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে, করবেই না বা কেনো, হলিউডের ছবি অহরহ গালি দিচ্ছে, শরীর নির্ভর শব্দ ব্যাবহার করছে, হিন্দি ছবিতেও এখন বাস্তবতার নামে গালি ব্যাবহৃত হচ্ছে শুধু আমি কিছু বাংলায় শরীর নির্ভর কথা বললেই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন কি এইসব বলে যখন বলছি আমাদের বাংলাভাষার চর্চা করা প্রয়োজন তখন সবাই আরও বেশী সচকিত হচ্ছে।
আমার একটা পরিচয় দাঁড়িয়েছে। আমি খারাপ কথা বলি। মানুষকে গালি দেই-তবে সমস্যা হলো আমি গালি দিচ্ছি বাংলায়,সেই সব তারা বুঝছেও। তবে তাদের শোধন হচ্ছে না। এক বন্ধুর একটা কথা মনে ধরেছিলো
বেকুবের হোগা দিয়া তালগাছ ঢুইক্যা গেলেও হের হুঁশ হয় না।
আমাদের সেইসব শালীন বোকচোদদের অবস্থাও এমনই। তারা নিজের সামনের শালীনতা বজায় রাখতে এমন সচেতন যে অসভ্য ভাবে সংস্কৃতি চর্চা করলেও তারা সভ্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৪০
অতিথি বলেছেন: এমন একটা লেখা আশা করছিলাম। আপনি যদি এটা না লিখতেন বা আরো লেখেন তারপরেও কোন পরিবর্তন হবে না। আমি আমার আগের একটা লেখায় বলেছিলাম যে এটা এখন আর রিয়েলিস্টিক থাকছে না বা সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ চোখ, কান, মুখ দিয়ে যা প্রতিনিয়ত শুনছি সেগুলো জিহবাতে এসে পড়ছে। এটা আপনার মত এত চমৎকার উপলব্ধি হবার আগেই ঘটে যাচ্ছে প্রতিদিনের বিনিময়ে। ভাষাকে ধর্ষণ করছে এটা ঠিক কিন্তু তার জন্য একজন রাসেল অথবা অর্ধজন অন্য কেউ কেবল বাংলাকে ভালোবেসে উৎসর্গ করতে পারবে অস্থিমজ্জা কিন্তু তারপরেও একুশে ফেব্রুয়ারীকে হয়তো মাদার ল্যাঙগুয়েজ ডেই বলবে। এটা যতটা না বেশী উন্নাসিকতা তারচেয়ে বেশী হয়ে গেছে বাস্তবতা এবং হিন্দিচ্যানেলগুলো ঝেটিয়ে বিদায় করার আগে আমাদের যতটুকু হোগায় তালগাছ ঢোকার কথা তা ঠিকই ঢুকে যাবে এবং তা নিয়ে আমরা সটান দাড়িয়ে বলবো এই দেখো আমার বাংলার ধোন!
অতিথি বলেছেন: এমন একটা লেখা আশা করছিলাম। আপনি যদি এটা না লিখতেন বা আরো লেখেন তারপরেও কোন পরিবর্তন হবে না। আমি আমার আগের একটা লেখায় বলেছিলাম যে এটা এখন আর রিয়েলিস্টিক থাকছে না বা সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ চোখ, কান, মুখ দিয়ে যা প্রতিনিয়ত শুনছি সেগুলো জিহবাতে এসে পড়ছে। এটা আপনার মত এত চমৎকার উপলব্ধি হবার আগেই ঘটে যাচ্ছে প্রতিদিনের বিনিময়ে। ভাষাকে ধর্ষণ করছে এটা ঠিক কিন্তু তার জন্য একজন রাসেল অথবা অর্ধজন অন্য কেউ কেবল বাংলাকে ভালোবেসে উৎসর্গ করতে পারবে অস্থিমজ্জা কিন্তু তারপরেও একুশে ফেব্রুয়ারীকে হয়তো মাদার ল্যাঙগুয়েজ ডেই বলবে। এটা যতটা না বেশী উন্নাসিকতা তারচেয়ে বেশী হয়ে গেছে বাস্তবতা এবং হিন্দিচ্যানেলগুলো ঝেটিয়ে বিদায় করার আগে আমাদের যতটুকু হোগায় তালগাছ ঢোকার কথা তা ঠিকই ঢুকে যাবে এবং তা নিয়ে আমরা সটান দাড়িয়ে বলবো এই দেখো আমার বাংলার ধোন! ২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৫৩
অতিথি বলেছেন: বাস্তবতা পরিবর্তিত হয় না, তবে সচেতন হলে কিছু পরিমান দুষন ঠেকানো সম্ভব। বাস্তবতার জীবন যাপনের মতো উত্তরাধুনিকতার চর্চা আমার কাছে দোষনীয় মনে হয় না, সাহিত্যের ভাষা নিয়ে আমি কোনো প্রতিবাদ লিপি দিচ্ছি না, আমি আমাদের নিজস্ব জীবনযাপনের প্রথাকে প্রশ্ন করছি। আসলেই গর্ব করার মতো অনেকগুলো অর্জনের একটা আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারী। এই গর্বের অর্জনকে যখন কেউ অযথা অশালীনতায় নষ্ট করে তার বিপরীতে কিছু কথা না বললে সেটা নিজের প্রতি অন্যায় হবে। কাউকে অনুপ্রাণিত করবে না এটা, তবে নিজের জায়গায় থেকে যদি কেউ সভ্য শালীন মানুষের মতো আচরন করতো ভালো হতো।
ইংরেজীতে বলতে চাইলে পরিপূর্ণ ইংরেজীতে কথা বলো। আজ ইফ যদি আমরা না যাই দেন তারা এমন করবে না। এইটা বলার চেয়ে যদি আমরা না যাই তাহলে তারা এটা করবে না বলাটা শোভনতা।
আরে ইয়ার তুম আভি তক আয়া নেহী মেরে নস নসমে তেরে নাম কি খুন বাহরাহেহে। মে তুঝসে পেয়ার করতাহু ইয়ার কথাটাও সুন্দর বাংলায় বলা যায়।
অতিথি বলেছেন: বাস্তবতা পরিবর্তিত হয় না, তবে সচেতন হলে কিছু পরিমান দুষন ঠেকানো সম্ভব। বাস্তবতার জীবন যাপনের মতো উত্তরাধুনিকতার চর্চা আমার কাছে দোষনীয় মনে হয় না, সাহিত্যের ভাষা নিয়ে আমি কোনো প্রতিবাদ লিপি দিচ্ছি না, আমি আমাদের নিজস্ব জীবনযাপনের প্রথাকে প্রশ্ন করছি। আসলেই গর্ব করার মতো অনেকগুলো অর্জনের একটা আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারী। এই গর্বের অর্জনকে যখন কেউ অযথা অশালীনতায় নষ্ট করে তার বিপরীতে কিছু কথা না বললে সেটা নিজের প্রতি অন্যায় হবে। কাউকে অনুপ্রাণিত করবে না এটা, তবে নিজের জায়গায় থেকে যদি কেউ সভ্য শালীন মানুষের মতো আচরন করতো ভালো হতো।ইংরেজীতে বলতে চাইলে পরিপূর্ণ ইংরেজীতে কথা বলো। আজ ইফ যদি আমরা না যাই দেন তারা এমন করবে না। এইটা বলার চেয়ে যদি আমরা না যাই তাহলে তারা এটা করবে না বলাটা শোভনতা।
আরে ইয়ার তুম আভি তক আয়া নেহী মেরে নস নসমে তেরে নাম কি খুন বাহরাহেহে। মে তুঝসে পেয়ার করতাহু ইয়ার কথাটাও সুন্দর বাংলায় বলা যায়।
৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৫৪
অতিথি বলেছেন: আগের মন্তব্য হচ্ছে বিষয় নিয়ে আর এটা হচ্ছে সাহিত্য নিয়ে। আপনার এ লেখাটা অন্যান্য লেখার মতই সুলিখিত হয়েছে। কোথাও ঝুলে যায় নি, একটানে পড়ে ফেলার মত। এটা নিঃসন্দেহে একটা কার্যকরী পোস্ট এবং আমার খুব ভালো লাগবে যদি দেখি সমস্ত ব্লগার এ লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ে। চমৎকার লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন: আগের মন্তব্য হচ্ছে বিষয় নিয়ে আর এটা হচ্ছে সাহিত্য নিয়ে। আপনার এ লেখাটা অন্যান্য লেখার মতই সুলিখিত হয়েছে। কোথাও ঝুলে যায় নি, একটানে পড়ে ফেলার মত। এটা নিঃসন্দেহে একটা কার্যকরী পোস্ট এবং আমার খুব ভালো লাগবে যদি দেখি সমস্ত ব্লগার এ লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ে। চমৎকার লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ৪. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৫৫
অতিথি বলেছেন: রাসেল,আপনার এই লেখাটা আমার খুব ভালো লাগলো ।কেউ এই ধরনের চিন্তা করে জানতে পারলে আমার অভয় লাগে।
যে জন্য আমার শ্রদ্ধা জাগে মুনির চৌধুরী,হুমায়ুন আজাদ,আহমদ ছফাসহ সব বাঙ্গালী বীরদের নামে।
আপনাকে তাদের সঙ্গে তুলনা করার কোন কারণ নেই আপাততঃ,কিন্তু বাংলা নিয়ে আপনার নিখাঁদ অবস্থান দেখে আমার খুব আনন্দ হয়েছে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন: রাসেল,আপনার এই লেখাটা আমার খুব ভালো লাগলো ।কেউ এই ধরনের চিন্তা করে জানতে পারলে আমার অভয় লাগে।যে জন্য আমার শ্রদ্ধা জাগে মুনির চৌধুরী,হুমায়ুন আজাদ,আহমদ ছফাসহ সব বাঙ্গালী বীরদের নামে।
আপনাকে তাদের সঙ্গে তুলনা করার কোন কারণ নেই আপাততঃ,কিন্তু বাংলা নিয়ে আপনার নিখাঁদ অবস্থান দেখে আমার খুব আনন্দ হয়েছে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
৫. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৫৯
অতিথি বলেছেন: তুলনীয় হওয়ার মতো যোগ্যতা এখনও অর্জিত হয় নি, হয়তো কোনো একদিন হবে, নাও হতে পারে, এটা বড় কিছু না, স্ব ীকৃতি না পেলেও বাংলাদেশের 85% কৃষক কথ্য বাংলা ব্যাবহার করবে, তাদের জীবনে আকাশ সংস্কৃতি নেই, তারা শুদ্ধ বাংলাও বলবে না তবে তাদের হৃদয়ের নিখাদতা নিয়ে প্রশ্ন নেই কোনো। সমস্যা এইসব তথাকথিত মধ্যবিত্ত সুবিধাভোগীদের নিয়ে, যারা সংস্কৃতিচর্চার ভেক ধরে, ভালো মানুষির ভেক ধরে, সমাজ সংস্কার করে ভাষাকে নিরোধ পড়িয়ে দেয়।
অতিথি বলেছেন: তুলনীয় হওয়ার মতো যোগ্যতা এখনও অর্জিত হয় নি, হয়তো কোনো একদিন হবে, নাও হতে পারে, এটা বড় কিছু না, স্ব ীকৃতি না পেলেও বাংলাদেশের 85% কৃষক কথ্য বাংলা ব্যাবহার করবে, তাদের জীবনে আকাশ সংস্কৃতি নেই, তারা শুদ্ধ বাংলাও বলবে না তবে তাদের হৃদয়ের নিখাদতা নিয়ে প্রশ্ন নেই কোনো। সমস্যা এইসব তথাকথিত মধ্যবিত্ত সুবিধাভোগীদের নিয়ে, যারা সংস্কৃতিচর্চার ভেক ধরে, ভালো মানুষির ভেক ধরে, সমাজ সংস্কার করে ভাষাকে নিরোধ পড়িয়ে দেয়। ৬. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:০২
অতিথি বলেছেন: আসলে এটার পেছনে স্রেফ নেগলেজেনসি কাজ করছে আমাদের। যেমন এখন নেগলেজেনসির বাংলাই খুঁজে পাচ্ছি না হাতের কাছে। নিশ্চয়ই এটার অর্থ আমি জানি, কিন্তু ঠিক সময় ইংরেজীটা বের হবে। ধ্যাত, এখনও মনে পড়ছে না। তবে এটা ঠিক বাংলার মধ্যে ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করলেতো আর সেটা আরেকটা ভাষা হয়ে যায় না সেটা বাংলাই থেকে বাক্য নির্মাণের জন্য। তারচেয়ে বাংলা শব্দগুলো ব্যবহার করা অনেক বেশী সহজ হতে বাধ্য কারণ ইংরেজী বাংলাতে লেখাও আসলে কষ্টের। কিন্তু ঐ যে আমরা বোধহয় ইন্ডিয়ান মেয়েদের বুক দেখতে দেখতে এখন তাদের কিছু শব্দ ধার করে তা আস্বাদের চেষ্টা করছি। তারপরেও আবার ধন্যবাদ যে এটা ভাল একটা কামব্যাক! কামব্যাকের বাংলায় কি! বুঝাতে চাচ্ছি একটা ভাল লেখা দিয়ে আপনি বিষয়টিকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছেন।
অতিথি বলেছেন: আসলে এটার পেছনে স্রেফ নেগলেজেনসি কাজ করছে আমাদের। যেমন এখন নেগলেজেনসির বাংলাই খুঁজে পাচ্ছি না হাতের কাছে। নিশ্চয়ই এটার অর্থ আমি জানি, কিন্তু ঠিক সময় ইংরেজীটা বের হবে। ধ্যাত, এখনও মনে পড়ছে না। তবে এটা ঠিক বাংলার মধ্যে ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করলেতো আর সেটা আরেকটা ভাষা হয়ে যায় না সেটা বাংলাই থেকে বাক্য নির্মাণের জন্য। তারচেয়ে বাংলা শব্দগুলো ব্যবহার করা অনেক বেশী সহজ হতে বাধ্য কারণ ইংরেজী বাংলাতে লেখাও আসলে কষ্টের। কিন্তু ঐ যে আমরা বোধহয় ইন্ডিয়ান মেয়েদের বুক দেখতে দেখতে এখন তাদের কিছু শব্দ ধার করে তা আস্বাদের চেষ্টা করছি। তারপরেও আবার ধন্যবাদ যে এটা ভাল একটা কামব্যাক! কামব্যাকের বাংলায় কি! বুঝাতে চাচ্ছি একটা ভাল লেখা দিয়ে আপনি বিষয়টিকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছেন। ৭. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:০৪
অতিথি বলেছেন: ঠিক,অবশ্যই এই জায়গায় আমি আপনার সঙ্গে একশো ভাগ একমত পোষণ করি।
অতিথি বলেছেন: ঠিক,অবশ্যই এই জায়গায় আমি আপনার সঙ্গে একশো ভাগ একমত পোষণ করি। ৮. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:১৪
অতিথি বলেছেন: আমার মনে হয়, ব্যাপারটার সাথে অর্থনীতির একটা গভীর সম্পর্ক আছে। কালো টাকায় ভালো জিনিস আনার কথা না।
লিখাটা ভালো লেগেছে। অনেক।
অতিথি বলেছেন: আমার মনে হয়, ব্যাপারটার সাথে অর্থনীতির একটা গভীর সম্পর্ক আছে। কালো টাকায় ভালো জিনিস আনার কথা না।লিখাটা ভালো লেগেছে। অনেক।
৯. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:১৪
অতিথি বলেছেন: অবহেলা, উদাসীনতা হইলো নেগলেজেনসি
আর কাম ব্যাক হইলো, প্রত্যাবর্তন কিংবা ঘুরে দাঁড়ানো। কিংবা প্রতিরোধ। অনেক ভাবেই ব্যাবহার করা যায়।
অতিথি বলেছেন: অবহেলা, উদাসীনতা হইলো নেগলেজেনসিআর কাম ব্যাক হইলো, প্রত্যাবর্তন কিংবা ঘুরে দাঁড়ানো। কিংবা প্রতিরোধ। অনেক ভাবেই ব্যাবহার করা যায়।
১০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:১৮
অতিথি বলেছেন: ঠিক ঠিক। প্রতিরোধ হবে। একদম চমৎকার প্রতিরোধ হয়েছে। তবে একটা বিষয় আমার আশ্চর্য্য মনে হয়, কবিতা লেখার সময় অনেক কঠিন ও অপ্রচলিত বাংলা শব্দ আমার মাথায় চলে আসে, কিন্তু গদ্য লেখার সময় এটা হয় না। এর কোন মানে খুঁজে পাইনা।
অতিথি বলেছেন: ঠিক ঠিক। প্রতিরোধ হবে। একদম চমৎকার প্রতিরোধ হয়েছে। তবে একটা বিষয় আমার আশ্চর্য্য মনে হয়, কবিতা লেখার সময় অনেক কঠিন ও অপ্রচলিত বাংলা শব্দ আমার মাথায় চলে আসে, কিন্তু গদ্য লেখার সময় এটা হয় না। এর কোন মানে খুঁজে পাইনা। ১১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:২৯
অতিথি বলেছেন: অসাধারণ হইছে!!!!!!!!!
অতিথি বলেছেন: অসাধারণ হইছে!!!!!!!!! ১২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৩৯
অতিথি বলেছেন: অর্থনীতি কিম্বা হালনীতি!
হালের সাথে তাল মেলানোর ইঁদুর দৌড়। স্বভাষায় কোন শক্ত গাঁথুনি ব্যতিরেকেই পরভাষার চর্চায় মগ্ন! সেটা অবশ্য ইদানিং ক ৃষ্টির সীমানাও খেয়ে ফেলেছে।
আগ্গুন লিখেছেন।
অতিথি বলেছেন: অর্থনীতি কিম্বা হালনীতি!হালের সাথে তাল মেলানোর ইঁদুর দৌড়। স্বভাষায় কোন শক্ত গাঁথুনি ব্যতিরেকেই পরভাষার চর্চায় মগ্ন! সেটা অবশ্য ইদানিং ক ৃষ্টির সীমানাও খেয়ে ফেলেছে।
আগ্গুন লিখেছেন।
১৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:০৩
অতিথি বলেছেন: অদ্ভুত ভাল লিখেছেন রাসেল। যতোটা না আপনার গালাগাল, তার আরো রেশী স্বার্থক ভাবে আপনার ভাবনাগুলো সবাইকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছেন।
ইংরেজী ও বাংলা গালাগাল নিয়ে যা বলেছেন, এটা যারা লেখাটি ভাল করে পড়েছেন, তাদের সবারই একবার ভাবা দরকার। এতে অনেকের মুখোশ খসে পড়লেও পড়তে পারে। আমরা যে ,শিসোফ্রেনিতে, আক্রান্ত, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অনেক সময় গালাগালি ভাল না লাগলেও (এটা আমার দুর্বলতাও হতে পারে), আপনার ঠোটকাটা স্পষ্টবাদিতার প্রতি আমার পরিপূর্ন শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি আপনার মতোই থাকুন...।
অতিথি বলেছেন: অদ্ভুত ভাল লিখেছেন রাসেল। যতোটা না আপনার গালাগাল, তার আরো রেশী স্বার্থক ভাবে আপনার ভাবনাগুলো সবাইকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছেন। ইংরেজী ও বাংলা গালাগাল নিয়ে যা বলেছেন, এটা যারা লেখাটি ভাল করে পড়েছেন, তাদের সবারই একবার ভাবা দরকার। এতে অনেকের মুখোশ খসে পড়লেও পড়তে পারে। আমরা যে ,শিসোফ্রেনিতে, আক্রান্ত, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অনেক সময় গালাগালি ভাল না লাগলেও (এটা আমার দুর্বলতাও হতে পারে), আপনার ঠোটকাটা স্পষ্টবাদিতার প্রতি আমার পরিপূর্ন শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি আপনার মতোই থাকুন...।
১৪. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:১১
মাহবুব সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ @ রাসেল,
আপনার সব লেখাই আমি পড়ি,
সব মতামতের সাথে একমত না হলেও আপনার খোলা মনে , হাত খুলে সৎ লেখা আমি পছন্দ করি,
গালাগালির বহুল ব্যবহারকে পছন্দ করি না।
ছোটবেলা সৈয়দপুরে থাকার সম য়
উদুর্ শিখেছিলাম , বড় হয়ে বাংলা শিখলাম, আরেকটু বড় হয়ে ইংরেজি , টিভি দেখে হিন্দি শিখলাম ।
বাংলাতে যে মজা এবং আত্মার টান পাই অন্যগুলোতে তা পাই না ।
মাহবুব সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ @ রাসেল,আপনার সব লেখাই আমি পড়ি,
সব মতামতের সাথে একমত না হলেও আপনার খোলা মনে , হাত খুলে সৎ লেখা আমি পছন্দ করি,
গালাগালির বহুল ব্যবহারকে পছন্দ করি না।
ছোটবেলা সৈয়দপুরে থাকার সম য়
উদুর্ শিখেছিলাম , বড় হয়ে বাংলা শিখলাম, আরেকটু বড় হয়ে ইংরেজি , টিভি দেখে হিন্দি শিখলাম ।
বাংলাতে যে মজা এবং আত্মার টান পাই অন্যগুলোতে তা পাই না ।
১৫. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:১৯
সুলতান বলেছেন: বাংলা ভাষায় আপনার
সুলতান বলেছেন: বাংলা ভাষায় আপনার ১৬. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:২৪
মাহবুব সুমন বলেছেন: আবার পড়লাম ,
ভয়ানক ভালো লিখেছেন ।
লুংগির গিঠে হাত দিয়ে ফেলেছেন একেবারে !
মাহবুব সুমন বলেছেন: আবার পড়লাম , ভয়ানক ভালো লিখেছেন ।
লুংগির গিঠে হাত দিয়ে ফেলেছেন একেবারে !
১৭. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:২৫
অরূপ বলেছেন: ব্যবহার বানান "ব্যাবহার" কেন?
অরূপ বলেছেন: ব্যবহার বানান "ব্যাবহার" কেন? ১৮. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:২৯
অতিথি বলেছেন: শাররীক?
অতিথি বলেছেন: শাররীক? ১৯. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৩১
মাহবুব সুমন বলেছেন: বাড়ী যেভাবে বাড়ি হলো ( রবি ঠাকুর বাড়ী লিখতেন)
মাহবুব সুমন বলেছেন: বাড়ী যেভাবে বাড়ি হলো ( রবি ঠাকুর বাড়ী লিখতেন) ২০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৩৮
সুলতান বলেছেন: বাংলা সাহি
সুলতান বলেছেন: বাংলা সাহি ২১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৪০
অতিথি বলেছেন: সুলতান রাগলেন নাকি?
অতিথি বলেছেন: সুলতান রাগলেন নাকি? ২২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৫
অতিথি বলেছেন: আগাগোড়া একটা চমৎকার লেখা।অসংখ্য ধন্যবাদ রাসেল।ঠিকই,কাউকে না কাউকে তো বলতেই হবে .....
অতিথি বলেছেন: আগাগোড়া একটা চমৎকার লেখা।অসংখ্য ধন্যবাদ রাসেল।ঠিকই,কাউকে না কাউকে তো বলতেই হবে ..... ২৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:২৯
অতিথি বলেছেন: ঠিকাছে । পেরফেক্তো ।
অতিথি বলেছেন: ঠিকাছে । পেরফেক্তো । ২৪. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:৩৩
অতিথি বলেছেন: বেলিজা...
অতিথি বলেছেন: বেলিজা... ২৫. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:৫৩
অতিথি বলেছেন: কার কইলজ্যা?
অতিথি বলেছেন: কার কইলজ্যা? ২৬. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:৫৬
অতিথি বলেছেন: দারুণ একটি লেখা।
অতিথি বলেছেন: দারুণ একটি লেখা। ২৭. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:২৪
শুভ বলেছেন: হ, অনেকাংশে সহমত।
এই দেশে ইংরাজী এবং বাংলার তুলনা করলে, বাংলা শূদ্র।
তো, আমাদের দেশের টেন, সাড়ে টেন পাশ নির্বোধ মন্ত্রীদের না হয় বাদ দিলাম- কিন্তু সিকি আধুলী না, অনেক অধ্যাপক সাহেবরাই শুদ্ধ ভাষায় বাংলা বলতে পারেন না। যেমন আমাদের মহামান্য 'পেরসিডেন্ট' সাহেব! এ নিয়ে আমাদের কোন গাত্রদাহ নাই।
টিভিতে এটা চোখে না পড়ে উপায় নাই- সচিব থেকে শুরু করে যারা দেশের চাকা বনবন করে সচল রাখেন, এরা ঘূর্ণায়মান চেয়ারের পেছনে বাথরুমের টাওয়াল ঝুলিয়ে যে অশুদ্ধ ভাষায় বঙ্গালকে নসিহত করেন: মরি হায় হায়, কাছা খুলে যায়!
খামাখা ইঙ্গবঙ্গ, ইঁচড়ে পাকা পোলাপানদের দোষ দিয়ে লাভ কি...!
শুভ বলেছেন: হ, অনেকাংশে সহমত। এই দেশে ইংরাজী এবং বাংলার তুলনা করলে, বাংলা শূদ্র।
তো, আমাদের দেশের টেন, সাড়ে টেন পাশ নির্বোধ মন্ত্রীদের না হয় বাদ দিলাম- কিন্তু সিকি আধুলী না, অনেক অধ্যাপক সাহেবরাই শুদ্ধ ভাষায় বাংলা বলতে পারেন না। যেমন আমাদের মহামান্য 'পেরসিডেন্ট' সাহেব! এ নিয়ে আমাদের কোন গাত্রদাহ নাই।
টিভিতে এটা চোখে না পড়ে উপায় নাই- সচিব থেকে শুরু করে যারা দেশের চাকা বনবন করে সচল রাখেন, এরা ঘূর্ণায়মান চেয়ারের পেছনে বাথরুমের টাওয়াল ঝুলিয়ে যে অশুদ্ধ ভাষায় বঙ্গালকে নসিহত করেন: মরি হায় হায়, কাছা খুলে যায়!
খামাখা ইঙ্গবঙ্গ, ইঁচড়ে পাকা পোলাপানদের দোষ দিয়ে লাভ কি...!
২৮. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:২৫
অতিথি বলেছেন: কঠিন কথা সহজ করে বলার জন্যে কৃতজ্ঞতা ।
বিশ্বায়ন,আধুনিক নব্য বাঙালির হীনমন্যতা আর আমাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্ত্বের বিলুপ্তির আশংকা ::
অনেক জটিল ব্যাপার একটা পোস্টে.....
এরকম লেখা আরও আসুক ।
অতিথি বলেছেন: কঠিন কথা সহজ করে বলার জন্যে কৃতজ্ঞতা ।বিশ্বায়ন,আধুনিক নব্য বাঙালির হীনমন্যতা আর আমাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্ত্বের বিলুপ্তির আশংকা ::
অনেক জটিল ব্যাপার একটা পোস্টে.....
এরকম লেখা আরও আসুক ।
২৯. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:০৮
অতিথি বলেছেন: অরূপ তোর জন্য এর পর আমি অভিধান হাতে নিয়ে বানান দেখবো। আসলেই ব্যাবসা আর ব্যবহার বিষয়টা মাথায় থাকে না।
কৌশিককে প্রথম মন্তব্যের জন্য যে কথাটা বলা হয় নি তা হলো তার ঐ মন্তব্যের জন্য আমার এই পোষ্টটার শিশ্নযোগ হইলো। এই পোষ্টকে পুরুষ করে তোলার জন্য কৌশিককে অভিনন্দন।
অতিথি বলেছেন: অরূপ তোর জন্য এর পর আমি অভিধান হাতে নিয়ে বানান দেখবো। আসলেই ব্যাবসা আর ব্যবহার বিষয়টা মাথায় থাকে না।কৌশিককে প্রথম মন্তব্যের জন্য যে কথাটা বলা হয় নি তা হলো তার ঐ মন্তব্যের জন্য আমার এই পোষ্টটার শিশ্নযোগ হইলো। এই পোষ্টকে পুরুষ করে তোলার জন্য কৌশিককে অভিনন্দন।
৩০. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৮:২৯
অতিথি বলেছেন: আমার কাছে ইংরেজী ভালোবাসার চে' বাংলা গালিই অধিক প্রিয়।
সময় থাকেনা, এটা আমার দুর্ভাগ্য; এমন পোষ্ট পড়ে সময়গুলোকে টেনে টেনে লম্বা করতে ইচ্ছা করে। চেষ্টা করতে ইচ্ছা করে নতুন কিছু লেখার, শেখার, ভাবার। একদিন নিশ্চয়ই হবে।
অতিথি বলেছেন: আমার কাছে ইংরেজী ভালোবাসার চে' বাংলা গালিই অধিক প্রিয়। সময় থাকেনা, এটা আমার দুর্ভাগ্য; এমন পোষ্ট পড়ে সময়গুলোকে টেনে টেনে লম্বা করতে ইচ্ছা করে। চেষ্টা করতে ইচ্ছা করে নতুন কিছু লেখার, শেখার, ভাবার। একদিন নিশ্চয়ই হবে।

