মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১০

সমালোচনা: ৩- উৎসর্গ শুভকে" এ লেখার শিশ্ন নাই"

দামি কথার মানুষ তিনি, কথা সাহিত্যিক। তার উচ্চারিত প্রতিটা শব্দের দাম অন্তত হাজার দশেক টাকা। তিনি বহু মাধ্যমে নিরন্তর সাহিত্য কথা শোনাচ্ছেন আমাদের।
তার রাজনৈতিক বিদ্রুপের মুগ্ধ পাঠক ছিলাম, তার কবিতার ভক্ত না হলেও পড়তাম নিয়মিত, তার প্রথম কয়েকটা উপন্যাসে যেই প্রতিশ্রুতি দেখেছিলাম তাতে আরও অনেক আশা ছিলো তার কাছে।

সাফল্যে সবার মুন্ডু ঘুরে যায়। অবশেষে তিনি খুবই জঘন্য একটা প্রেমের উপন্যাস লিখলেন, অধঃপতনের শুরু হওয়ার পর আর রাশ টেনে নিজেকে ফেরাতে পারেন নি তিনি। সেই অধঃপতন এখনও সমাপ্ত হলো না। এখনও তার রাজনৈতিক বিদ্রুপ পড়ি, প্রতিবার মনে হয়, এই শেষ, এর চেয়ে বাজে বোধ হয় লিখবেন না তিনি। তবে প্রতিবার হতাশ হই। হঠাৎ হঠাৎ গিল্টি করা সোনার মতো তার ভেতরে পুরোনো ঝিলিক খুঁজে পাই।

আনিসুল হকের সর্বনাশের জন্য দায়ী কে বা কাহারা? মোস্তফা ফারুকীর সাথে জুটি বাধা কি তার অধঃপতনের সীমাকে সীমাহীন করেছে? কিংবা দেশের অসংখ্য বেসরকারী বানিজ্যিক টিভি চ্যানেলের ক্রমবর্ধমান চাপ তাকে অখাদ্য লিখতে প্রেরণা যোগায়।

51 বর্তীর সাফল্যের পর এলেমেলো 69 দেখে মনে হলো এ যুগল সঙ্গম। আনিসুল- ফারুকির 69 সঙ্গম হয়তো সমকামীদের জন্য আদর্শ উত্তেজক হতে পারে। তবে এমন জঘন্য, পরিনতিহীন, দিশাহীন নাটক দেখার দুর্ভাগ্য বোধ হয় হবে না।

হয়তো এর চেয়ে বাজে নাটক লেখা হবে- লেখা হচ্ছেও হয়তো- প্রচারিতও হচ্ছে- আমি দেখি না। নতুন যুগের বাংলা নাটক দেখার আগ্রহে শীতল পানি ঢেলে দিয়েছে যুগল সঙ্গম মুর্তি।
পচতে পচতে আর কি অবশিষ্ট থাকে? 95 এর আনিসুল হক আর 2007 এর আনিসুল হককে দেখিয়ে বলা যায় দীর্ঘ এক যুগ পচেছে তবে জেল্লা বেড়েছে অনেক গুন।

তার " ভালোবাসা মন্দবাসা" নাটোন্যাস পয়সার লোভে কিংবা কথা রাখবার চেষ্টা। তিনি হয়তো আগাম নিয়েছিলেন, বলেছিলেন নিশ্চয় নিশ্চয় বই মেলার আগেই পান্ডুলিপি দিবো। এ্যাংকা করি তাকান ক্যান বাহে। দিমো যখন বলছি তখন লিশ্চই দিমো।

তবে বাংলা লিংকের এডে অভিনয়ের সমনে যেটুকু সময় ব্যয় হয়েছে সে সময়ে যে উপন্যাসটা লিখা শুরু করে শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা ছিলো" এ্যাড জনিত " ব্যস্ততায় তা লিখিত হয় নি।

তিনি ছুটলেন, নাটকের পান্ডুলিপি খুললেন- ডিলিট চেপে চেপে প্রথম দৃশ্য, লাইট ফেড হবে- পিছে ট্রেনের হুইসেল- তৃতীয় দৃশ্য শেষ অঙ্ক- এসব শব্দ মুছে রাতের ভেতরেই উপন্যাসটা সমাপ্ত করে দিয়ে দিলেন প্রকাশককে।
প্রকাশক খুশী, তিনিও খুশি- বাংলাদেশের অধিকাংশ উপন্যাস ছাপা হয় সম্পাদনা ছাড়াই। তাই ভালোবাসা মন্দবাসা মানুষ পয়সা খরচ করে কিনে পড়ে।
তবে নিয়ম বদলানো দরকার। অখাদ্য লিখে পাঠককে হয়রানির জন্য লেখকের অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়, যদি পাঠককে বিরক্ত করা পাবলিক নু্যইসেন্সএর মতো অপরাধ বিবেচিত হয় তবেই আনিসুল হক এবং এ জাতীয় আবর্জনা লেখকরা সম্ভবত লেখকেরা লেখার মানোন্নয়নের আগ্রহী হবে।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

  • ৬ টি মন্তব্য
  • ৩০২ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১২ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:২৪
২. ১২ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:৩৫
রঙহীন বলেছেন: সময় নাই @ কৌশিক । মজা পাইলাম। আনিসুল হকের 69 কিনে পড়ার দুর্ভাগ্য হইছিলো আমার। তার নাটক গুলোর যেকোন একটা দেখলেই কাম সারা। পরের ককটেলগুলো কেমন হবে তা যেকোন একটা দেখলেই সহজে অনুধাবন করা যায়।
৩. ১২ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:৫৪
অতিথি বলেছেন: আপনের দরকার কি এতসব দিয়া? আপনে কোনহানকার কোন হনু? মাতবর!
৪. ১২ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:০৫
যীশূ বলেছেন: আনিসুল হকের উপন্যাস আর নাটক আইজ পচে নাই। বহুত আগেই পইচা এহন গন্ধ বেরুইতেছে।

...............বহুত পুরানা উপলব্ধি।
৫. ১২ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:০০
অতিথি বলেছেন: সুন্দর আলোচনা।
আমি কোন উপন্যাস লিখলে আগে আপনাকে দেখিয়ে নেব।
৬. ১২ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:৩৫
অতিথি বলেছেন: মাইনসে কি আহত হইলো নাকি? আমার কিন্তু মনে হয় সমালোচনা নির্মম হইতেই হইবো। আহ্লাদি হইলে তার থিকা কেমুন জানি অ্যাকাডেমিক দুর্গন্ধ বাইরায়। আনিসুল হক সম্পর্কে আমার লগে রাসেলের মিলছে 90% এর উপরে। আমি খালি একটু একস্ট্রা যোগকরুম যে ভদ্রলোক কিছুদিন দম লইলে ভালো হয়....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন