সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১০

বর্তমান দিনযাপণের গল্প

আমি দিন দিন নিশ্চিত হচ্ছি আমাদের লেখকেরা আমাদের নিম্ন পর্যায়ের বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ ভাবে কিংবা আদৌ তারা আমাদের মানুষ ভাবে কি না এ নিয়েও আমার সংশয় গাঢ় হচ্ছে প্রতি দিন। আনিসুল হক সাহেব ভালো লিখেন তবে আমার মনে হয় লেখার বিষয়ে তার মনোযোগ এখন শুন্যের কোঠায়, বরং তিনি বাহবা পাওয়ার জন্যই লিখছেন হয়তো। গতকাল তার এক উপন্যাস পড়ছিলাম, অন্ধ এক ছেলেকে নিয়ে লেখা উপন্যাস, বিষয়টা একটু অন্যরকম, উপন্যাস হিসেবে সব রকমের জিনিষ সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়ার একটা চেষ্টা ছিলো। অসহ্য লাগলো যখন পড়লাম সেই অন্ধ যুবক ডেইলি স্টারের ওয়েব পেজে কিছু একটা পড়লো। আমি মোটামুটি নিশ্চিত এখনও বাংলাদেশে এমন সচতনতা আসে নি যে কম্পিউটার স্ক্র ীনে ব্রেইল পদ্ধতিতে ওয়েবপেজ আসবে। এবং সেই ওয়েবপেজ ডেইলিস্টারের কল্যানে পেয়েও গেলো অন্ধ ছেলে। অমনোযোগিতা নয় এটা, এটা ইচ্ছাকৃত ভাবনার সমপ্রসারন। তার মনে হয়েছে এভাবে বললে বিষয়টা আধুনিক হলো। পাঠক শালার বেটা রাম ছাগল। লতা পাতা খায়, ও কি আর বুঝবে ওয়েব পেজ জিনিষটা ব্রেইলে লেখা না কি এমনি স্ক্র ীনে আসে? অপমানিত বোধ করছি আসলে।


এমন ভাবেই অপমানিত বোধ করি যখন অনুভব আর বাস্তবতার ভেতরের ফারাক রাখেন না কোনো আধুনিক কবিকূল। সূর্য গলে গলে পড়ছে, জ্যোৎস্নার বৃষ্টি ঝড়ছে শব্দগুলো একেবারে অপ্রাকৃতিক, তবে অনুভবের জায়গায় গেলে আমি হয়তো এমন অসম্ভব বিষয়টাকে একটা পাশ মার্ক দিয়েও দিতে পারি। শিল্প বাস্তবের অবিকল প্রতিরূপ হতে হবে এমন দোহাই না দিয়েও বলা যায় সাম্ভাব্য সব রকম সমাবেশ আসলে পছন্দনীয় না। কিংবা বাস্তবসম্মত উপমা এবং অবাস্তবঘটনাপ্রবাহ বর্ণনার ভেতরে নু্যনতম একটা ব্যাবধান আছে। আমার অভিমত কিংবা আমার দর্শন এমনটাই যে পাঠক কসরত না করেই বুঝে নিতে পারবে কোনটা আমার অনুভবের জায়গা কোনটা আমার বাস্তবতার ভিত্তি।


ঘোড়ার আগে গাড়ী জুড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটা বোধকরি আধুনিক কবিদের অস্থিমজ্জায় মিশে আছে।ছন্দ অক্ষুন্ন রেখে, ধারাপাত মেনে অন্তঃমিলের ক্লান্তিকর প্রয়াসে কবিতার প্রাণ ওষ্ঠাগত। তাদের নিষ্ঠুর ব্যাবচ্ছেদশৈলীতে কবিতার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। বিউটিফিকেশনের দূর্বল প্রচেষ্টা অঙ্গসৈষ্ঠব বাড়ানোর বদলে কবিতাকে কদাকার করে। কিংবা কবিতাকে গণিতশাস্ত্রের দোহাই দিয়ে কদাকার করার প্রক্রিয়াটাও শুরু করেছে আধুনিক কবিরা।


অবশেষে ছাপার অক্ষরে সামনে যা আসে তা অক্ষর, জ্যামিতি আর অংকের দুর্বোধ্য মারপ্যাঁচ। সেখানে সাবলীলতা নেই বরং কাঠামো আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরে কবিতার শ্বাসরোধ করে, তাকে সীমাবদ্ধ করতে চায়। অভিনবত্বের খোঁজ হয়তো আছে- সেই চিরপুরাতন কথাকে নতুন আঙ্গিকে বলতে চাওয়ার আন্তরিক বাসনা কাজ করে।


নেহায়েত স্তনবৃন্তকে কিসমিস মনে হয়েছিলো তাই সার সার আঙ্গুর ক্ষেতে কিসমিস ফলে-কিসমিস বাগানে মাছিও বাসে অকারনে। সেই ভাজা বাদাম গাছ থেকে পাড়ছি আমরা- দাঁতে কুট্টুস করে ভাঙ্গছি আর বাদাম তেলের গন্ধে মাতোয়ারা হচ্ছি প্রতিনিয়ত।
অবশ্য উলটা পালটা বুঝ দিয়ে দেওয়া যায়- এটাই আধুনিক রীতি- গাছে মিসাইল ফলবে-সেখান থেকে পাকা ফলের মতো বৃন্তচু্যত স্তন ঝাপিয়ে পড়বে যেনো পাকা দাড়িম্ব-স্তনের ভাব বেলের মতো হলে অনায়াসে বলা যায় তাতে কাক-কবির কি আসে যায়।তবে গুরু সুকুমার -তিনিও বুঝেন নি বয়সকালে- বেলের মাথায় কিসমিস জুড়ে দিলে তা কুমারী স্তন হয়ে যায়।


সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ অক্ষর মেপে কবিতা লিখেন-তবে অক্ষর মাপতে গিয়ে কবিতার শাড়ী খুলে যায়। বিবস্ত্রা কবিতা করূন সুরে গান করে- দে পানাহ, দে পানাহ-


ছন্দেই লিখতে হবে কেনো? নিজস্ব কল্পনা যেখানে শেষ সেখানে অভিধান খুলে সঠিক অক্ষর দৈর্ঘের শব্দ সংস্থাপন অযৌক্তিক-মুক্তার খাঁজ কাটার মতো অশালীন। তবে গাণিতিক নিয়মের প্যাঁচে সহজাত কবিতা হত্যা প্রথাসিদ্ধ, সবাই কি আর আন্তরিক নজরুল যার সহজাত আবেগ ছন্দে বাধা পড়ে থাকে। অপরূপ চিত্রময়তা যার গানে।
অবশ্য নজরূলের গান নেই সবই সঙ্গীত এবং সংগত কারনেই তা সং দ্্বারা গীত। তবে মাঝে মাঝে অকারণে নজরূল ভর করে আমাকে-সারাদিন গুনগুন মাথার ভেতরে-
" আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া পান করিতে চাহো কোন অমিয়
আছে এ আঁখিতে উষ্ণ আঁখিজল, মধুর সুধা নাই পরাণপ্রিয়"
এমন মায়াজাল নজরূলেই সম্ভব
কিংবা যখন গেয়ে উঠে গায়িকা


"হিজল বিছানো বনপথ দিয়া
রাঙ্গায়ে চরণ আসিবে গো প্রিয়া"
বুকের ভেতর উঠালপাথাল করে, নজরূলে বিবশ হয়ে থাকি- এমন ইন্দ্রজাল নজরূলের পক্ষেই সম্ভব হয়তো। ছন্দে আবেগে সাবলীলতায় তর তর বয়ে যায় কবিতার তরনী।


আমার হঠাৎ করেই কোনো কোনো দিন একটা গান হুট করেই মাথার ভেতরে অবিরাম বাজতে থাকে- এবং আমার সীমাবদ্ধ স্মরণশক্তিতে কিছুক্ষণ পর দেখা যায় সুর আছে কথা নেই। এবং কথাহীন সুর মাথার ভেতরে ঘুরছে আর আমাকে অস্থির করছে-
কয়েক দিন আগে কোনো এক কারনে নিলয়ের গাওয়া একটা গান মাথায় ঢুকে পড়লো- 2 দিন খুঁজছি গানটার কথা- সম্ভব- অসম্ভব বিভিন্ন প্রচেষ্টার পর অবশেষে সেই গান খুঁজে পেলাম। শুনলাম একবার, ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেলো।
আজ দুপুর থেকেই মাথায় ঘুরছে শ্র ীকান্ত-
তুমি যে আমারই রাজকন্যা
এটুকু ভেবেই হোক বাসর যাপন-
নয় থাকলে আরও কিছুক্ষণ"
" এখনই বলো না চলে যাই শুধু একটু ভাবতে দাও তুমি যে আপণ"


কোনো কারণ নেই, তাই অকারণ কাতরতা তৈরি হয় ভেতরে। আমার বর্তমানে গান শোনার কোনো ব্যাবস্থা নেই। আমি সুরের সংক্রামণ থেকে বাঁচার তাগিদে এদিকে ওদিকে যাই- নাছোরবান্দা সুর মাথার ভেতরে ঘাঁই মারে।
হয়তো এ জন্য দায়ি আমার গান শোনার ধরণ। একবার কোনো গান মাথার ভেতরে ঢুকে গেলে সারাদিন সেই গান শুনে সবার বিরক্তির কারণ হই। চন্দ্রবিন্দুর
" এইটা তোমার গান
তুমি লোড শেডিংয়ে চাঁদের আলোর সর
তুমি জ্বরের শেষে রৌদ্্রধোয়া ঘর" শুনেছি টানা 6 ঘন্টা।
কোনো একদিন শাহাজান মুন্সি অতর্কিতে হামলা চালানোর পর সেই দিন টানা শুনেছি
" আমায় যতো দাও হে ব্যাথা, হৃদয়ে রাখিব গাঁথা, এক দিন জানি ব্যাথার হবে অবসান"
একদিন সারাদিন শুনলাম " কেনো যামিনী না যেতে ডাকিলে না বেলা হলো মরি লাজে"


তবে গানের সুরের সাথে কথাও আমার কাছে প্রধান বিষয় মনে হয় বলেই গানের গীতিসুধার বদলে কব্যসুধায় আকৃষ্ট হই বেশী। সাধারন শব্দগুলো সুরের পালে উজান পাড়ি দেয় দেখে মুগ্ধ হই প্রতিনিয়ত।


আর আমার মন কেমন করে-এক দিন সারাদিন ভ্রমর কইয়ো গিয়া হাহাকার করেছিলো ভেতরে ভেতরে, কোনো এক রাধারমন( নামটাই ক্যামোন য্যানো, রমণের বিষয়টা গোপনে উপস্থিত থাকলেও তা প্রধান উপজীব্য না এই গানে) সহজ ভাষার গাঁথুনিতে ব্রজপ্রেমের বানী শুনিয়েছেন।
একটা গল্প, একটা আখ্যানের পর্দা উম্মোচিত হতে থাকে- অবশেষে সারাজীবনের হাহাকার বাজে বুকে, আমাদের সবারই অধিকারের সীমানা নির্ধারিত, যে যতটুকু কাছে আসতে দেয় ততটুকুই আমাদের অধিকারের সীমানা
আমরা এইসব ছককাটা ঘরে বাঘবন্দি খেলি- অনবরত রক্তাক্ত হই তবে প্রস্থান থামাতে পারি না- আমাদের এই যাবজ্জ ীবন অঘটনের মর্মপীড়া আক্ষেপ অনুদিত হয় শব্দে
আগে যদি জানতাম রে ভ্রমর যাইবা রে ছাড়িয়া
মাথার কেশ দুই ভাগ করি রাখিতাম বান্ধিয়া


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:১৪




  • ২৫ টি মন্তব্য
  • ৩৪৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন

পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫৮
অতিথি বলেছেন: ওয়াও, চমৎকার বিশ্লেষন। সময়টাই যেন কেমন। আসলে শিল্প-সাহিত্য বলেন আর সম্পর্কই বলেন সব কিছুই যেন স্বার্থ, বানিজ্য, জনপ্রিয়তা কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। ভেতরের সত্বাটাকে এখন আমরা লেফট-রাইট ছন্দে ফেলে দিয়েছি - হ্রদয়টা যে কোথায় লুকিয়ে আছে!
২. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:০৬
অতিথি বলেছেন: আনিসুল হক একটা ভালো লিখলে 25টা খারাপ লেখে। মার্কেট একবার ্রারু হইয়া গেলেই মাইনসে মনে করে এইবার ডা দিমু তাই চলবো। চলেও। তাতে চাপা পড়ে অনেক ভালো ভালো লেখা।
৩. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:০৯
শাওন বলেছেন: আছেন কেমন রাসেল ভাই ?? মনটা ভালো ??
অটিসটিক শিশুর মত লাগতেছে । অটিসটিক শিশুরা দারুন ব্রেনী হয় জানেন তো ??
৪. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:১৮
অতিথি বলেছেন: হয়তো কোনো না কোনো কারনে এখন সবাইকেই অটিস্টিক বানিয়ে দেওয়ার একটা প্রবনতা আসে মনস্তত্ববিদদের, সকল মানুষই সীমিতপর্যায়ে বিচ্ছিন্নতাপ্রিয়, এইটার মাত্রাটা ঠিক করবে কে? আর আমার নিজের মাঝে মাঝে মনে হয় আমি অটিস্টিক, যখন অকারনেই বাংলা বানানের ভেতরে একটা শৃঙ্খলা খুঁজি কিংবা নিজের উদ্ভট বানানরীতির সপক্ষে যুক্তি খুঁজি সৈন্দর্যের।
তবে বোধ হয় মনস্তাতি্বক সীমায় আমাকে অটিস্টিক বললে আরও লাখখানেক মানুষকে ঢুকাতে হবে লিস্টে।
৫. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:২২
শাওন বলেছেন: আমি আমার মনের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলছি । জিনিসটা আমার খুব ইন্টারেস্টিং লাগতেছে ।
বলতে পারেন আমি একটা খেলা খেলতে চাই । আমার সবথেকে অপ্রিয় মানুষগুলোকে আমি ফাটিয়ে ভালোবাসব ।
জানিনা সফল হবো কিনা ।




আর কথা হলো , ঐটার মাত্রা ঠিক করবে "গড" । গড নিয়ম কানুন বাধে অন্যেরা বাধে না ।
৬. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:২৩
অতিথি বলেছেন: আপনার লেখা পড়ার পর কিছুক্ষন দাঁতের গোড়া সিরসির করতে থাকে। কবে যে খুইলা পড়ে!


তবে কম্পিউটারে অন্ধ লোক পত্রিকা পড়তে পারে। অসম্ভব কিছু না। টেকস্ট টু স্পীচ সফটওয়্যার দিয়া এইটা সম্ভব। তবে সেইটা পড়া না হইয়া শোনা হবে আরকি।


কবিতার উপমা ব্যবহারের আপনার মন্তব্যেও দ্্বিমত ছিল। কবিতায় যুক্তিযুক্ত বা বাস্তব সম্মত উপমা থাকলে সেইটা আর কবিতা হইল কেন?
৭. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:২৬
অতিথি বলেছেন: ভালো লাগল। 'এইটা তোমার গান' আমি পুরা দুই দিন টানা শুনেছি, মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে বাড়ির মানুষের। শ্রীকান্তের 'নয় থাকলে আরও কিছুক্ষণ' টাও অনেক শোনার মত। গানের কথা মনে থাকে কম, সুর যন্ত্রনা দেয়।
৮. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:২৮
অতিথি বলেছেন: কবিতায় যুক্তিযুক্ত উপমার প্রয়োজন নাই আসলে, তবে আমার ভাবগত বৈচিত্র প্রকাশের জন্য আমি যদি বলি গাছে ভাজা বাদাম ফলে সেটা উপমা হিসেবে হয়তো পাশমার্ক পাবে। আমার নিজস্ব অনুভবের জায়গাটাকে কেউ প্রশ্ন করতে আসবে না তবে যে পাঠক পড়বে তার কথাটাও বিবেচনা করা দরকার।
অতিপ্রজ হলে তাকে খরগোশ বলা যায়, কিংবা আগাছা, এবং এইসব বিষয়ে আসলে নিজস্ব অভিমতটাই প্রধান্য পায়।
আমি নিজে কবিতা লিখলে কি ভাবে লিখতাম এটা বিবেচনা করে আমি কবিতা পড়ি। কবিতার ভালোমন্দ বিচার করি। আমি যদি বুঝতেই না পারলাম তাহলে কবিতার রস আস্বাদন করবো কি ভাবে।


আর শব্দবিষয়ক জটিলতা দিন দিন বাড়তেছে। এইটা খেয়াল করছি কয়েক দিন আগে। পুরা ঢাকাইয়া ভাষায় কয়েক দিন লেখার টেরাই দিতে অইবো। তাইলে যদি গ্যাড়া কাটে।
৯. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৩১
১০. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৪
অতিথি বলেছেন: শাওন পন্থাটায় ভুল আছে। আমাকে অপছন্দ করো এটা সহজ ভাবে বললেই ক্ষতি ছিলো না। তবে যদি আমাকে অটিস্টিক ভেবে নাও পুর্বেই তাহলে ভালোবাসাটা শর্তসাপেক্ষে হয়ে যাবে।
তবে অটিজমের নীতি তৈরিতে "গড" কোনো ভুমিকা রাখে না, তিনি এমন কোনো নীতিমালাও তৈরি করে যান নি। এটা বিচ্ছিন্নতা, এবং মানুষের মানসিক বৈচিত্রের প্রান্তিক রূপ। প্রতিটা মানুষের ভেতরেই কমবেশী বিন্যাস-সমাবেশের বাই থাকে, শুচিতার বোধ থাকে, এই বোধগুলো যখন সামাজিক ভাবে স্ব ীকৃত মাত্রার বেশী হয়ে যায়, তাকে অটিজম বা মানসিক বিচু্যতি বলে।
নিয়মবদ্ধতার চুড়ান্ত হলো মিলিটারি একাডেমী, এই প্রথা যারা তৈরি করেছে তাদের সবাইকে অটিজমের গুরু বলা যায় সে হিসাবে। এমন কি সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতরেও এমন সমাজিকস্বীকৃত মাত্রার বেশী ঘৃনা এবং প্রথানিষ্ঠতা ঢুকানোর প্রক্রিয়া কাজ করে, এভাবে ট্রেইনিং পাওয়া মানুষগুলোকে কি আমরা ট্রেইনড অটিস্টিক বলবো?
১১. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৬
অতিথি বলেছেন: শাওন কথাটা নতুন শিখছে তো। যাদের অপছন্দ করে সবার পোস্টে বলে বেড়াচ্ছে। পোলাপাইন আর কারে বলে!
১২. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৫
১৩. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:০৪
শাওন বলেছেন: হেহে , না মোর্শেদ ভাই , আপনাকে অপছন্দ করি না । ঝড়ো হাওয়া মামার ওখানেও বলেছি , উনি আমার বিশেষ প্রিয় । আপনি আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছিলেন মনে আছে ?? ইউনিকোড , আমি ঋণ আছি এখনো । যে আমাকে ঋণ করে তাকে অপছন্দ করার কারণ দেখি না । তবে শব্দটা শুনেছি 3 বছর আগে । গুরুত্ম দেইনি । এখন সার্চ করে দেখলাম । ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং ।


তবে রাসেল ভাইয়ের ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং । এটা ব্লগের জন্মের পরের থেকে চলে আসছে । আমার সবথেকে প্রিয় মানুষ রাসেলকে খুব পছন্দ করে । আমি তার সব কথায় একমত , শুধু ঐ কথাটে একমত ছিলাম না । এখন একমত ।


রাসেল ভাই , আমি জানতাম আপনি বলবেন যে গড কোনো নয়ম বাঁধে না । বরাবরের মতই বিপক্ষে অবস্থান নিলাম ।


অটিস্টিক শিশুরা কিন্তু গড কে চরমভাবে ভালোবাসে । এবং তারা মানেও গড ই নিয়ম করেছে । নয়ম ভাঙে আর নিয়ম পরিবর্তন করে মানুষ ।
১৪. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ২:৩১
অতিথি বলেছেন: আমিও সামনের বইমেলায় শ দুয়েক বই বাইর করবো। একটা কাহিনী শুরু হবে এভাবে,
পায়জামা পরা এক মহা হারামজাদা আন্দাজে চলাফেরা করে। একদিন সে ফোন হারায়ে ফেলছে....
সে হারামজাদা কি নিজেরে হিমু ভাবে?
১৫. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৪:১১
আপন তারিক বলেছেন: আসলে বেশি কর্মাশিয়াল হয়ে গেছেন আনিসুল হক । এবং অনেকেই! সুমন দ্যার সাথে সহমত।
বস দুর্দান্ত বিশ্লেষন। ভাল লাগল...
১৬. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৩
অতিথি বলেছেন: আপনে কোনদিক দিয়া আহেন আর কোনদিক দিয়া পোস্ট ঝাড়েন কিছুই খেয়াল খাইনা। নেক্সট টাইম আমার ব্লগে একটা ঢুঁ মাইরেন তো।


হাজারদুয়ারীর গায়ে হাড়-মাংস লাগানো লাগবেতো!
১৭. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৯
ঝরা পাতা বলেছেন: কোন কোন লেখকের কাছে (সচেতন) পাঠকের প্রত্যাশা থাকে বেশি। বই মেলাটা অনেকটা বাণিজ্যিক ব্যাপার। তাই লেখকরাও একটা প্রতিযোগিতায় নামেন কত বেশি বই বের করা যাবে তাতে। সুমন্ত আসলামকে যেমন আলপিনের বাউন্ডুলে কথনে অসাধারণ মনে হয়, উপন্যাসে ততটা কখনো নয়।


আপনার বিশ্লেষণটা এককথায় অসাধারণ।
১৮. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫১
১৯. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:৪০
২১. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:২১
অতিথি বলেছেন: আমি ইদানিং মাঝে মাঝেই ভাবি,আপনি যদি কমার্শিয়াল লেখক হতেন,তবে অন্যরা কোন পেশায় ব্যস্ত থেকে ভাত খেত ?


হায়,প্রতিভার কী নিদারুন অপচয়!!!!!
২২. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:১৯
অতিথি বলেছেন: বাংলাদেশে লিখে জীবিকানির্বাহ করা আসলে সম্ভব না। লিখে পয়সা পাওয়া আর পয়সার জন্য লেখা 2টা ভিন্ন বিষয় আসলে।
যদি কেউ এমন অবস্থানে যায় সে অনেক দিন পরিশ্রম করে যা লিখবে সেটার রয়ালিটি হিসাবে সে যা পাবে তা দিয়ে পরবর্তি লেখা প্রকাশিত হওয়ার আগে যথাযথ জীবনযাপণ সম্ভব তাহলে হয়তো পরিস্থিতি আলাদা হতো।
এখন পয়সার জন্য লিখতে হলে তেমন না ভাবলেও চলে, দৈনিক অন্তত 40 টা নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখা হয়, আউট লাইন দিয়ে, কেউ কেউ এতটাই পরিশ্রমবিমূখ, তারা আউট লাইন ধরায়া দিয়া বলে এই হইলো ঘটনা এখন তোমরা তোমাদের কথা শুরু করো।
লোক জন এমন করে কারন তাদের খরগোশের মতো অনেকগুলো প্রসব করতে হয়, যেহেতু রয়ালিটির পরিমান কম তাই লেখার জন্য পরিশ্রম কম। একেবারে পুরোদস্তুর লেখক কয় জনা বাংলাদেশে?5টা হবে?
বাকি সবাই তো লেখাটাকে বিকল্প উপার্জনের জায়গা ভাবে, বাড়তি উপার্জনের জায়গা। লোক জন চাকরীর পাশাপাশি ব্যবসা করে, শেয়ার বাজারে টাকা খাটায়, এইটাও একটা বিনিয়োগ,
আমি যদি তেমন সুযোগ পেতাম যে আমার লেখার পারিশ্রমিক দিয়ে আমি নিজের জীবনযাপন করতে পারবো এবং লেখা নিয়ে ভাবতে পারবো- কিংবা যেসব ধারণা মাথায় ঘুরছে সবগুলো নিয়ে কাজ করার অবকাশ পাবো তাহলে হয়তো লেখালেখিটাকেই আঁকড়ে ধরতাম। তবে কবি কিংবা লেখক না হতে চাওয়ার পেছনে এই অনিশ্চয়তারও একটা ভূমিকা আছে সামান্য হলেও।
এখনও এটা আমার অবকাশের জায়গা। অবকাশ কিংবা শখের জন্য যতটুকু পরিশ্রম করা দরকার ততটা করা হয় না মাঝে মাঝে।
তবে এই প্রতিভার স্ব ীকৃতিটা নিয়ে একটু চিন্তিত এখন। হয়তো এটা আমার অটিজমের সপক্ষপ্রমাণ।
২৩. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:২৬
অতিথি বলেছেন: মানলাম আপনার কথা। কিন্তু কমার্শিয়াল লেখক না হয় নাই হলেন,নিজের ভাবনা গুলোকে গ্রন্থবদ্ধ করার আগ্রহ থাকে না আপনার?
২৪. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪৪
অতিথি বলেছেন: উঁহু সেই একই সমস্যা এইখানেও, লেখা ছাপানোর আগ্রহ এখনও হয় নাই, এখনও তেমন লিখতে পারি নাই যা দেখে মনে হয় এটা ছাপানোর যোগ্য হইছে।
এইটা যেই দিন মনে হবে সেই দিন প্রকাশক খুঁজতে শুরু করবো, কিংবা যদি তেমন নিশ্চিত থাকি মান নিয়ে নিজের পয়সায় ছাপাবো।
তবে 6 ফর্মা পূরণ হতে পারে এইরকম প্রকাশযোগ্য লেখা আসলেই নাই আমার কাছে। হয়তো 1 ফর্মা পুরণ হবে এই রকম প্রকাশযোগ্য লেখা আছে।
২৫. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:১০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন