রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১০

চিত্রশিল্প ও চিত্রশিল্পি

শিল্পকে সমাজবিচ্ছিন্ন করা যায় না,শিল্পে অস্পষ্ট হলেও সমাজ থাকে, এবং বিনিময়টা পারস্পরিক বিধায় সমাজেও শিল্প থাকে, শিল্প ওসমাজ নিয়ে খানিক কচকচানি হজম করতে হবে জনগনকে, এখন যেহেতু নিয়ন্ত্রন আমার হাতেই, আমার কথা অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুনতে হবে।
সমাজ থাকলেই সামাজিক কেতা থাকবে, সামাজিক কেতাকে রক্ষা করার জন্য পক্ষ-বিরোধি পক্ষ থাকবে, এসব কেতা নিয়ে নানাবিধ পর্যালোচনা চলবে, জল্পনা কল্পনা শেষে একটা আকার দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। এ অর্থে চিত্রশিল্প বেশ কঠিন, যারা বক্তব্য প্রকাশের জন্য একটা মাত্র ফ্রেম পান। সেই ক্যানভাস যতই বড় হোক সেটা সসীম। আর শিল্পিকে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে হয়। সেটাকে ভিত্তি করেই বাকি অংশে রংসাজানো। রংএর মাতলামি,
শিশিরের ছবি দেখে তাৎক্ষনিক বিবমিষা জাগে। দোষটা ছবির নয়, ছবির বক্তব্যের ।শিশির সম্মানিত শিল্পি, তারপরও আমার কাছে মনে হয় সামান্য আলো প্রয়োজন ছিলো, একটু আশ্বাসের প্রয়োজন ছিলো, শিশিরের ছবি, আমি যে কয়টা দেখেছি, আমাকে উদভ্রান্ত করেছে,আমাকে ঘৃনা শিখিয়েছে, ভালোবাসতে শেখায় নি। দৃশ্যগুলো নির্মম নয় কদর্য, 6*4 ক্যানভাসজুড়ে বীভৎস কদর্যতা, এই নামে আমার দেখা শিশিরের সবগুলো ছবিকে সংজ্ঞায়িত করা যায়।
এই আপাতনারকিয়তার সূচনা বসচ-এর হাতে, মানুষের রিপুর কদর্যভঙ্গি অনেক ভাবেই আঁকানোর চেষ্টা আছে চিত্রশিল্পিদের, আলোর ছবি খুব কম,
ইমপ্রেশনিস্ট ধারার পুরোধা ব্যাক্তির চোখে বর্নবিভ্রাট ছিলো, তার সেই ঘোলাটে রংভ্রান্ত চোখে আঁকা ছবি হঠাৎ একটা নতুন ধারা তৈরি করে ফেললো। শিশিরের অনুকরনে বাংলাদেশের বেশ ক জন ছবি আঁকছে, কিন্তু আমার কাছে এখনও কাইয়ুম বা হাশেম এর ছবি ভালো লাগে। আমার শৈশবমাখা সেসব ছবি, আমার বই প্রথম ভাগ, আমার বই 2য় ভাগ, এবং এর পরবর্তি বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনেক বইয়ের অলংকরন করেছেন হাশেম এবং কাইয়ুম, মোটা তুলিতে আঁকা, বেশির ভাগ সময় বাহুল্যবর্জিত ছবিগুলোর মধ্যে সারল্য ছিলো। কোথায় যেনো পড়েছিলাম চিত্রশিল্পিকে অনেক সাধনা করে বাড়তি অলংকরনের ঝোঁকটা ভুলতে হয়, ছবি থেকে বাহুল্য মুছে দিতে হয় নিপুন তুলিতে।
এর ভিন্নমতও শুনেছি পড়ে মিনিয়েচার আর্টের বিষয়ে। সেখানে বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন, এমন একটা বিষয় ফুটিয়ে তুলতে হয়, হাতের তালুর মতো ছোটো একটা ফ্রেমে অনেকগুলো বিষয়কে সুষমভাবে উপস্থাপন করতে হয়, যেনো দর্শক থমকে দাঁড়ায়, ছবির ভিতরে প্রবেশ করতে পারে।
এই প্রবেশ করানো বিষয়টাই আমার কাছে শিল্পের মূল লক্ষ মনে হয়। সংযোগস্থাপন স্থুল ভাষায়।
আমার ছবিকদরের দৌড় সাংবাৎসরিক চিত্রপ্রদর্শনী এবং মাঝে মাঝে মুফতে পাওয়া কিছু রিপ্রিন্ট দেখে, বাংলাদেশের চিত্রপ্রদর্শনীর নিজস্ব কিছু জায়গা আছে, ধানমন্ডিতে 2টা গ্যালারি, জয়নুল, যাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আর ওসমানি মিলনায়তন, আমার ছবি দেখার দৌড় এই কয় জায়গায় । আমি তেমন অর্থে শিল্প রসিক না বিধায় আমার চিত্রপ্রদর্শনী গমন মানেই একপাক ঘুরে আসা, অনেকে অনেক সময় নিয়ে এখটা ছবির সামনে দাড়িয়ে বিভিন্ন কেতা করে ছবি পর্যবেক্ষন করে, আমার কাছে ছবিকে কখনই জহূরির হীরা মনে হয় না, এতো দিক বদল করে দেখার কি আছে, আগার কাছে প্রথমদর্শন-এর পর যদি টানে তাহলে আরও খানিকক্ষন দাড়িয়ে থাকা, কিন্তু একটা ছবির সামনে দাড়িয়ে ধ্যানী বুদ্ধ হয়ে যাওয়া ধাঁচের শিল্প রসিক আমি নই।
সেসব চিত্রপ্রদর্শনীর আলোকে বলি, বাংলাদেশের শিল্পি সমাজ বিশেষত যারা ছবি আঁকে তাদের ক্রনিক বিষন্নতা রোগ আছে, যারা শিল্প সমাঝদার তাদেরও বিষন্নতার গ্রহন আছে পুরোদমে, তাই প্রতিবারই পুরস্কার পাওয়া ছবিগুলো ম্লান এবং বিষন্ন হয়। খুব উজ্জল এবং আনন্দের ছবি পুরস্কার পেয়েছে এমনটা দেখি নি আমি।

আমার কাছে এর চেয়ে ভালো লাগে বেশী চারুকলার দেয়াল, আমি সস্তা মনের মানুষ তাই ধ্রুপদি ধারা বাদ দিয়ে সস্তা রংচংএ ছবি উপভোগ করি বেশী। ধ্রুপদী বিষন্নতা আমাকে টানে না। সস্তা উজ্জল ক্যানভ্যাস, একটা দুইটা উজ্জল ফুল, উৎফুল্ল পাঁপড়ি, আনন্দিত শিশুমুখ, আমি আসলে আনন্দলোভী। বাংলাদেশের সাদাকালো ছবি নয়,বর্ষার ছবিভালো লাগে, ভালো লাগে বহুরং নৌকার ছেঁড়া পাল, ভালো লাগে গাছের মগডাল। নিচের ঘাস পছন্দ নয়, বাংলাদেশের মাঠে তেমন নিখুত সৈন্দর্যনেই। সে যেখানেই দৃশ্যটা দেখা হোক, রমনার ঘসের গালিচা, সোহওয়ার্দির মাঠ, এখন বদখত কিন্তু আগে যখন একটু শোভন ছিলো, এর চেয়ে ভালো কার্জন হল, ওখানের মালীরা বড় তৎপর, সব মিলিয়ে সুন্দর একটা দৃশ্য মনের ফ্রেমে ধরে রাখা। কান্নার ছবি না, মানুষের হাসির ছবি।

অনেক গম্ভিড় কথা বলে ফেললাম এবার আবহাওয়া হালকা করতে ঢাকা চারুকলার কিছউ ঘটনা বয়ান করি, বাস্তব ঘটনা, আমাকে যে বলেছে সে দিব্যি দিয়ে বলেছে ঘটনা অতিমাত্রায় বাস্তব। যদি মিথ্যা হয় তাহেেলা ক্ষতি নেই, মিথ্যা কথা বলে কেউ যদি আনন্দ পায় তবে তাই হোক।
ঘটনার নায়কের নাম বিপুল। ঘটনা 1997এর।
বিপুল চারুকলার 2য় বর্ষে তখন। যথারীতি সরল একজন মানুষ, এবং সরল বলেই উৎকট রসিকতার শিকার। যারা শাহনেওয়াজ হল চিনে না তাদের জন্য বলা, ঢাকা নিউ মার্কেটের ঠিক পাশেই শাহনেওয়াজ হল। এই হলএ মূলত চিত্রশিল্পিরাই বসবাস করে, সবাই চারুকলার ছাত্র। পরের দিন সকালে স্টিল লাইফ জমা দিতে হবে, বাঙালি ছাত্র তাই শেষ মুহূর্তে সব করার অভ্যাস। ঘড়ির কাটায় তখহন রাত 1টা। বিপুল তখনও ছবি আঁকা শেষ করে নি, কেবল কেবল কয়েকটা আঁচর পড়েছে ক্যানভাসে। এমন সময় পাশের ঘর থেকে টিপুর আগমন, বিপুল চল দোস্ত চা খেয়ে আসি।
বিপুল সুন্দর মতো প্রত্যাখ্যান করে, না বন্ধু ছবিটা শেষ করে ঘুমাবো, চা খেতে যাবো না। আবার একবার অনুরোধ করে টিপু, চল না দোস্ত চা খেয়ে আসি, ভালো লাগবে দেখিস।
এবার বিপুল কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে, বললাম না চা খেতে যাবো না, ছবিটা শেষ করতে হবে।
টিপু চলে যায় বিরস মুখে, যাওয়ার পথে সামনে একজনকে পেয়ে অনুরোধ করে, এক কাজ কর আমি যাওয়ার পর তুই বিপুলের রুমে গিয়ে বিপুলকে বলবি, চল চা খেয়ে আসি, মজা হবে।
টিপুর গমনের 3 মিনিটের মাথায় বিপুলের ঘরের দরজার কড়া নাড়ে সেই ছাত্র- বিপুল চল চা খেয়ে আসি। বিপুল আবারও বলে না চা খেতে যাবো না, ছবি শেষ করতে হবে।
পাগলের উৎসাহের আগুনে ঘৃতাহুতি। সেই ছেলে ঘর থেকে বেড়িয়ে সামনে যাকে যাকে পায় সবাইকে অনুরোধ করে বিপুলের ঘরে গিয়ে চায়ের আমন্ত্রন জানানোর জন্য।
নিস্তরঙ্গ জীবনে আর কি চাই। সবাই পরবর্তি 2 ঘন্টায় অন্তত 50 বার বিপুলের ঘরে গিয়ে তাকে চায়ের সঙ্গি হতে অনুরোধ করে।
বড় ভাইয়েরা আসে-
কি মিয়া বিপুল, চলো চা খাইতে যাই। রাত হইছে, আয়া ছবি আঁকবানে। বিপুল ভদ্্রতার প্রতিমুর্তি। না ভাই চা খেতে যাবো না, কালকে ছবি জমা দিতে হবে, আপনারা খেয়ে আসেন। বড় ভাই আরও 2 বার অনুরোধ করেন, তার পর ঘর থেকে বেড়িয়ে যান।
তার 2 মিনিটের মাথায় অন্য একজন আসে, বিপুল চল না দোস্ত চা খেয়ে আসি। ছবিতো আঁকার সময় আছেই। 1 ঘন্টা পর বিপুল উন্মত্ত হয়ে যায় এই চা নিয়ে চাপাবাজিতে। বড় ভাই এবং বন্ধু মহলের পালা শেষ হলে আসে প্রথম বর্ষের ছাত্ররা, বিপুল ভাই চলেন চা খেয়ে আসি। রাত 3টা পর্যন্ত এই ধারাবাহিক চায়ের আমন্ত্রনে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বিপুল ছবি আঁকা বন্ধ রেখে ঘুমাতে যায়।
ঘুমের মাঝে এক জন আসে ডাকে, বিপুল দোস্ত চল চা খেতে যাই।
বিপুলের সারা রাত ঘুমে সমস্যা হয়েছে, বিভিন্ন মানুষ তাকে ঘুমের মধ্যে ডেকেছে চায়ের নিমন্ত্রন দিয়েছে। অবশেষে সবাই ক্লান্ত হয়ে ঘুমাতে যায়।
বিপুল ঘুম থেকে উঠে সকাল 11টায়। চোখ যায় মশারির উপরে। সেখানে বড় বড় করে লেখা
" বিপুল চল চা খেয়ে আসি"

বিপুল ছবি আাঁক শিকায় তুলে আসে চারুকলা ক্যাম্পাসে। ঢুকতেই গেটের কাছে এক জন, বিপুল চল চা খেয়ে আসি বুড়া মিয়ার ওখান থেকে।

অসম্মতি জানিয়ে কয়েক পা আগানোর পর আরও একজন হাসিমুখে চায়ের নিমন্ত্রন জানায়। রাগান্ধ বিপুল যায় রফিকুন্নবির ঘরে।
স্যার একটা কথা ছিলো, সবিস্তারে বর্ননা করতে শুরু করে গত রাতের ঘটনা। মাঝে রফিকুন্নবি বাঁধা দেন, বিপুল তুমি কি চা খাবে?
যাই হোক ঘটনা শুনে রফিকুন্নবির বিজ্ঞ পরামর্শ যদি অবস্থা এমন হয় তাহলে কেউ চা খাওয়াতে চাইলে রাজি হয়ে যাও।
পরবর্তি সারা দিন বিপুল জনতার অনুরোধে 30 কাপ চা শেষ করে।
পরবর্তি ঘটনার নায়কও বিপুল।কিংবা নাহিদ, যাউকগা বিপুলই থাক।
বিপাশা তখন চারুলকার ছাত্রি, বেশ পরিচিত নাটকের সুবাদে, সুন্দরি বলাই যায় বিপাশাকে। বিপুল অকাতরে প্রেমে পড়ে বিপাশার।
প্রেমে পড়া মানুষের আশ্রয় বন্ধুরা, বিপুল বন্ধুদের জানায় সে প্রেমে পড়েছে, প্রেমাস্পদের নাম জানায়। প্রেমিক হলে মানুষের বুদ্ধিনাশ হয়, প্রেম বুদ্ধিনাশী রোগ। বন্ধুরা জানায় একজন অভিনেত্রির সাথে প্রেম করতে হলে বিপুলকে অভিনেতা হতে হবে, এবং অভিনয় করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
প্রেমান্ধ বিপুল না বুঝে আগুনে ঝাঁপ দেয়, অভিনেতা হওয়ার বাসনা প্রকাশ করে। বিপুলের প্রেমঅভিযান কমিটি গঠিত হয় জোড়েশোরে।
সেই কমিটির কাছে বিপুলকে হস্তান্তর করা হয়।
সে কমিটি বিপুলের জন্য কিছু কার্যক্রম ঠিক করে। শাররীক সক্ষমতা, বিপুল প্রশ্ন করে কেনো?
তুমি যখ ন অভিনয় করবে অনেক চরিত্রে অভিনয় করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীর টিকবে কিভাবে। কত কিউঠাতে হবে, কত গাছের ডাল বাইতে হবে, শাররিক সক্ষমতা অভিনেতার জন্য অতীর গুরুত্বপূর্ন।
তাই বিপুলকে প্রতিদিন সকালে রুটিন করে 50টা ডন বৈঠক দিতে হয়, 25টা বুকডন। এসবের সাথে মাঝে মাঝে উটকো কিছু শাররীক কসরত করতে হয়।
একবার এক বড় ভাই, ভদ্্রলোকের নাম মনে নেই, চারুকলা ছাত্রদলের নেতা সম্ভবত , যারা মাস্টার্স কখনই শেষ করার ইচ্চা নেই, এসে বলে বিপুল যদি অভিনেতা হতে চাও আমার কাছে কিছু জ্যাক আছে, কিন্তু তোমাকে শাররিক সক্ষমতার প্রমান দিতে হবে।
বিপুল প্রেমান্ধ রাজি হয়ে যায়। সে যেকোনো বাজী ধরতে রাজি প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য। টাকে বলা হয় রুমে খালি গায়ে গড়াগড়ি দিতে। বিপুল সারা গায়ে তেল মেখে গোটা রুমে গড়াগড়ি দেয়।
মহা উৎফুল্ল বড়ভাই। পরদিন আসেন, বলেন আমি কথা বলেছি লোকজনের সাথে, কিন্তু অভিনয় করতে হলে যে স্কিন টেষ্ট দিতে হয় সেটা জানোতো?
বিপুল অজ্ঞতা জানায় ।বিপুলকে স্কিন টেষ্ট বুঝানো হয়। শরীরের 1 বর্গ ইঞ্চি পরিমান চামড়া কেটে নিয়ে সেটা পরীক্ষা করা হবে , ক্যামেরায় তার কমপ্লেক্সন কেমন এটা জানার জন্য। তাকে বুঝানো হয় হালের যত নায়ক, নায়িকা এমন কি দিলদার সবাই স্কিন টেষ্ট দিয়েছে অভিনয় করার আগে। বিপুল স্কিন টেষ্টে রাজি। বড় ভাইয়ের পরবর্তি প্রশ্ন, তা চামড়াটা কোথা থেকে দিবা ঠিক করছো?
বিপুল বলে হাত থেকে দিবো। বড় ভাই বলে, দেখো বিপুল তোমাকেতও খালি গায়েও অভিনয় করতে হতে পারে, তখহন এত বড় একটা ক্ষত কিভাবে ঢাকবে, বরং এমন কোনো জায়গা পছন্দ করো যেটা ক্যামেরায় আসবে না। ধরো তোমার পাছা থেকে দিলে চামড়া, ওখানেতও কয়ামেরার আলো পড়বে না। তুমি এত নায়িকা নায়ক দেখছো তাদের কারো হাতে বা পায়ে কোথাও ক্ষত দেখছো? বিপুল ইন্ডিয়ান নায়িকাদের ছবি চোখের সামনে এনে খুটিয়ে খটিয়ে ভাবে, নাহ করো শরীরেই তো এমন একটুকরো চামরা মিসিং দঃরনের অসংগতি নেই।
বড় ভাই পরবর্তি তীর নিক্ষেপ করে, ওরা সবাই পাছা থেকে স্কিন দিয়েছে টেষ্ট করার জন্য, এটাই দস্তুর।
এর পর বিপুলকে ছেড়ে দেওয়া হয় জনতায়।
জনতা বিপুলকে প্রশ্ন করে আচ্ছা বিপুল তুমি যে অভিনয় করবে স্কিন টেষ্টের জন্য স্কিন দিবা কোথা থেকে,
কেনো পাছা থেকে, বিপুলের সপ্রতিভ উত্তর।

ঘটনার শেষ এমন- কয়েক সপতাহ খেলার পড় সবার উৎসাহে ভাটা পড়ে, তারা ঘটনার শেষ দেখতে চায়, সুতরাং একটা আয়োজন হয়, বিপুলকে বলা হয় এবার তার অভিনয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

নাটকের দৃশ্য একটাই, সে একজন রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের পর ধরা পড়েছে, জনতার আদালতে সে দাড়িয়ে আছে, তার গলায় একটা সাইনবোর্ড ঝুলছে সেখানে লেখা " আমি রাজাকার"
জনতার আদালতে রায় হলো জনতা ঘৃনায় তার গায়ে থুতু ছুড়বে এবং একটা করে চড় দিবে

শাহনেওয়াজ হলের মাঠে উন্মুক্ত মঞ্চ হয়, বিপুল খালি গায়ে গলায় " আমি রাজাকার" লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিচার সভার মুখোমুখি হয়।

বিচারের রায় হয়।
জনগন করিতকর্মা, তারা মহানন্দে বিপুলকে থুতু এবং চড় থাপ্পড় দিয়ে যায়।

-----------------------


ঘটনার পরিশেষ সবাই জানেন, বিপুলের প্রেম রোগ সেই ঘটনার পরের প্রতিক্রিয়ায় সামান্য জ্বরের পর সেরে যায়। কিংবা তার বোধোদয় হয় যে সৃষ্টিজগতে নিরীহ এবং সরল হওয়ার কোনো উপায় নেই, ডারউইনের সারভাইবাল ফর দ্যা ফিটেস্ট নীতি সব সময়ই প্রযোজ্য। সে অভিনেতা হওয়ার বাসনা ত্যাগ করে চিত্রশিল্পি হওয়ার চেষ্টা করে।

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০


  • ৯ টি মন্তব্য
  • ৩৬২ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
৩. ২৭ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:০৩
শুভ বলেছেন: বদ্দা, পুরাটা অন লাইব্জ্বন পড়ব্জ্বল অ্যাই ফতুর হয়া যামু- খাড়ন ব্জ্বসইভ কইরা লই।
বদ্দা, আনব্জ্বন ব্জ্বতা শিল্ফি মানু- একটা ছবি ব্জ্বপাস্ট করছিলাম, সময় পাইব্জ্বল ব্জ্বদইব্জ্বখন ব্জ্বতা।
৪. ২৭ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৮:০৩
অতিথি বলেছেন: গ্রেট গ্রেট, রাসেইল্যা নো মোর মন্তব্য। পোষ্ট চাই, পোষ্ট।

লেখাটার লম্বত্ব বুঝতে পারলাম না। এক নিঃশ্বাসে কখন যে পড়ে ফেললাম বুঝলাম না।


ধন্যযোগ দেয়া যেতে পারে, সাথে বোনাস ফাইভ...
৫. ২৭ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩
অতিথি বলেছেন: অদ্ভুত সুন্দর লিখেছেন রাসেল। তবে বিপুলের সাথে দেখা হলে তাকে এক কাপ চা এর সাথে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাবেন। ধন্যবাদ আগেই দিয়ে রাখলাম।
৬. ২৭ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩
অপ বাক বলেছেন: বাকি গুলাও লিখে ফেলবে নাকি? গল্পতো অনেক জমা আছে ভাঁড়ারে। একটু সামলে বাছা, দেশে ফিরতে হবে তখন প্রত্যেকে কড়ায় গন্ডায় হিসেব বুঝে নিবে, সুমনের গান স্মরণ রেখো বাছা।
৭. ২৭ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩
কালপুরুষ বলেছেন: অপূর্ব সুন্দর একটা লেখার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা। রঙ তুলির ব্যবহার নেই তবুও সাহিত্যের আঙ্গিকে, লেখনীর বুনটে একটা সাবলীল লেখচিত্র নিঃসন্দেহে এবং সেটা আপনার পক্ষেই সম্ভব।
চিত্রও শিল্পকর্ম যারা ভালবাসেন তারা প্রকারন্তে অবশ্যই শিল্পরসিক। আপনিও তাই। কারণ যিনি নিজের চোখ ও মনকে নিজের ইচ্ছেমতো এমন ভাবে ব্যবহার করেন যা আপনা আপনি ঐ শিল্পকর্ম বা চিত্র থেকে ভাললাগার রসটুকু নিঙরে নিতে পারেন। আর সেই রসটুকু বের যিনি বের করে আনেন তিনিই একমাত্র সেই শিল্পকলার প্রকৃত স্বাদ নিতে পারেন। অন্যের সাহায্য বা বা মন্তব্য তার সেই রসগ্রহণের অন্তরায় হতে পারে না। কেউ মোনালিসার হাসি খোঁজেন, কেউ মাতৃত্বকেউ বা আবার তুলির টান কেউবা রঙের ব্যবহার। নিছক একটা ছবি হিসেবেও দেখেন অনেকে।
আপনি লিখুন, লিখে যান আপনার ভাবনার বিষয়গুলো নিয়ে। আপনার লেখা থেকে রসিকজনেরা যার যার মত রস বের করে নেবে। রস যদি নাও থাকে ক্ষতি নেই, ছোবড়া দিয়ে জাজিম বানিয়ে পিঠের নীচে ফেলে সুখনিদ্রা দেব। কারণ সুখ আর আনন্দটাই মুখ্য। সবকিছুই মনের খোরাক।
৮. ২৭ শে মার্চ, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৩
হিমু বলেছেন: দাদা এইসব প্যাচাল রাখেন চলেন এককাপ চা খেয়ে আসি।
৯. ২৭ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:০৩
অতিথি বলেছেন: অপ বাক, রাসু বাছারে কড়ায় গন্ডায় অন্য কেউ কিছু না বুঝালেও, হিমু মামুর বেটা ঠিকই পঁ্যাদাবে, এটা আন্দাজ করা যায়, কমেন্টের ধরণ দেখেন তার চাইতেও যেটা ধরণীয় তা হলো, রাসু ভাই হিমু মিয়ারে একবার কুমারী রাইখা কুমীরে উপগত হইতে বাধ্য করছে তাও মায়ের ভালো পোলাডারে পুররা এক ডেরাম পাগলা পানি খাওয়াই য়া....।

কুমিরে উপগত হবার কষ্টে হিমু মিয়া পাগলা পানির গেলাস আেেধক শেষ কইরা খাওয়া আপাতত বিরতি দিছে, রাসুরে "সাইজ" কইরা নাকি বাকী গেলাস শেষ করবো...। এটা অবশ্য গোঁপনীয় সংবাদ দাতাদের কথা, তবে মজলিশে পিছলামির লোকেরা রাসু কাহার বিরুদ্ধে কি কর্মসূচী নিবে তা এখনো জানা যায় নাই, তবে শিল্পী-রা নাকি ইতোমধ্যেই তুলি-মিছিল করছে তার বিরুদ্ধে। কাছে পাইলে বলে, রং-তুলির আর পেন্সিল স্কেচিং-এর খেলা দেখাইবো তারে...।


কাহাগো, সাবধান!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন