রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১০

আমার ছাতা দরকার বলেছেন রাইসু

মাঝে একটু ঝামেলায় ছিলাম, তাই সাক্ষাৎকার নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ফুরসত পাই নি, আজ পঞ্চক আন্দোলনের জনক জনপ্রিয় ব্লগারু আমাদের পাঞ্চাল রাইসু নীড়পাতার শীর্ষাসনে উবদা হয়ে ঝুলছেন, আমি হাতের শত কাজ ফেলে রেখে সাক্ষাৎকার নিতে ছুটলাম বনানী। রাইসু যথারীতি সেখানে নেই, তাকে খুঁজে খুঁজে পেলাম গুলশানের মরা লেকের পাশে বস্তায় ঢুকে ভ্যাবদা হয়ে বসে আছে। তার পাশে উবু হয়ে বসলাম।
বললাম প্রথমেই অভিনন্দন, অবশেষে স্বপ্ন হলো পূর্ন, আপনার অনুভুতি?
রাইসুর চাউনিতে আগুন কিন্তু মুখে স্মিত হাসি, বললো আমি বাক্যহারা, অনির্বচনীয় আবেগে আমার গলা বুজে আসছে, আমি কিভাবে ধন্যবাদ দিবো, কি ভাষায় ধন্যবাদ দিবো বুঝতে পারছি না।
আমি বললাম থাক আর কষ্ট করতে হবে না, এমনিতেই দেখি আনন্দে আউলা হয়ে বস্তাবন্দি।
কিন্তু আপনাকে একটা ছাতা কিনে দিতে হবে আমাকে, আমি অবাক তাকিয়ে থাকি বলে কি? এখন খটখটে সরমে ঢাকাবাসী খাবি খাচ্ছে কোথাও বৃষ্টির নামগন্ধ নেই, ছাতা দিয়ে কি হবে? পরে বুঝলাম ভাইসাহেবের মাথা আউলা হইছে শীর্ষাসনে বসার আনন্দে এটা ভুল ভেবেছি, এই কাঠফাটা গরমে এমনই মাথা আউলায় গেছে।
একটা ছাতাতো দেওয়া যাবেই, আমি আশ্বাস দেই, কিন্তু ছাতা দিয়ে কি হবে। উত্তরার বড় বড় ডাস্টবীন আছে , ওটার পাশে ছায়াও আছে, ওখানে আবাস নিলে ভালো হয়, এই গুলশানের আশে পাশে না থাকাটাই নিরাপদ, গ্রামীন ব্যাংক শুনছি সিটি ব্যাংকের সাথে ফকিরমোচন কর্মসূচি শুরু করছে, ওখানের লোকজন খবর পেলে ধরে নিয়ে কাজে লাগিয়ে দিবে, বড় বিপদে পড়বেন, কাজ না করে করে মাংনা কামাইয়ের অভ্যাসটা এই বয়েসে ছাড়তে হবে তাহলে।
বললো না একটা হাসের ডিসেন্ট্রি হইছে, মাথার উপর হাগছে কয়েকবার। দেখেন না কত বড় বড় চুল, একবার শ্যাম্পু দিলে শুকাতে সময় লাগে, শেষে ঠান্ডা লেগে সানি্নপাতিক হবে, নিউমেনিয়া হবে, আমার পঞ্চক আন্দোলন এতিম হয়ে যাবে। দয়া করে একটা ছাতা, আমি আর কিছুই চাই না। বললাম কানা রুশিদের কাছে ছাতা আছে, ওখান থেকে আনলে চলবে না।
আমার উপর হেভি বিলা হইলো, মেয়েদের ছাতা ব্যাবহার করে ও। মেয়দের ছাতা সস্তা,একটু বাতাসে ভেঙে যায়, দুর্বল ছাতা, এখন যখন তখন কালবৈশাখী হানা দিচ্ছে, জোরবাতাসে ছাতা উড়ে গেলে সেই হাসের বাচ্চাতও আবার......... উঁ উঁ উঁ উঁ উঁ। না না কাঁদে না কাঁদে না বললামতো যাওয়ার আগে ছাত া না পেলে মোটা প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে যাবো, শাজাহান সিরাজ মিয়াতো প্লাস্টিকবিহীন বাংলাদেশ আন্দোলন করছে, এখন মোটা প্লাস্টিকই ভরসা। দিবো ক্ষন,
কিন্তু আমার আরও একটা অনুরোধ ছিলো?
কি অনুরোধ বললাম আমি, নাহ মানে সাদিককে কি আমার পাশে মানায়, আপনিই বলেন, একটা বিবেচনা করে বলেন, সাদিক কে কি আমার পাশে মানায়। আমি কবিবর, কবরেজ মানুষ, আমার আশেপাশে মেয়ে না থাকলে চলে।
ঠিক আছে মেয়ে দেওয়া হবে, কাকে চাই বলেন আপনি?
বললো হিজাবওয়ালি কাউকে চাই না, হিজাব ছাড়া যে কাউকে পাশে আনেন, মেয়েদের চুল মেঘের মতো ভাসবে, এলোচুল দেখে ভিতরে কবিতার খই ফুরফুর করবে, কিন্তু হিজাবে কবিতা খুলে না, হিজাব ছাড়া যে কাউকে তুলেন পাশে।
আর সাদিক এই কয়দিনে আমার ধর্মনাশ করে ফেলবে। ও পাশে ঝুলে ঝুলে বুদ্ধের অহিংসার বানী ঝাড়লে আমি সহিংস হয়ে যেতে পারি।
আমি কতৃপক্ষকে মুঠোফোনে কান ধরি, কতৃপক্ষের ভাষ্য হলো, প্রথমে তারা কলু মোর্শেদের কথা ভেবেছিলো, ঝুলিয়েও ছইলো কিনতু এত তেল এত তেল খালি পিছলায় পড়ে যায়, এ জন্যই কলু মোর্শেদকে ঝুলানো যায় নি। সাদিক নির্বিবাদি মানুষ, ওকে তুলে দিয়েছি ।আর আমার ছোটো ভাই এখন তৈলাক্ত বাঁশ এবং সাদিক অংক কষছে, যদি একটি তৈলাক্ত বাঁশে সাদিককে তুলে দেওয়া হয়,সাদিক প্রথমন্দিনেপিছলায় পড়ে 5 ফুট, পরদিন হাঁচরেপাঁচরে উঠে 3ফুট।
যদি বাঁশের উচ্চতা 50 ফুট হয় তবে সাদিকের নেমে আসতে কয় দিন লাগবে?
ও অংকে কাঁচা তাই প্রাক্টিক্যালি দেখাচ্ছি কি হয়, কিন্তু সাদিক উপরে উঠটে চাচ্ছে না তাই ঠেলে রেখেছি জোর করে।এখন রাখি,
আমার আরও কিছু বলার ছিলো কিন্তু এগন ভাবে রেখে দিলো ফোন আর সাহস পাচ্ছি না, কানে সুর ভেসে আসলো, পরিচিত সুর, লালনের গান, আমি অপার হয়ে বসে আছি। নাহ সুরটা ওরকমই কিন্তু কথা মিলছে না, দেখি রাইসু গান ধরেছে।
আমি অপার হয়ে ঝুলে আছি সাথে ছাতা নাই
আমার সাথে ছাতা নাই।
কখন যেনো মাথার উপর হাঁসে হেগে দেয় আমার
হাঁসে হেগে দেয়................

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০


  • ৮ টি মন্তব্য
  • ৫২৫ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩০ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:০৩
অতিথি বলেছেন: রাসেল (...) এই সব দলবাজি ভালো না। আন্দোলনের ভয়ে সাক্ষাৎকার নেন। আর যারা সাধু-সন্ত, সুফি-দরবেশ, কোনো আন্দোলনের হুমকি দেয় না তাদের কোনো সাক্ষাৎকার নেন না। দলবাজি করে পাঁচ দেন, ছবি টাঙ্গান, আরো কত কি...। একজনরে ছাতা দিতে চান ঠিক আছে, আরেকজনরে টুপি তো দিবেন। এইখানে কি আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বানানোর লোকও পাবো না? রাসেল পাবলিক খাপপা হওয়ার আগে আরেকটা সাক্ষাৎকার নিয়া ফালান ইমিডিয়েট।
৩. ৩০ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩
শুভ বলেছেন: বদ্দা, আপব্জ্বন কই? বস ব্জ্বপাস্টটায় লিখছিলাম আপব্জ্বনর ব্জ্বচাব্জ্বখ কাব্জ্বলা পট্টি বাইন্ধা রাখব্জ্বত।
৪. ৩১ শে মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৫:০৩
অতিথি বলেছেন: কাহা, আমাগো আলহামদু পাঞ্চাল ভ্যাবদা রাইছুরে ছাতার বদলে একটা "পাতলা" দেওন যায়না? দেশীয় একটা ঐতিহ্য থাকলো। তার উপর হের গুরু হু. মু. এরশাদ ও তো পল্লীবন্ধু হিসেবে খ্যাত, আর পাতলা হইলো কৃষক তথা পল্লী-র প্রতীক। ভ্যাবদা রাইছুর নাম হইবো, "ভ্যাবদা পল্লী রাইছু" ... মন্দ না। কি কন?
৫. ৩১ শে মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৫:০৩

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন