সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১০

কবিতা

আধুনিক কবিতা লেখার জন্য শব্দ ভান্ডাড়ে 1000 শব্দ হলেই চলে। মানুষের যাবতীয় বোধ ও বোধাতীত সব কথাই এই 1000 শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব। নিদেন পক্ষে 300 বিশেষ্য, 500 বিশেষণ আর 100 ক্রিয়াপদ হলেই তো চলে যায়। বাকী 100 থাকলো সেই সব সর্বনাম আর অন্যান্য সব শব্দের জন্য।
অবশ্য পূরাকালে কবিগন অবোধ্য দুর্বোধ্য শব্দের সাথে রতিক্রিয়ায় বিশেষ কিছু উৎপাদন করতে পারেন নাই। সব্দভান্ডাড়ে অরূপ রতন কিছু যোগ হয় নাই, তবে অতিব্যাবহারে যা হয় আর কি সেই সমস্যা প্রবল হয়েছে।
গন্ডায় গন্ডায় কবি জন্মাচ্ছে, নানাবিধ রূপের বাহারে কবিতা বানচ্ছে, এবং এদের উত্তরাধুনিক অখাদ্যের জন্য শব্দ ভান্ডারে 300 শব্দ হলেই চলে। আমাদের গুরুতর কবিসাহিবার কবিতা পড়ে ভ্রম হয় আসলেই কি 300 শব্দের এমন বিশাল ভান্ডার লাগবে কবিতাদেবির উপাসনার জন্য।
ছন্দালংকার সাহেব আশ্বস দিয়েছেন, মাত্র 10টা শব্দেও কবিতার ভিত খুঁড়ে জলসিঞ্চন সম্ভব। ইনিয়ে বিনিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে 10টা শব্দ লাড়চাড়া দিলে বিন্যাস সমাবেশের সূত্রে অন্তত লাখখানেক লাইন লিখে ফেলা সম্ভব, তবে শব্দ হতে হবে সে রকম, 10টা বিচ্ছিন্ন শব্দকে সুতোয় গেঁথে ফেলতে পারলে এমন 1000 চতুর্দশপদি লিখে দেখিয়ে দিতুম দাদারা মেলা কেলো কড়ো না বলচি। তোমরা পারোও, অবলা নারীর কবিত্ব শরীরময়, তর দেহবল্লরি কেঁপে উঠলেই কাব্যদেব মদনাহত হয়ে যান।
মদনবিক্ষেপ জাগে কবিতার শরীরে তাই আমাদের পথিক বাবাজি পথভুল করে গোয়াল ঘরে গিয়ে হাম্বা হাম্বা করছেন।
অবশ্য হাম্বা হাম্বা করাটা দোষের নয়,কিন্তু গোয়ালের বাকিগরুগুলো ভয়ে সিঁটিয়ে আছে এটাই তাকে গোয়াল থেকে বের করে দেওয়ার আাসল কারন।
তন্মধ্যে লালী নামক এক যুবতী গরূরল্যাজ এমন ভাবে চেপে বসেছে হাজার মশা কামড়ালেও সে লয়াজ নাড়ছে না- ইহা দেখিয়াই সন্দেহ হয় পথিকের হাম্বা রবের ভেতরে গুরুতর কোনো গুঢ় সমাচার ছিলো যা আমরা মনুষ্যজাতিরা বুঝিতে পারি নাই। অবলা গাভী বুঝিয়া ভয়ে কেঁপে উঠেছে।
কবিতা বিষয়ে আমার কোনো রকম এলার্জি নাই। রাম শ্যাম যদু মধু সকলেই কবিতা লিখতে পারে, কাউকে বাধা দেওয়ার কিছু নাই। তবে অখাদ্য কবিতার ভীড়ে কিংবা অসহ্য প্রটিভার গর্ভ যন্ত্রনায় কাতর মানুষ জনকে দেখে মনে হয় আমি ভুল করে লেবার রুমে দাঁড়িয়ে আছে, চারপাশে অসংখ্য জন্ম রহস্য উন্মোচিত হইতেছে। মাঝে মাঝে জনগনের স্বার্থে জন্মশাসনের প্রয়োজন আছে।কবিতা মাছের পোনা নয় যে হাজারা অযুতে জন্মাতে হবে কবিতা হবে হাতীর মতো 27 মাসের গর্ভ যন্ত্রনার পর একটা বাহিরিবে দেখিয়া সবাই তাজ্জব লাগিয়া যাইবে।

প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০


  • ২৪ টি মন্তব্য
  • ৫৩৬ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:১২
২. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:১৪
অতিথি বলেছেন: হে হে আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে শব্দ বিন্যাস করে যান্ত্রিকভাবেও কবিতা বানানো সম্ভব। ভালোই বাঁশ দিয়েছেন।
৩. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:১৮
৪. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:২০
অতিথি বলেছেন: নারে ভাই এখনও লাইন আসে নাই, চুরি কইরা ব্লগাইতেছি, শালার কর্পোরেট সিস্টেমের মায়েরে বাপ। একটা তার লাগাইতে বাঞ্চোতদের লাগে 12 দিন।
৫. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:২৯
কনফুসিয়াস বলেছেন: ঠিক ঠিক ঠিক।
এ জন্যেইতো এই অধম KvK-Kwe বলেছেন,
" শব্দ যেন শস্য দানা,
বীজ বুনে আর সার পানি দিয়ে-
বছর বছর ফসল ফলাও।
কবিতা কি হে? কচুরিপানা?
অগা মগা সব ককিয়ে ঠকিয়ে-
রোজ রাতে শুধু কবিতা বিয়াও! '
৬. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:৩০
হযবরল বলেছেন: আপনি গালি দেন, গালি দিলে সব দেশেই কাম হয়। এই আমেরিকার অফিস গুলি আমাদের ঢা. বি. পোস্ট আফিসের চাইতে খারাপ। কাম চোর সব। দাঁত মুখ খিঁচাইয়া ঝাড়ি দেন দেখবেন সব ঠিক।
৯. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:৪৩
অতিথি বলেছেন: হ মিয়া কবিতা বিয়ানো জটিল কিছু না যদি কোনো কিছু ফাটতো লেখার পর তাইলে একটু রয়ে সয়ে ছাড়তো।
১০. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১২:০১
হযবরল বলেছেন: আপনি আবার আমার অ্যাবসারড কবিতার শখটা উসকে দিলেন।
১১. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১২:০৭
অতিথি বলেছেন: লিখে ফেলঅোা ভাইটু এবসার্ডিটির উপরে জিনিষ নাই।
১২. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১:০৭
অতিথি বলেছেন: রাসেল সম্পূর্ণ একমত, সেই পুরনো কথা সবাই অ-কবি, কেউ কেউ কবি. . . যে কারণে আরবপুত্র মুহম্মদকে শ্রদ্ধা করি, বহু কবিতা জোড়া দিয়ে তার সেই বিখ্যাত গ্রন্থের জন্য। যেখানে শব্দের হাহাকার নেই, আছে অন্তমিল আর অমিত্রাক্ষর, পড়তে দারুণ লাগে, অর্থগুলো বাদ দিলে ছন্দটুকুতো বেশ..তাই না?
ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।
১৩. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ২:২৮
অতিথি বলেছেন: কনফু ভাইটি নোটপ্যাডে লিখে সেইটারে ফোনেটিকে কনভার্ট করার নিয়ম কি ভাইটু-
মাসুদা ভাট্টি ধন্যবাদ- ধ্বনি মাধুর্য আর গভীরতা 2টাই আছে সেই কবিতায়, তবে যেকোনো মহাকাব্যের মতো সেখানেও মানবিক আবেগগুলোকে চিরকালীন করার একটা গোপন বাসনাও থাকে।
\তবে অন্য মহাকাব্যের তুলনায় একটু পার্ঠক্য আচে এই কাব্যে, কোনো একক নায়ক তেমন করে স্পষ্ট নয়।
১৪. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ১:৪০
অতিথি বলেছেন: আমি আর কবিতা লিখুম না। কারণ আমি জানি রাসেল (........) এইসব আমারেই কইছে। তবে নিজে যে কবিতার সফটওয়ার হইয়া গেছি - এইডা টের পাই। খালি একটা শব্দ আইয়া বইতে বাকী - তারপরে বেবাগ কাউয়া চিল্লাইয়া একটা কবিতা টানাহেচড়া কইরা ডাস্টবিন থেকে বাহির করবই। আর ঢাকার ডাস্টবিন তো বোঝেনই - 90 ভাগ মূত্রই থাকে বাইরে। আমারও ভাই তদ্রুপ আসল কথা আর ভাষা থাকে না কবিতায়। দোষ স্বীকার করলাম।

কিন্তু ছাড়ুম ক্যানে? নাকি ছাড়ি দিমু! অন্য কেউ কবিতা লেখা ছাড়ি দিতে চাইলে লগে আছি। একা একা ভরসা পাই না।
১৫. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:৩৫
ঝরা পাতা বলেছেন: কতো কবি চারিদিকে
দেখো হাজারে হাজার,
নিত্য দিন করিতেছে
কবিতার বলৎকার।
ভাব আছে বেশ তো
শব্দেরা পায় না ডানা,
দেখো তাই বসে বসে
কবির ছিনালিপনা।

গঠনমূলক সমালোচনাটা থেকে খুব ভালো দিকনির্দেশনা পাওয়া গেলো। ধন্যবাদ রাসেল ভাই।
১৬. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:৫৪
অতিথি বলেছেন: আমার অখাদ্য কবিতাগুলি নিয়া কিছু কছ নাই তো?

কিন্তু পারি না। ফটিক, সোনা ... অগো মতো বালছাল যা মনে আহে তাই লিখতে পারি না। কী করি? ডাইল ডুইল কিছু খামু নিকি?
১৭. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১২:৪৪
১৮. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ২:১৮
অতিথি বলেছেন: মুখা একটু পাঁক সরাইয়া নামতে হইবো। পইচ্যা গন্ধ হইয়া গেছে।
১৯. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৩১
২০. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:২৩
হিমু বলেছেন: আপনার এই লেখাটা ক্ষণে ক্ষণে অন্তরাত্মায় ঘা মারে।
২১. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:১১
অতিথি বলেছেন: মাত্র 2 টা মেইন শব্দ দিয়াও যে কবিতা হয়, এইটা চোরায় গোপালের প্রথম কবিতার পোস্টে দেখাইছে।

তারপরেও ব্রাত্যরাইসু কইবো কবিতা লিখা নাকি অনেক কঠিন কাজ। কি আড় করা! কলিকাল!
২২. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:১৪
২৩. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:১৬
অতিথি বলেছেন: প্যারোডি করা নাকি নার্সারি ক্লাসের ব্যাপার।
২৪. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:২৬
অতিথি বলেছেন: সেইটাই রে চোর.... আমার মত অনেকে আবার প্লেগ্রুপে শুরূ করে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন