রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১০

এলোমেলো

এক গর্ধব কোথা থেকে যেনো একটা সিংহের চামড়া চুরি করেছিলো, সেই চামড়া পরে জংগলে ঘুরতো আলাদা ভাব নিয়ে মাঝে মাঝে খাস ঢাকাইয়া ভাষায় গাধামি করতো। আর মনটা একটু উদাস থাকলে সিংহের হুংকার দেওয়ার চেষ্টা করতো। গাধার গলায় সুর নেই, তাই তার বিশ্রী স্বরের কাঁপনে জঙ্গলের পশুকূল বিরক্ত হলেও হজম করতো, হাজার হোক গাধার মতো কাজ করছে এটা নিয়ে কিছুতো বলার নেই।
এক পিঁপড়ার প্রেম হয়েছিলো হাতির সাথে, অনেক আশনাইয়ের পর একদিন তারা বিয়ে করলো, বাসর রাতে তাদের মিলন হচ্ছিল বেল গাছের নীচে।
হাতির মাথায় পড়লো বেল, হাতি কেঁপে উঠলো। পিঁপড়া পেছন থেকে বলে, ডার্লিং বেশী ব্যাথ্যা দিয়ে ফেললাম নাকি?
কিন্তু বেলটা পড়েছিলো বেমওকা জায়গায়। সে আঘাতে হাতি ধরাশায়ি, পিঁপড়া গর্ব নিয়ে নীচেনামলো। মেনে বললো দেখতে হবে না , এমন পৌরুষ কি অন্য কারো আছে??
কিন্তু এর পরে সে কাঁদতে বসলো, হাউমাউ করে কান্দে,
বনের সব পশুপাখি যারা গতরাতেই আমন্ত্রিত অথিতি হয়ে বিয়ের খানা খেয়ে গেছে তারা এসে পিঁপড়াকে সান্তনা দেয়, বউ কি আর সবার থাকে রে পাগলা, এক দিন না একদিন তো সবাইকে মরতেই হবে,
পিঁপরার কান্না বাড়ে, অবশেষে ফোঁপাতে ফোঁপাতে যা বললো তা এ রকম, কাঁদি আমি আমার দুঃখে, এড় রাতের আনন্দের পর আমাকে সারা জীবন কবর খুড়তে হবে,

এক বার এক গন্ধগোকুল গিয়ে ল্যাজ নাড়ালো খরগোশের ঘরে, গন্ধে অন্ধ হয়ে খরগোশ ছুটলো দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে, তার দৌড় দেখে দৌড়ালো হাতি, হাতির পায়ের নীচে চাপা পড়লো শেয়ালের ছানা, এ দুঃখে শেয়াল কামড়ে দিলো জলহস্তিকে, জলহস্তির হলো জলাতঙ্ক, এখন সে থাকে গাছের ডালে, কিন্তু গাছের ডালে থাকা বাঁদরের পছন্দ হলো না তা, তার বিচার দিবে ঠিক করলো রাজার কাছে।

কিন্তু রাজ্যে কেউই বাঁদর দেখতে পারতো না, সবাই লাঠি হাতে তাড়া করতো, বাঁদরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এমন হয়েছিলো অবশ্য। এমন সময় বাঁদররা তাদের মুখপত্র নিয়োগ করলো গর্ধবকে।
গর্ধব একটা মানপত্র লিখে হাজির হলো রাজার দরবারে। হে মহান রাজন, আপনার রাজ্যে বাঁদরের অপমান হয়, আমি সিংহের অবর্তমানে বনের পশুসম্মান পুনরুদ্ধারের মহান দায়িত্ব নিয়েছি, আমার বাঁদর ভাইদের দুঃখে আমার চোখ ফেটে কান্না আসে, হুজুর আপনি বিহিত করেন , এভাবে বাঁদরের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কি কারও উচিত? দেখেন বাঁদর কতো সভ্য দলগত রাজনীতি করে, কিন্তু বাঁদরের বাচ্চার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকান, তার দু চোখের পানিতেও কি আপনার পাষান হৃদয় গলে না? আমি আপনার কাছে ন্যায় বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি, আমি আপনাকেই রাজন মানি, আপনি এর বিহিত করেন হে রাজন।

সভাসদ হেসে উলটে পরে, গর্ধবের মেজাজ যায় খারাপ হয়ে, সে টাইম আউট নিয়ে টয়লেটে যায়, সেখানে গিয়ে সিংহের পোশাক পড়ে আবার সংসদে ফিড়ে আসে, এসে গাধার কণ্ঠে সিংহের ডাক ছাড়ে, খাস ঢাকাইয়া ভাষার হুংকার শুনে সভায় হাস্যরোল বয়, সবাই গড়াতে গড়াতে হাসতে হাসতে মরে যাওয়া অবস্থায়, এক জন বলেন, বাছা, তোমার পোশাকটা ভালোই , পোশাকের সাথে কেশরটাও মানিয়েছে কিন্তু তোমার গর্জনে তো আর গভভিনির গভভপাত হবে না, তুমি গাধা, তুমি হাজর গলা সাধলেও সেটা গাধার গলাই থাকবে, কেনো বৃথা সিংহ সাজতে চাও, তার চেয়ে গাধা হয়ে স্বরূপে যদি কথা বলতে ভালো লাগতো আমাদের।


বাঁদরের বাঁদরামি কমে নি, তবে বনে শৃংখলা ফিরেছে , মাঝখানে গাধা খুড়ের তাল ঠুকতে শিখেছে, সে এখন বনের সংগীত উপদেষ্টা, অবশ্য দুর্জনেরা বলে, ইজ্জত বেছতে পারলে গাধার মতো অনেকেই প্রধান মন্ত্রি হয়ে যেতো, গাধা বলেই এখনও উপদেষ্টা হয়ে আছে।

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০


২. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
হিমু বলেছেন: আমার কাছে আসুন মহুয়া। এই দুষ্টু রাসেলদের খপপরে পড়বেন না।
৩. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
অতিথি বলেছেন: কাহাগো এইডা কি লিখছেন? এই মাষ্টার পিস তো আমি সাত দিন, সাত রাইত, সাত নদীর পাড়ে বইসা সাত চিন্তা করলেও বাইর হইবো না....। ব্রাভো বাডি....
৪. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
অতিথি বলেছেন: রাসেল, টুপি পরা থাকলে খুলে বাও করতাম, মানে হ্যাটস অফ...দারুণ....
কেমনে লেখেন বাই এইসব? নিজেরে যে বড় তুচ্ছ লাগে, লেখতে পারি না বইলা....কয়দিন হইয়া গেলো একটা পোস্টও করলাম না...ওদিকে লক্ষী আমারে প্রতিরাইতে স্বপ্ন দেহায়, আমারে দেইখা লইবো, তার পাঁচালি শ্যাষ করি নাই বইল্যা, কই যাই জামাই-দা?
৬. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:০৩
অতিথি বলেছেন: ঢাকাইয়া কথার মইধ্যে একটা সেয়ানা সেয়ানা ব্যাপার আছে এই টা খেয়াল করছো?
৭. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:০৩
৮. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:০৩
৯. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:০৩
অতিথি বলেছেন: ছুমন বাই, লন হালায়, রাছেল হালারে ডইল্যা লই কতখোন। আমি কইলাম, হালায় অনলাইনে আইয়ো, বাতচিৎ করবার আছে, হালায় কোন রাওভি করলোনা! হালায় কি মুরি খাইবার লাগছে নি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন