সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১০

নাম বিভ্রাট

নাম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় সব সময়ই, মানুষ যত নামের পরিমান তার তুলনায় কম তাই অনেকেরই নাম মিলে যায়, আমি যখন প্রথম স্কুলে ভর্তি হলাম তখনও পৃথিবী দেখি নি, তাই মনে হতো সবার নিজস্ব একটা নাম আছে, পরিবারের ভিতরে সবার নাম আলদা ছিলো তাই হয়তো নাম বিষয়টা বিশিষ্ট একটা বিষয় এমন মনে হতো, প্রথম দিন ক্লাশে যাওয়ার পর সূচনায় কান মলা আর ডাস্টারের বাড়ি খেয়ে যখন একটু ধাতস্থ হলাম পাশের ছেলের সাথে পরিচয় হলো- কি আশ্চর্য বিষয় তার নামও রাসেল। বাবা মায়ের উপর একটা অভিমান তৈরি হলো এমন একটা বিষয় নিয়ে ছলচাতুরি, নামটা একটু আলাদা হলে কোনো ক্ষতি ছিলো না। অবশ্য এক নাম হওয়ার অসুবিধা একটাই, নামটা শুনলেই যেহেতু সাড়া দিতে হয় তাই রোল নং ছাড়া ডাকলে 2জনই চিকন গলায় জি্ব আপা বলতাম- আমি সস্তা এক স্কুলে পড়ছি, তাই সেখানে শিক্ষকদের স্যার আর শিক্ষিকাদের আপা ডাকার রেওয়াজ ছিলো আর প্রথম এবং দ্্ব ীতিয় শ্রেনীর ক্লাশ নিতো শিক্ষিকারা। সুতরাং সমাধান হলো েরোল নং নিয়ে ডাকা, আমার রোল ছিলো 18 সুতরাং নামের বদলে নাম্বার দিয়ে পরিচিত হলাম। এই বিভ্রাট সারা জীবন পিছু ধাওয়া করেছে, নতুন স্কুলে গেলাম 7ম শ্রেনীতে ,বিশাল আয়োজন, এক ক্লাশে 150 জন ছাত্র এবং সেখানে আরও 2 জন রাসেল পেলাম, ততদিনে বিষয়টা গা সওয়া হয়ে গেছে, তবে আমার শ্রবন যন্ত্রে সমস্যা আছে, এল দিয়ে শেষ হওয়া যেকোনো কিছুই নিজের নাম মনে করে সাড়া দেই। এমন হলে আরও কিছু উপাধি জুটে যায়, আমার শাররিক কাঠামো দুর্বল তাই হ্যাংলা রাসেল হয়ে গেলাম, বিষয়টা দুঃখ জনক কারন যখন সেই স্কুল ছেড়ে আসি তখন আমার নামের মূল অংশ উধাও, বন্ধুরা চিনে হ্যাংলা বলে। অপমানজনক বিষয়। 9ম শ্রেনীতে উঠে আবারও স্কুল বদল করলাম, এবারও আরও একটা রাসেলকে পাওয়া গেলো ক্লাশে, অবশ্য আরও জনা তিনেক ছিলো যাদের ডাক নাম রাসেল ছিলো তবে ওদের মূল নামের প্রথম অংশ দিয়েই পরিচিত ছিলো, তবে এখানেও আমার অনন্য শাররিক কাঠামো আমাকে সাহায্য করলো, হলাম চিকনা রাসেল। কলেজে হলাম হ্যালফ্যাল- সারা জীবন রাসেল নামের বোঝা বহন করতেছি, বিভিন্ন মানুষ কেনো যে এই একটা নামের পিছনে ধাওয়া করে বুঝি নি এখনও। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই বিষয়টাকে যন্ত্রনার পর্যায়ে নিয়ে গেলো এক বন্ধু, সে আমাকে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়,হাত মিলিয়ে শুরুতেই নাম বলার নিয়ম, তাই সে রাসেল বলা মাত্র আমি দৃষ্টি তীক্ষ করে জানতে চাই আমাকে সে কিভাবে চিনে- সেও বিষয়টাতে ভ্যাবাচ্যাকা খায় অবশেষে বলে না আমার নাম- আমিও হাসি মুখে বলি ও আচ্ছা আমার নামও, এই ক্ষনিক বিভ্রান্তি সে উপভোগ করতো মনে মনে- তবে সেই সব রাসেলদের সাথে পরিচয় এখনও আছে, অনেক রাসেলের সাথে আড্ডা দিয়ে এখন বোধ হয় আমার নাম হওয়া উচিত ঝানু রাসেল, তবে পরিচিত হয়ে মজা পেয়েছি ক্রাইমার রাসেলের সাথে, সে বেচারা দেশের বিভিন্ন এলাকার 2 নাম্বারি ঘটনা জানতো, অবশেষে একদিন ছাদে কোনো এক কাজের মেয়কে জড়িয়ে ধরার পর সেই যে ফ্ল্যাট ছাড়া হলো এর পর থেকে তার কোনো খবর পাই না। আমিও অবশ্য বেশ কয়েকবার ভুক্তভোগী হওয়ার পরে বিষয়টার মজার দিকটা উপলব্ধি করলাম, তাই সেই বন্ধুর নামের সাথে মিল আছে এমন সব বন্ধুকে খুঁজে তার সাথে পরিচয় করে দেই, এভাবে বোধ হয় আমাদের পরিচিত মহলে আমার 12 জন রাসেল বন্ধু আছে এবং 16 জন সোহেল বন্ধু আছে, এর পরের কমন নাম হচ্ছে সুমন, 11 জন সুমনের সাথে আমার বন্ধুত্ব 9 জন সুজন আছে- একেবারে ভিন্ননামের বন্ধু একজনাই শমিক, এই নামের 2য় কোনো বন্ধু পাই নাই, ঘরে ঘরে বাবু, সুমন, সুজন , রাসেল,সোহেল,শফিক,এইগুলো থাকে নাম রাখার সময় কেনো যে বাবা মা এই বিষয়টা ভাবে না। আমার ধারনা বাংলাদেশে যতগুলো ডাকনাম প্রচলিত তার প্রায় সবগুলো নামের বন্ধুই আমার আছে, তবে নতুন যুগের আরবি নামের বই থেকে টুকলি করা নামগুলো বাদ দিয়ে- অপরিচিত নামের ভেতরে বোধ হয় মিছিল, কথা, ভাষা এই 3 নামের বন্ধু পাওয়া গেছে।

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ১:১০


  • ১০ টি মন্তব্য
  • ৩২৫ বার পঠিত,
Send to your 
friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:০৪
আলী বলেছেন: এই ভাই দৃষ্টি আকর্ষন পোস্টটা দেখার পরেও কেমনে এটা দিলেন ????
২. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:১৮
৩. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:২১
অতিথি বলেছেন: অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে ইন্টার নেটে, তাদের নাম জানি না, তাদের আইডি দিয়ে তাদের ডাকি, এটাও এক ধরনের টোকেন লাগানো।
৪. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:০৬
অতিথি বলেছেন: ঈমানে কই, পুরোটা পড়েছি, দাড়িকমাসহ। মজাদার গল্প। মিজান নামটা মনে হয় বাদ পড়েছে। আমার অবশ্য মজা। চোর নামটা প্রায় ইউনিক। সব হালায় কামটা করবো,; কিন্তু চোর নামে পরিচিত হতে কেউ রাজি না।
৫. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:১৯
৬. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৯:৩১
কনফুসিয়াস বলেছেন: হুম। আমি অবশ্য এত ঝামেলায় পড়ি নাই। কিন্তু কলেজে গিয়ে দেখি আমার নামে প্রত্যেক ব্যাচে একটা করে হাজির।
পরে মজা হইছিলো- আমরা এক রুমে দুইজন পড়ে গেলাম এক নামে। অবশ্য আমাদের সবারই একটা করে ইউনিক নাম্বার ছিলো।
আমরা থাকতাম দোতলায়। বিরক্ত লাগতো তিনতলা বা একতলা থেকে আমাদের বন্ধুরা ডাকতো যখন। প্রায় প্রতিবারেই দেখা যেত ভুল জন বের হইছে! :-)
৭. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ১০:১৩
অতিথি বলেছেন: হাছাই কইছেন। দশটা পোলা একলগে হইলে দুইটার নাম সুমন হবেই। আমাদের ক্লাসে দুইটা সুমন ছিল। আরেকটারে ডাকত নানা সুমন। তাই আমি রেহাই পাইছিলাম।
৮. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:২৩
হযবরল বলেছেন: বুয়েটে সিভিলে আমাদের সিনিয়র ব্যাচে না ম ছিল এইরকম গোলড সুমন (সোনার চেইন পরে), পিচ্চি সুমন , বাইট্টা সুমন...।

ফর ইয়োর কনসারন আমার রুমেমটের নাম রাসেল। আরেকটা খুব কমন নাম হইতাছে জাহিদ।
৯. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:২৯
রাগ ইমন বলেছেন: আমার ক্লাসে কমন নাম ছিল , তানভীর ।
একই ক্লাসে 4 টা ছিল.......তার মাঝে একটা মেয়ে........টিচার "বদমাইশ তানভীররে ডাক দাও তো".....বললে বড় সমস্যায় পড়ে যেতাম।

সবকটাই চরম দুষ্টু ছিলো!!!!!!
১০. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৩১
অতিথি বলেছেন: আমার বন্ধুর তালিকায় আছে পোড়া সুমন, ভাংগা সুমন, হাগু সুমন, নুনু সুমন, আর এখানে বদ্দা সুমন !

তবে এখন পর্যন্ত কৌশিক নামে কারোসাথে আমার সাক্ষাত হয় নি। তবে নেটে কৌশিক নামের দুজনের সাথে কথা হয় মাঝেমাঝে। বিখ্যাতদের মধ্যে মাশরাফী আর ছোট্টবেলা শুনতাম আজকের ঢাকার কৌশিক আহমেদ। এখন ইন্ডিয়াতে সতীশ কৌশিক, কলকাতার কৌশিক নামে কে যেন একজনের নাম শুনি। কিছুদিন আগে রানী কুঠির বাকী ইতিহাসে ফেরদৌসের এসিসটেন্টের নাম দেখলাম কৌশিক। মেজাজ হট হয়ে গেছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন